বৃহঃ. সেপ্টে ২৪, ২০২০

স্বাধীনতা রক্ষা ও গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন – তারেক রহমান

১ min read

নতুন আলো প্রতিনিধি:: ১৯ জানুয়ারী (লন্ডন) : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীন দেশের নাগরিকরা নিজ দেশেই এখন যেন পরাধীন। শুধু পরাধীনই নয়, আরো উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এখন ধীরে ধীরে দেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতাও হুমকির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে। তাই এবারের আন্দোলন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলনের শ্লোগান, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ । রোববার
(১৯ জানুয়ারী) স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালিক।
বিএনপিসহ বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে এই আন্দোলনর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই আন্দোলন শুধুমাত্র বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন, জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।

এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, প্রায় প্রতিদিন সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে, নানা অজুহাতে ভারত থেকে পুশ ব্যাক চলছে, বাংলাদেশের প্রতিবাদ করার সাহস নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নামোল্লেখ করে ভারত বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করার ফলে বাংলাদেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সুতরাং এটি ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয় ভেবে চুপ করে থাকার সুযোগ নেই তারপর এই সত্য কথাটি বাংলাদেশ সাহস করে বলতে পারছেনা। বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি করতে ব্যর্থ হচ্ছে অথচ বছরের পর বছর ধরে ফেনী নদীর পানি নিচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের নিজেদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার সাহস নেই। বিমানবন্দর তৈরির অজুহাতে বাংলাদেশের জমি দখল করতে চায় ভারত অথচ বাংলাদেশের কোনো প্রতিবাদ নেই.

তারেক রহমান আরো বলেন, পররাষ্ট্রনীতি হওয়া উচিৎ পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে অথচ বাংলাদেশ নির্লজ্জভাবে চালু করেছে স্বামী-স্ত্রীর কূটনীতি। বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নির্যাতিত হচ্ছে, লাঞ্চিত হচ্ছে, সহায় সম্বলহীন অবস্থায় বিদেশ থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে, অথচ কিছুই করতে পারছেনা সরকার।বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বলেন, ভারত নাকি বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে, পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই একটি ‘বিশেষ পাশ ইস্যুর মাধ্যমে ৪৮ অথবা ৭২ ঘন্টার জন্য ভারতীয় নাগরিকদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার জন্য। তারেক রহমান বলেন, এ ধরণের পরিকল্পনা হবে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লক্ষ লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এরইমধ্যে দুইবছর অতিবাহিত হওয়ার পরও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার।

তারেক রহমান বলেন, এখনই বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে না দাঁড়ায় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে দেশ তাই বাংলাদেশ রক্ষায় আন্দোলন ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।

প্রায় ৩৫ মিনিটের বক্তৃতায় তারেক রহমান, ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে অবৈধ সরকার গঠন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমি ফোরামের রিপোর্টে বাংলাদেশের অর্থ-সামাজিক প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের নাজুক অবস্থান, দুর্নীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের ঘড়ি কেলেঙ্কারি, দুদকের দুর্নীতি, ইভিএম কেনার নামে নির্বাচন কমিশনের শতশত কোটি টাকা লুটপাট, আদালতে বিচারকদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সরকারের প্রতিহিংশামূলক আচরণসহ দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশের জন্ম ও বিকাশে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ভূমিকা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় ৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই জিয়াউর রহমান ছিলেন সফল ও সার্থক।
তাই, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকবেন জনগণের হৃদয়ে। মানুষের ভালোবাসায়।

তারেক রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের জন্য জনগণের ভালোবাসা আদায়ে আদালতের আশ্রয় নিতে হয়না, কাউকে কারাদণ্ড দিতে হয়না, মানুষকে র্যাব-পুলিশের ভয় দেখাতে হয়না। কারণ, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস ছিল জনগণ। “জনগন যদি রাজনৈতিক দল হয়, তা’হলে আমি সেই দলে আছি; .জিয়াউর রহমানের এই উক্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের সেই রাজনৈতিক দলই হচ্ছে বিএনপি। তাই বছরের পর বছর ধরে প্রতিহিংসার রাজনীতি কিংবা মিথ্যাচার করেও জিয়াউর রহমান কিংবা তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন করা যায়নি। বরং জনগণ ভোটাধিকার পেলে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি যায়।
প্রতিটি শাসনামলেই আওয়ামী লীগের ভোট চুরি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার দেড় দুই বছরের মাথায় ৭৩ সালের নির্বাচনেও হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় ব্যালট বাক্স এনে তাদের দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। রেডিও টিভিতে ঘোষণা দিয়েও প্রার্থীর নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিয়েছিলো আওয়ামী লীগ। কি কারণে স্বাধীনতার দেড় বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ভোট চুরির আশ্রয় নিতে হয়েছে, এটি সবারই জিজ্ঞাসা।

