সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

অবৈধভাবে পাথর তোলায় প্রশাসনের যোগসাজশ

১ min read

সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে বেলার অভিযোগ


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে বোমা মেশিনের গর্তে বালুচাপা পড়ে গত বৃহস্পতিবার দুজন শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) কর্মকর্তারা। গতকাল রোববার নগরের জেলরোড এলাকার একটি রেস্তোরাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

বেলার কর্মকর্তারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততার কারণে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীরা সাহস পেয়ে ক্রমেই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছেন এবং পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই সেসব পাথর ভাঙার কাজ করাচ্ছেন।
তবে বেলার অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে গোয়াইনঘাটের ইউএনও মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘কোনো ধরনের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করতে দেওয়া হয় না। কেবল পানি অপসারণের জন্য কিছু শ্যালো মেশিন চালু থাকে। আদালতের নির্দেশ স্থানীয় প্রশাসন যথাযথভাবে পালন করছে।’
গতকাল দুপুর ১২টায় ‘জাফলং সংরক্ষণ, প্রয়োজন আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলা সিলেট অঞ্চলের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আখতার। এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উন্নয়ন সংগঠক যেহীন আহমদ, বেলাল আহমদ, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, বেলা ঢাকার মনিটরিং কর্মকর্তা এ এম এম মামুন ও সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবীর। মুক্ত আলোচনায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জাফলংয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন।
মূল প্রবন্ধে শাহ শাহেদা আখতার বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এখনো অবৈধ বোমা মেশিনের সাহায্যে অবাধে পাথর উত্তোলন চলছে। এ কাজে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তাও সহযোগিতা করছেন। অথচ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, কোনো অবস্থাতেই বোমা মেশিন চালানো যাবে না। কিন্তু এ নিষেধ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে নদী খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করার ফলে পুরো জাফলং এলাকা যেন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় রূপ পেয়েছে।’
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটিও বোমা মেশিন জাফলংয়ে চলতে দেওয়া হচ্ছে না। বেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন তিনি।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ও ১৪ মার্চ দুই দফায় জাফলং পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে লিখিত বক্তৃতায় শাহেদা আখতার আরও বলেন, আদালত কর্তৃক ঘোষিত ডাউকি নদীর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার সংগ্রামপুঞ্জি, জাফলং চা-বাগান, কান্দুবস্তি, নয়াবস্তি, মন্দিরজুমসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন চলছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত পাথর উত্তোলনের সময় জাফলংয়ে পাথরচাপা পড়ে সাতজন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন আরও চারজন। এ রকম ঘটনা সত্ত্বেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের একধরনের নির্লিপ্ততা রয়েছে।
লিখিত বক্তৃতায় বেলার পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের প্রতি ছয়টি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। এগুলো হচ্ছে পাথর ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নমনীয় ও সমর্থন প্রত্যাহার, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা, প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবিকে কার্যকর ভূমিকা পালনে বাধ্য করা, অবিলম্বে সব বোমা মেশিন অপসারণ ও ধ্বংস, দোষী পাথর ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, দ্রুত ক্রাশিং জোন ঘোষণা এবং অবৈধভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিন (পাথর ভাঙার কল) উচ্ছেদ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.