শুক্র. নভে ২২, ২০১৯

স্মরণীয় ও বরণীয় মাহবুব আলী খান

১ min read

নতুন আলো প্রতিনিধি:: দেশপ্রেম, অসীম সাহসিকতা আর মানবিকতার এক অসাধারণ সম্মিলনে নিজেকে উদ্ভাসিত করেছিলেন রিয়ার এডমিরাল মাহাবুব আলী খান । পৃথিবীতে অনেক মহান ব্যক্তি স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন তাঁদের কাজের মাধ্যমে । তেমনি সাহসিকতা, নির্ভীক দেশপ্রেম আর জনকল্যাণ মূলক কাজের জন্যই বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় আজো স্থান করে আছেন প্রয়াত রিয়ার এডমিরাল মাহাবুব আলী খান ।

১৯৩৪ সালের ৩ নভেম্বর সিলেটের বিরাহিমপুরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম হয় এক নক্ষত্রের । আহমেদ আলী খান ও জুবাইদা খানমের কোল আলোকিত করা মাহবুব আলী খান আমৃত্যু তার এই আলো ছড়িয়ে গেছেন । তাঁর শৈশবের অনেকটা সময় কাটে সিলেট এবং অবিভক্ত ভারতের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার পিতার কর্মস্থল কোলকাতায় । সেখানেই শুরু হয় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন । পরবর্তীতে তিনি চলে আসেন ঢাকায় । ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন । সারাজীবনে শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি কখনো কোন পরিক্ষায় দ্বিতীয় হননি । ১৯৫২ সালে ক্যাডেট হিসাবে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন । পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান । যুক্তরাজ্যের দরমাউথ রয়্যাল নেভাল কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন করেন । ১৯৬৩ সালে মাহবুব আলী খানকে ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করেন ।

১৯৭১ সাল । মাহবুব আলী খান তখন সপরিবারে কর্মস্থল করাচীতে । পাকিস্তানিরা তখন বাঙালি অফিসারদেরকে অবিশ্বাস ও সন্দেহ করতে থাকে । মাহবুব আলী খান যখন দেশ মাতৃকার টানে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই তাঁকে সপরিবারে নজরবন্দী করা হয় ক্যান্টনমেন্টে । কিন্তু তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য । সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন । “ রাতের পর নতুন ভোর আসবেই । আশা এবং ধৈর্যই মানুষ কে বাচিঁয়ে রাখে “ । একদিন আসে পাকিস্তানী বাহিনীর আগলমুক্ত হবার সেই মহেন্দ্রক্ষণ । সাজানো সংসারের সব কিছু ফেলে এক কাপড়ে চলে আসার সময় স্ত্রী আফসোস করলে তিনি প্রিয়তমা স্ত্রী এবং কন্যাদেরকে বলেন-‘ আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’। এরপর প্রথম সুযোগ পেয়েই দেশের উদ্দেশে বেড়িয়ে পরেন । সাথে নারী ও শিশুদের নিয়ে কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো খচ্চরের পিঠে চড়ে পৌঁছান আফগানিস্তান । সেখান থেকে ভারত হয়ে অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে ফিরে আসেন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ।

দেশে ফিরেই বিধ্বস্ত দেশকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার কাজে ঝাঁপিয়ে পরেন । প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে চট্টগ্রামের মার্কেন্তাইল একাডেমীতে কমান্দান্ট হিসাবে যোগ দেন মাহবুব আলী খান । ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশ নেভির অ্যাসিস্ট্যান্ট চীফ অফ নেভাল স্টাফে উন্নীত হন । তিনি হন বাংলাদেশ নেভাল শিপ ‘ওমর ফারুকের’ ক্যাপ্টেন । তাঁর নেতৃতে বি এন এস ‘ওমর ফারুক’ আলজেরিয়া , যুগোস্লাভিয়া , মিশর , শ্রীলংকা , সৌদিআরব সহ পৃথিবীর বিভিন্ন নৌবন্দরে ভ্রমন করে এবং বাংলাদেশের নৌশক্তিকে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেন । ১৭৭৯ সালে তিনি চীফ অফ নেভাল স্টাফ হন । ১৯৮০ সালে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদমর্যাদা লাভ করেন মাহবুব আলী খান ।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.