এপ্রিল ১৬, ২০২১

প্রাচিন নবপুরি ( চিলাউড়া ) গ্রামের ইতিকথা ” ।

১ min read

প্রাচিন নবপুরি ( চিলাউড়া ) গ্রামের ইতিকথা ” । —
সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী ১২৬৫ খৃষ্টাব্দের শেষদিকে প্রাচিন রাঢ রাজ্য থেকে প্রাচিন পাণ্ডুয়া
( জগন্নাথপুর ) রাজ্যে পাড়ি জমান নয়টি গোত্র ( পরিবার ) , মোহাম্মদ সুলতানুদ্দিন রাঢি ও মোহাম্মদ ভাগলুদ্দিন রাঢির নেতৃত্বে । এরা ছিলেন :- মোহাম্মদ সুলতানুদ্দিন রাঢি ও অনুজ মোহাম্মদ ভাগলুদ্দিন রাঢির পরিবার , পাকু পহেলোয়ানের পরিবার , শ্রী হিলপতি আর্চায্যের পূর্বপুরুষ , শ্রী-রামবল্লভ শর্মার ( ভট্টাচার্য )
পূর্বপুরুষ , শ্রী রশিক চন্দ্র দাশের পূর্বপুরুষ , শ্রী রাজ নমশুদ্রের পূর্বপুরুষ , শ্রী বিপতি শুক্লবৈদ্যের ( ধোপা ) পূর্বপুরুষ , শ্রী হরষ শব্দকরের ( ঢোকলা ) পূর্বপুরুষ ও শ্রী অধর চন্দ্রবৈদ্যের( নাপিত ) পূর্বপুরুষ । এই নয়টি গোত্র ( পরিবার ) পাণ্ডুয়ার ( জগন্নাথপুর ) তখনকার রাজা শ্রী জগন্নাথ সিংহের ( জগন্নাথ মিশ্র ) অনুমতি ক্রমে সে রাজ্যের তখনকার মোহাই-নলোয়া মহালের উচ্চ স্হানে নয় গোত্রের পরিবারের স্মৃতি স্বরুপ বসতিটির নামকরন করেন নবপুরী ( চিলাউড়া ) গ্রাম । গ্রামের যে বাড়ীতে মোহাম্মদ সুলতানুদ্দিন রাঢি বসবাস করতেন সে বাড়ীর নামকরন হয় বড় নেতার স্মৃতি রক্ষার্থে
” বড়বাড়ী ” । তদরুপ ব্রাম্মনবাডী , দাশবাডী , ধোপাবাডী , ঢোকলাবাডী , নাপিতবাডী ও নমশুদ্রবাডী ইত্যাদি ।
১৩০৩ খৃষ্টাব্দে ওলীকুল শিরমণি হযরত শাহ জালাল
( রহ: ) এর সিলেট বিজয়ের পর, সিলেটে মুসলীম প্রশাসন প্রতিষ্ঠা লাভের কিছু দিন পর তাঁর সঙ্গি হযরত শাহ কামাল ( রহ: ) এর নেতৃত্বাধীনে পশ্চিমে এক দ্বীনি জামাত প্রেরণ করেন ইসলাম প্রচারে । জগন্নাথপুরের রত্নানদীর তীরে জমাতটি আস্তানা গড়ে তুলে । সে আস্তানার নামকরন হয় শাহ কামাল ( রহ: ) এর নামানুসারে প্রথমে শহপাডা আর পরবর্তীতে শাহারপাড়া ।শাহারপাড়া থেকে একটি দ্বীনি জামাত আবারও পশ্চিমে প্রেরণ করলে সে দ্বীনি জমাত আজমিরিগঞ্জ হতে ফেরার পথে নবপুরীতে ( চিলাউড়া )
এক চিল্লা পর্যন্ত থাকতে মনস্ত করেন । ( ইসলামী পরিভাষায় দ্বীনি কাজে ৪০ দিনকে ” চিল্লা ” বলা হয়ে থাকে ) । চিল্লারত ওলীদের সংর্প্সে এসে নবপুরীর নেতা মোহাম্মদ সুলতানুদ্দিন রাঢি সহ সকল গ্রামবাসীরা অতিসয় মুগ্ধ হয়ে গিয়ে ওলীদের স্মৃতি ধরে রাখতে বসতিটির নাম পরিবর্তন করে চিল্লা + উড়া =চিল্লাউডা নামকরন করেন ।
ছন-বাঁশ-নল-খাগড়া ইত্যাদি দিয়ে বাঁনানো কুঁড়েঘরকে স্হানীয় কথায় ” উড়া ” বলা হয়ে থাকে । যেমন পীরছাবের উডা ও বক ( বগি ) শীকারির উড়া এবং মাইমাল অর্থাৎ জেলেদের উড়া ইত্যাদি । সুলতান শামস উদ্দিন ইলিয়াস শাহের আমলে ( ১২৪২-১৩৫৭ ) সনের মধ্যে বাংলাভাষাকে সহজতর করার সময় ” চিল্লা ” শব্দের এক
” ল ” অক্ষর বাদ দিয়ে শব্দটিকে
” চিলাউড়া ” করা হয় । সে সময় থেকে গ্রামটি চিলাউডা নামে পরিচিতি পেয়ে আসছে ।
মোহাম্মদ সুলতানুদ্দিন রাঢির ৫২৬ বছর পর তাঁরই বংশীয় সন্তান মোহাম্মদ রওশনুদ্দিন রাঢি তখনকার দেওয়ান কর্তৃক মোহাই-নলোয়া মহালের ইজারা প্রাপ্ত হন সম্ভবত ১৭৯০ খৃষ্টাব্দে । ইজারা প্রাপ্ত মোহাম্মদ রওশনুদ্দিন রাঢি
” মহালদার ” খেতাবে ভুষিত ও সম্মানীত হন । মহালদার শব্দটিকে স্হানীয়রা
” মালদার ” বলে ব্যবহার করে থাকেন ।এর পরে মোহাম্মদ সোবহানুদ্দিন মহালদার , মোহাম্মদ সদরুদ্দিন মহালদার ( সওদাগর মহালদার ) , মোহাম্মদ দরবারুদ্দিন মহালদার ( দরবারি মহালদার ) , মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন মহালদার । লেখকের দাদা নিজামুদ্দিন মহালদার ” স্হানীয় ভাবে ” নিজাম মালদার ” নামে পরিচিত । লেখকের বাবা রাশিদ মালদার , চাচা খোরশেদ মালদার , তাহির মালদার ও জাহির মালদার । তথ্য:- ১৯২০ ইংরেজীর সামছিটা ও ১৯৫২/৫৬ সালের ” এস এ পর্চা ” । লেখকের প্রণীত বই:- প্রাচীন জগন্নাথপুর ( পাণ্ডুয়া ) রাজ্যের ইতিবৃত্ব । লেখক চিলাউডা গ্রামের বড়বাড়ীর সন্তান ও বৃটেন প্রবাসী মুক্তি্যুদ্ধের প্রবাসী সংগঠক ।
————————
মোহাম্মদ গুলজার হোসাইন ,
সেইন্ট আলবান্স-ইউকে ।
( বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্হানরত ) ।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.