সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

আগামী জাতীয় নির্বাচন,ভারত বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি বনাম জঙ্গিবাদ

১ min read

আগামী জাতীয় নির্বাচন,ভারত বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি বনাম জঙ্গিবাদ

বর্তমান সরকারের সামনে বেশ কয়টি বড় চ্যালেঞ্জ দৃশ্যমান।এদের মধ্যে প্রধানটি হল আগামী জাতীয় নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে ক্ষমতা হস্তান্তর।এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়।ইতিহাসে কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি একই নিয়মে হওয়ার নজির নেই।ফলে ৫ই জানুয়ারির বিনাভোটে নির্বাচন আর একটি হওয়ার সম্ভাবনা ঐতিহাসিকভাবে নেই বলা যায়।
আর এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সরকারের চলমান ঘটনাবলি মঞ্চস্থ হবে,হচ্ছে-এটাই স্বাভাবিক।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশ তথা বহির্বিশ্বে কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায় নি।এটি দ্বিবালোকের মত পরিষ্কার। তবে আওয়ামীলীগের একমাত্র ভরসা দাদারা ছাড়া।আর নিকট অতীতে দাদাদের সাথে সম্পর্কের একটা টানাপোড়ন শুরু হয়ে গিয়েছিল বা গিয়েছে।বিষয়টি হল চীন বাংলাদেশকে দুটি নৌ ফ্রিগেট/সাবমেরিন ও বড় অংকের ঋণ প্রদানকে কেন্দ্র করে।

আর এসব বৈরিতা গোচাতে দাদারা এবার হাত বাড়ালেন প্রতিরক্ষার দিকে।বাংলাদেশের সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি।অন্যভাষায় বলতে গেলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দাদাদের দাদাগীরি কাগজে কলমে চাচ্ছেন।বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। যার রয়েছে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।আর এই ব্যবস্থাটি যদি কোন রাষ্ট্র চুক্তির মারপ্যাঁচে নিজেদের হস্তগত করে নিতে পারে,তাহলে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আর কতখানি রইল এটা বিচারের ভার ইতিহাসের কাছে ছেড়ে দিলাম।মোদ্দা কথায় বলা যায় এই চুক্তি বাংলাদেশকে লিখিতভাবে সিকিম বানানোর পায়তারা বৈ অন্যকিছু নয়।

আর তাই যদি না হবে সরকার এই চুক্তি নিয়ে এত লুকোচুরি করার কি আছে?সরকারের সংসদে অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় চুক্তিটি নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করতো,পত্রপত্রিকায় নাগরিক সমাজকে চুক্তির বিষয়ে অভিমত প্রদানে আহবান করতে পারত,সর্বোপরি সভা সেমিনারের মাধ্যমে চুক্তির ধারা উপধারা সম্পর্কে জনগণকে অভিহিত করে মতামত নেয়ার ব্যবস্থা করতে পারত।এর কোনটাই সরকার করছে না।ফলে সন্দেহের মত্রা বাড়তেই পারে।

এদিকে বাহির থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে বিএনপি সহ অপরাপর রাজনৈতিক দল ও কিছু সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হাকডাক করছে এই চুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে।যা হবার তাই হলো বা হচ্ছে দেশের জনগণ কিছুই জানল না,ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির নামে আসলে কি হতে যাচছে?!সরকারের হাবভাবে মনে হয় দেশটা আওয়ামীলীগের তোমরা কারা এত হাকডাক করছ!!