তারেক রহমান আরও বলেন, ৯৬, ২০০৮, ২০১৪ কিংবা ২০১৮ প্রতিটি নির্বাচনেই সেই ৭৩ সালের মতোই আওয়ামী লীগকে ভোট ডাকাতির আশ্রয় নিতে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে আওয়ামী লীগের ভোটে চুরির সহযোগী উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একদিকে রাতের অন্ধকারে ভোট ডাকাতি অন্যদিকে সারাবিশ্বে বাতিল হয়ে যাওয়া ভোট চুরির ডিজিটাল যন্ত্র ইভিএম কেনার নাম করে নির্বাচন কমিশনে শত শত কোটি টাকা লুটপাট। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন জনগণের কাছে এখন একটি হাসিতামাশার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে বেপরোয়া দুর্নীতি লুটপাট, অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, খালেদা জিয়া দেশে গণতন্ত্রের প্রতীক। অথচ তাকে নিশিরাতের এই অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রেখেছে।
তাকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। জামিন পাওয়া তার আইনগত অধিকার। তাকে জামিন পর্যন্ত দেয়া হচ্ছেনা । তারেক রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকারের ইচ্ছে পূরণে যেসব বিচারকরা খালেদা জিয়াকে জামিন দিচ্ছেন না, ভবিষ্যতে এইসব বিচারকদেরকে জনগণ কখনো বিচারের মুখোমুখি করলে একই যুক্তি দেখিয়ে এইসব বিচারকরাও হয়তো জামিন পাবেন না। এইসব বিচারকদেরকেও একদিন বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, নিশিরাতের সরকার দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অথচ তারা কোথায় কথায় বলছে, উন্নয়ন আগে গণতন্ত্র পরে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে এখন গণতন্ত্রও নাই। আর উন্নয়নের নামে চলছে দুর্নীতি। বিশ্বের ১৪০ টি দেশের উপর সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের ‘গ্লোবাল কমপিটিটিভনেস রিপোর্ট-২০১৯’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা সূচকে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক। নিরাপত্তা, দুর্নীতি ও বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩। সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪। নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা এবং পানি সরবরাহের উপর নির্ভরশীলতায় ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪। তথ্য-প্রযুক্তি খাত যেমন মোবাইল, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র হত্যা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ, অবাধে বিদেশে টাকা পাচার লুটপাট, দুর্নীতির জন্য মানুষ জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেনি। নিশিরাতের সরকার সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এমনকি তাদের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় প্রমাণ করে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বড় রাজাকারের দল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন সেটি বিএনপি সরকারের মাধ্যমেই হয়েছে । বিএনপি-ই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে, মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে , দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছে, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রনালয় প্রতিষ্ঠা করেছে, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক সংখ্যক নারীকে উন্নয়নের মূলধারায় রাখতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়া সরকারি নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন, বিএনপি সরকার-ই বাংলাদেশে নকল মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।

তারেক রহমান আরো বলেন, এখনো নিশিরাতের সরকারের জেল জুলুম হয়রানি উপেক্ষা করেও বিএনপি এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরাই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সক্রিয়। বিএনপির সমালোচকদেরকেও নিরাপদ দূরত্বে থেকে সমালোচনার পরিবর্তে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, জা তীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচনে যেভাবে বিএনপিকে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে, .এটা আসলে বিএনপির-ই হার নয় । বরং মানুষকে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে । বাংলাদেশকে হারিয়ে দেয়া হচ্ছে। কারণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি হেরে গেলে সেটি হতো বিএনপির হার । তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কিংবা প্রতিপক্ষকে যেভাবে হারানো হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে সবাই রাজপথে বছর না হলে আগামী দিনগুলোতে নিশিরাতের এই অবৈধ সরকার নিরাপদ দূরত্বে থেকেও কারো মুখ খোলার সুযোগ রাখবেনা।

সকল শ্রেণী পেশার মানুষদেরকে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনের শরিক হওয়ার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন মাধ্যমেই সুসংহত হবে দেশের সার্বভৌমত্ব। মুক্ত হবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া । পুনরুদ্ধার হবে গণতন্ত্র। প্রতিষ্ঠিত হবে বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। নিশ্চিত হবে গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, ব্যারিস্টার নাসিরুদ্দিন অসীম, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ সহ অনেকে।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.