সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

কারান্তরীন খালেদা জিয়ার ২ বছর– সায়েক এম রহমানের স্ট্যাটাস

১ min read

আজ সেই ৮ ফেব্রুয়ারি  নীপিড়ন, নির্যাতন, লাঞ্চনা, বঞ্চনার শেষ কোথায়? এত সব লাঞ্চনা বঞ্চনা কাকে? তা-ও সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে?

যিনি তাঁহার স্বামী শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর, শহীদ জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সামান্য গৃহবধু থেকে ৩৬ টি বৎসর যাবৎ বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। যিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ কে বুকে ধারন করে গণতন্ত্র কে পুনরুদ্ধার করেছেন। জাতির কাছে আপোষহীন নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। শাসক গোষ্ঠী যাকে বালুর ট্রাক দিয়েও আটকিয়ে রাখতে পারে নাই। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় বাসার বিদ্যুৎ লাইন কেটে, সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েও তাঁহাকে স্তব্ধ করতে পারে নাই। তাঁকে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে পরিকল্পিত সাজা দিয়ে জেলে রাখা হয়েছে আজ দুই বৎসর পূর্ণ হয়ে গেল! বারবার গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কারাগারে বসবাস করছেন “গণতন্ত্রের প্রতীক” হয়েছেন। সবাই -ই এক শ্বাসে বলতে পারি, তিনি আর কেহ নন, তিনি হলেন,” বাংলাদেশের সব চাইতে জনপ্রিয় নেত্রী, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া।

 

যেই মানুষটি ১/১১ সময়ে কারান্তরীন জীবনে হারিয়েছেন তাঁহার মমতাময়ী মা এবং তাঁহার অতি আদরের প্রিয় ভাই ও বোনকে। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় শাসক দলের ষ্টীম রোলারে প্রাণ দিতে হয়েছে, তাঁহার নাড়ী ছেঁড়া ধন, প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র আরাফাত রহমান কোকো-কে। বড় সন্তান তারেক রহমান কে পঙ্গুত্ব নিয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে থাকার পরও অন্যায় ভাবে সাজা দিয়ে দেশে আসার পথ বন্ধ করে রাখে।

ফ্যাসিষ্ট সরকার তার নিজের নামের সব মামলা গুম করে ৭৪ বৎসর বয়স্ক আর্থাইটিস সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় পরিকল্পিত সাজা দিয়ে জেলবন্ধী করে রাখে। কারাবাসে বছরের উপরে হয়ে গেল। এখানেও ক্লান্ত নয়,,,আরো অনেকগুলি মামলা। এই বয়সে জটিল রোগ নিয়েও হুইল চেয়ারে করে প্রায় প্রতি সপ্তাহে -ই হাজিরা দিতে হয় এবং ঘন্টার ঘন্টা অনর্থক বসে থাকতে হয় ক্যাঙ্গারু কোর্টে। এত সব নির্যাতন, ডাক্তারীর সময়ে ডাক্তার নাই তা-ও হাউ মাউ করে একদিন দেখানো হয় পরে আবার ডাক্তারের জন্য সেই হাউমাউ! সবই পরিকল্পিত নির্যাতন।

হায়রে নির্মমতা! হায়রে বর্বরতা! নির্মমতা ও বর্বরতার একটা সীমা থাকে। সবই যেন অতিক্রম হয়ে গেছে। একজন সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রীকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে, আর কত লাঞ্চনা ও বঞ্চনা পোহাতে হবে?

আজ ভাবতেই অবাক লাগে,,,,যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন তাঁহার স্ত্রী, একজন বীর উত্তমের স্ত্রী, বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের স্ত্রী,যিনি বটমলেস বাস্কেট থেকে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়ে ছিলেন তাঁহার স্ত্রী এবং তাঁহার পরিবারের প্রতি এত সব লাঞ্চনা, বঞ্চনা, নিপিড়ন, নির্যাতন কেন? কারণ গুলি তা- আজ জাতির সামনে পরিস্কার। ১/ অবৈধ ভাবে বিনা নির্বাচনে ক্ষমতা ভোগ করা। ২/ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন টা নিজের ইচ্ছে মতন করে নেয়া। ৩/ সেই বাকশাল ও সেই এক দলীয় শাসন ব্যবস্হা চালু করা।

 

বাঁধা শুধু,,, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। কারণ,,,এই দলের নেতাই দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এই দলের মাধ্যমে বারবার দেশ সংকট থেকে মুক্ত হয়েছে, গণতন্ত্র প্রবর্তন হয়েছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে, এখনও গণতন্ত্রের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে হিসাব পরিস্কার। তাই সে জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ইর্ষাম্বিত হয়েই জিয়া পরিবার এবং জিয়ার দলকে চীরতরে শেষ করার একটা অভিপ্রায়। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস কি বলে? ফ্যাসিষ্টদের হীন চক্রান্ত কখনও সফল হয় না।

 

সায়েক এম রহমান

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.