এবার আসছি কেন এই চুক্তি?রহস্যঘেরা এই চুক্তির দুটি বেনিফিসিয়ারী পক্ষ আছে,যা অনেকটা পরিষ্কার মনে হচ্ছে।প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত বাংলাদেশকে সিকিমের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়।আর নিন্দুক দর্জির ভূমিকায় বর্তমান সরকার প্রধান।ভারতের নিকট সঠিক সময় সঠিক ব্যক্তি দুটিই বর্তমান।

এ গেল একটি দিক।দ্বিতীয়টিও পরিষ্কার,সরকার ভালো করেই জানে যে এবার আর ৫ ই জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি ঘটানো সম্ভব নয়।ফলে আমাদের সর্বশেষ রক্ষা কবজ প্রতিরক্ষা বিভাগ, এটিকে যদি দাদাদের হাতে তুলে দেয়া যায় তাহলে নির্বাচন হোক আর নাই হোক বাংলাদেশের গায়ে জঙ্গি রাষ্ট্রের তকমা লাগিয়ে কেয়ামত পর্যন্ত শাসন শোষণ সবটাই করা যাবে।অবস্থাদৃষ্টে মনে হচছে বর্তমান সরকার দ্বিতীয় প্লটটির দিকে সুচতুরভাবে অগ্রসর হচ্ছে।

এবার আসছি চলমান দৃশ্যপটে, হঠাৎ করে চিহ্নিত কিছু মিডিয়া,তথাকথিত সুশীল,সরকারের সেবাদাস র‍্যাব -পুলিশ সম্মিলিত ভাবে এই নাটকটি মঞ্চায়ন করে চলেছে।সরকার প্রধান ভারত সফরে যাবেন, আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি জোড় গলায় বলে দিলেন,বীরদর্পে যাবেন বীরদর্পে সবকিছু করে আসবেন।কিন্তু বলেননি কি কি করে আসবেন।

ভারত বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি।আর এই চুক্তি সম্পর্কে জনগণের জানার আর বুঝার কি আছে সারাদেশতো আজ জঙ্গিয়ে ভরে গেছে।আর জঙ্গিবাদ একটি আন্তর্জাতিক বিষয় এটি মোকাবেলার জন্য যে কোন রাষ্ট্র, যে কোন রাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে।আর তাই সরকার অতিকৌশলেই জঙ্গিবাদের নাটক মঞ্চস্থ করে চলেছেন।

গত কয়েকদিনের জঙ্গি হামলা ও জঙ্গি আস্তানা সম্পর্কে পত্রিকা মারফত যতটুকু জানতে পেরেছে দেশবাসী তাতেই সরকারের সুচতুর কৌশল পরিষ্কার হয়ে গেছে।একটি ঘটনার শুধু সারসংক্ষেপ বলছি,র‍্যাব হেডকোয়ার্টার সংলগ্ন আত্মঘাতী আক্রমণকারী বেশকিছুদিন আগ থেকেই নাকি নিখোঁজ ছিল।তার আত্মপ্রকাশ ঘটল আত্মঘাতী হামলার মধ্য দিয়ে।নিহত হল গায়ে বাধা বোমার আঘাতে,ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো হামলাকারীর পুরো দেহ।

সবশেষে বলব,বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র হিসাবে দেখতে এদেশের কোন সুস্থ নাগরিক কামনা করে না।আর জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে যদি মাথাচাড়া দিয়ে থাকে সর্বদলীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে একাত্তুরের মত মোকাবেলা করা সময়ের দাবী।তা না করে এটাকে একমাত্র সরকার ও আওয়ামীলীগের এজেন্ডা হিসাবে যখন দেখা হয়,তখন এসব প্রশ্ন যে কোন দেশপ্রেমিক সচেতন নাগরিকের মনে উকিদেয়।

ডুনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম যে বিবৃতিটি বিশ্ববাসী দেখেছে,তাতে পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জঙ্গি শব্দটি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে কোন জঙ্গি নেই।মোটাদাগে এটাই ছিল ট্রাম্প সরকারের সর্বপ্রথম বিবৃতির মূল বক্তব্য। ##

মোঃ লুৎফুল হাই ভূঞা
লেখক,কলামিস্ট
২২/০৩/২০১৭ ইং
টি,এ রোড,বি,বাড়ীয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.