মঙ্গল. সেপ্টে ২২, ২০২০

মুহিতের সামনেই মিসবাহউদ্দিন সিরাজের সিলেট-১ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা

১ min read

আমি জীবনেও জনপ্রতিনিধি হতে পারিনি। যেহেতু আমাদের সুযোগ্য অর্থমন্ত্রী বয়স হয়েছে, তিনি অবসর নেবেন। আজ যখন সুযোগ এসেছে, আমি আপনাদের সহায়তা পেলে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার আবেদন জানাতে চাই। আমার প্রতি দোয়া রাখবেন, আমি যেন মনোনয়ন পাই। আমি অতীতে আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।’

বক্তৃতায় এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের দর্শক সারিতে মেলে ধরা হলো ব্যানার। তাতে ‘মিসবাহ ভাইকে সংসদে দেখতে চাই’ শোভা পাচ্ছে। সিলেটে আজ বুধবার বিভাগীয় তৃণমূল সমাবেশে এভাবেই কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ সিলেট-১ আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। তৃণমূল সমাবেশ শেষে এ বিষয়টি সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গন সরব হয়ে ওঠে।
এ ব্যাপারে মিসবাহউদ্দিন সিরাজ আজ বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘তৃণমূল প্রতিনিধিদের চাওয়া পূরণ করতেই এ ঘোষণা দিয়েছি।’
জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসন নিয়ে মিথ প্রচলিত। এ আসনে যে দল জিতে, সে দলই ক্ষমতায় যায়, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে এমন মিথ প্রচলিত হওয়ার কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও সিলেট-১ আসন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। ১৯৯১ সালে এ আসনে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত খন্দকার আবদুল মালিক সাংসদ হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী জিতেছিলেন। ২০০১ সালে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান জয়ী হন। ওই নির্বাচনে প্রথম প্রার্থী হয়ে সাইফুরের সঙ্গে হেরেছিলেন বর্তমান সাংসদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০০৮ নির্বাচনে তিনি জয়ী হন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করে। ২০১৩ সালে অবশ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন মুহিত।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে আবুল মাল আবদুল মুহিত আর প্রার্থী হচ্ছেন না। এ কথা তাঁর মুখ থেকে বলতে শোনা গেছে। প্রায় দুই বছর ধরে সিলেটে অর্থমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অংশ নিতে দেখা গেছে তাঁর ছোট ভাই জাতিসংঘে সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন। আগামী নির্বাচনে মুহিত প্রার্থী না হলে মোমেন প্রার্থী হচ্ছেন—এ রকম প্রচারণাও রয়েছে সিলেটে। এ অবস্থায় তৃণমূলের সমাবেশে মিসবাহউদ্দিন সিরাজের ঘোষণা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী রাজনীতিকে সরব করে তুলল বলে মনে করছেন অনেকেই।
মিসবাহউদ্দিন সিরাজ আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন হওয়া একজন নেতা। ১৯৭৭ সালে ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে রাজনীতির হাতেখড়ি। জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদের মাধ্যমে মূল দলের নেতৃত্বে আসেন তিনি। সিলেট মহানগর প্রতিষ্ঠার পর দুই মেয়াদে ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সাল থেকে পরপর তিন মেয়াদে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন।
.

মিসবাহউদ্দিন সিরাজের সমর্থকেরা ব্যানার প্রদর্শন করছেন। আজ সিলেটে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশে। ছবি: আনিস মাহমুদ

মিসবাহউদ্দিন সিরাজের সমর্থকেরা ব্যানার প্রদর্শন করছেন। আজ সিলেটে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশে। তৃণমূল সমাবেশে প্রার্থিতা ঘোষণার এ বক্তৃতাকালে সমাবেশমঞ্চে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ছোট ভাই এ কে মোমেন। পরে অর্থমন্ত্রী বক্তৃতা দেন। কিন্তু বক্তৃতায় তিনি নির্বাচন বা প্রার্থী হওয়া বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। অর্থমন্ত্রী মার্চ মাসকে স্মরণ করে বলেন, ‘মার্চ মাস আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের মাস। এই মাসে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটা গৌরবের বিষয়। আমাদের সংগঠন গোছাতে হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, জেলা যেখানে ফাঁকফোকর আছে, সেগুলো গোছাতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে দারিদ্র্যবিমোচন করে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। আমাদের সংগঠন ঠিক করে সামনের দিকে এগিয়ে চলতে হবে।’
অর্থমন্ত্রীর সামনে তাঁর আসনে মিসবাহউদ্দিন সিরাজের প্রার্থিতা ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিলেটে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান  বলেন, ‘এটা তাঁর (মিসবাহ) ব্যক্তিগত মতামত। এ নিয়ে সাংগঠনিকভাবে বলার কিছু নেই। তবে অর্থমন্ত্রীকে সমাবেশমঞ্চে রেখে তাঁর আসনে এভাবে ঘোষণা দেওয়াটা আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি না।’
মিসবাহউদ্দিন সিরাজ সিলেট-৩ (ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিণ সুরমা) আসনে নির্বাচন করতে চান—এমনটি প্রকাশ পেয়েছিল ১৩ মার্চ ‘ফেঞ্চুগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ’ আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিসবাহউদ্দিন সিরাজ প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা বলেছিলেন। পরদিন অবশ্য ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবৃতি দিয়ে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সিলেট-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী। আজ তৃণমূলের সমাবেশে মিসবাহউদ্দিন সিরাজের প্রার্থিতা ঘোষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। যে কেউ যেকোনো আসনে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করতেই পারেন। শুধু চাইলে তো আর হবে না। দলীয় সভানেত্রীর ইচ্ছেও লাগবে। যাঁকে দিয়ে যেখানে আসন পুনরুদ্ধার সম্ভব, সেখানেই মনোনয়ন দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.