শুক্র. নভে ২২, ২০১৯

এবার মিশন ভারতকে হারানোর লড়াই।

১ min read

স্পোর্টস রিপোর্টার:: ওভাল, কার্ডিফ, ব্রিস্টল, টনটন, নটিংহ্যাম উড়ে বেড়িয়েছে বাংলাদেশের  স্বপ্নের ঘুড়ি। কখনো হাওয়ায় ভেসেছে, কখনো মাটিতে। খেয়েছে লুটোপুটি। আশা-নিরাশার দোলাচলে টাইগারদের স্বপ্নের টাইটানিক নোঙর ফেলে সাউদাম্পটনের শত বছরের পুরনো সেই বন্দরে। সেই ঘাট থেকেই একদিন টাইটানিক জাহাজ যাত্রা করেছিল। সেই শহরের রোজ বোল স্টেডিয়াম থেকেই ফের ভেসেছে বাংলাদেশের ‘স্বপ্নের টাইটানিক।’ লক্ষ্য সেমিফাইনাল। মাঝে অবশ্য বাধা টপকাতে হবে ভারত ও পাকিস্তানের। তাই আছে ভয়, আছে শঙ্কা! যুদ্ধে জিততে হবে এই দুই দলের বিপক্ষেই।

সোমবার আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে এখনো আশা বাঁচিয়ে রেখেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৭ পয়েন্ট নিয়ে ফের উঠে এসেছে তালিকার ৫ম স্থানে। তবে শেষ চারের লড়াইয়ে এখনো বেশ এগিয়ে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ড। পেছন থেকে চোখ রাঙাচ্ছে শ্রীলঙ্কাও। অবশ্য শেষ দুই ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে তা কিন্তু নয়। উপরে থাকা এই চার দলের জয়-পরাজয়ের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। যদি হিসাবের ভাগ্য দেবী চোখ তুলে তাকায় তবেই মিলবে সেমিফাইনালের টিকিট।

বাংলাদেশ দলকে স্বপ্নের কাছে নিয়ে যাওয়ার বিশ্বকাপ নায়ক সাকিব আল হাসান নিজেই বলেছেন- এখন অনেক কঠিন হবে সেমিফাইনাল। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে তিন খেলায় হারতে হবে। আমাদের বাকি দুটো জিততে হবে। এটা কঠিন। গাণিতিকভাবেও কঠিন। তবে ক্রিকেটে যেকোনো কিছুই হতে পারে। আমি আগেও বললাম কঠিন হলেও পরের দুটো খেলা জেতা সম্ভব। অন্যদের খেলা কি হচ্ছে দেখতে হবে। কিন্তু তার আগে তো নিজেদের কাজটা করা জরুরি।’ সাকিব বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে পরের ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওরা চ্যাম্পিয়ন হতেই এসেছে। ওদের হারাতে আমাদের অনেক ভালো খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস, আমাদের সেই সামর্থ্য আছে।’

সত্যি, অঙ্কের হিসেবে সেমিফাইনালের ভাবনাটা ভীষণ কঠিন। বাংলাদেশ খেলেছে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ। কিন্তু ৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা ইংল্যান্ড খেলেছে ৬টি। যদি ইংলিশরা শেষ তিন ম্যাচে হেরে যায় তাহলে বাংলাদেশ দলকে মাত্র এক ম্যাচে জিতলেই হবে। ইংল্যান্ডের শেষ তিন ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বাংলাদেশ শেষ দুই ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ১১। তখন বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা টিকে থাকবে। আবার ধরে নেয়া যাক, বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে হারলো, কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলো তখন বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট দাঁড়াবে ৯। কিন্তু ইতিমধ্যে বাংলাদেশের উপরে থাকা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড তাদের বাকি ম্যাচগুলো থেকে ২ পয়েন্ট করে পেলেও তাদের পয়েন্ট টেবিলে সেরা চার থেকে অবস্থান কোনোভাবেই নামবে না। সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশকে শুধু জিতলেই চলবে না, উপরের দিকে থাকা দলগুলোর হারের প্রার্থনাও করতে হবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের।

বর্তমান অবস্থায় সেমিফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের। অন্যদিকে, টুর্নামেন্ট থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের বিদায় নিশ্চিত। তবে পয়েন্ট টেবিলের হিসাব বেশ কিছুটা জটিল হয়ে গেছে ইংল্যান্ডকে শ্রীলঙ্কা হারিয়ে দেয়ায়। ফলে লঙ্কানরা ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে রয়েছে। তারা যদি পরের দুই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ১০। সেক্ষেত্রে লঙ্কানদের ছোঁয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কা এক ম্যাচ জিতলে এবং বাকি দুই ম্যাচ হারলেই কেবল তাদের পেছনে ফেলার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে। তবে শ্রীলঙ্কার পরের তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত। এখানে দুটিতে জয় পেলেই তারা কিন্তু চমকে দিতে পারে টাইগারদের। তবে বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বেশি প্রার্থনা করতে হবে ইংল্যান্ডের হারের জন্য। ইংল্যান্ড শক্তিশালী হলেও ঘরের মাঠে ইংলিশরা দারুণ ভয়ঙ্কর। পাকিস্তানের বিপক্ষে হার ও সর্বশেষ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণের পর অবশ্য পারফরম্যান্স বেশ ভাবিয়ে তুলছে। যদি এ তিনটি ম্যাচের সব কয়টি ইংল্যান্ড হেরে যায়, তবে সেক্ষেত্রে তাদের পয়েন্ট থাকবে ৮। আগামী ২রা জুলাই বার্মিংহামে ভারত ও ৫ই জুলাই লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এ ছাড়াও ৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে পাকিস্তান। এশিয়ার এই আনপ্রেডিক্ট্যাবল দল যেকোনো সময় ছক উল্টে দিয়ে চলে আসতে পারে উপরের দিকে। পাকিস্তানের এখনো ৩টি ম্যাচ বাকি। তাদের বাকি তিনটি নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে। তাই এই দুই দলকে মরণ কামড় দিতে পাকিস্তান থাকবে মরিয়া।

এবারের বিশ্বকাপটি রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে হচ্ছে। তাই প্রতিটি দলকে অন্য সকল দলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সে হিসাবে নয়টি ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা চারটি দল সেমিফাইনালে চলে যাবে। পয়েন্ট সমান থাকা সাপেক্ষে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকা দলটি সেমিফাইনালে যাবে।

টাইগারদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের টাইটানিক ভাসবে না ডুববে সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৫ই জুলাই পর্যন্ত। এরই মধ্যে টাইগারদের দেয়া হয়েছে পাঁচদিনের ছুটি। বিশ্রাম নিয়ে ৩০শে জুন অনুশীলনে ফিরবে টাইগাররা। সেখান থেকেই শুরু ভারতকে হারানোর লড়াই।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.