সোম. সেপ্টে ২১, ২০২০

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন :পুড়ে গেছে দুটি কম্পিউটার প্রিন্টার ও চেয়ার-টেবিল

১ min read

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের ১৪ তলায় আগুনে প্রায় এক হাজার বর্গফুট জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে দুই কক্ষের চেয়ার-টেবিল, দুটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, বৈদ্যুতিক তার ও সিলিং পুড়ে গেছে। এ ছাড়া স্টিলের আলমারি ও কাঠের শেলফে থাকা নথিপত্রও পুড়ে গেছে।
গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে এসব ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। সেখানে তাঁরা আলামতও জব্দ করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংকের ১৪ তলায় আগুন লাগার আধা ঘণ্টার মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় ওই রাতেই দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক নুরুল ইসলাম মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
গতকাল সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারাও এসেছিলেন। তবে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাননি কেউই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেছন থেকে পুড়ে যাওয়া ১৪ তলায় দেখা গেছে, ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ ধোঁয়ায় কালো হয়ে গেছে। ওই কোণের ১৫ তলাতেও কিছু অংশ কালো হয়ে গেছে। তবে ১৫ তলার ভেতরে আগুন যায়নি বলে জানা গেছে।
আগুনের ঘটনা তদন্তে গঠিত দুটি কমিটিই গতকাল কাজ শুরু করেছে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ওসি তানহারুলের ধারণা, বৈদ্যুতিক গোলযোগে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হতে পারে। আজ শনিবার কমিটি ওই কক্ষে থাকা (ক্লোজড সার্কিট) সিসি ক্যামেরা ফুটেজ জব্দ করে দেখবে আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে।
গতকাল র্যাব-৩-এর একটি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ তলায় অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করে। র্যাব-৩-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, র্যাব আগুন লাগার ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটি গতকালই কাজ শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামালের নেতৃত্বে কমিটির অন্য সদস্যরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুড়ে যাওয়া ১৪ তলা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পুড়ে যাওয়া অংশ ঘুরে দেখেন এবং প্রাথমিকভাবে কারণ চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মহাব্যবস্থাপকের কক্ষ ও তাঁর সহকারীর টেবিল-চেয়ার পুড়ে গেছে। এ ছাড়া ওই কক্ষে থাকা আলমারি পুড়ে গেছে। জিএম আমাকে জানিয়েছেন, পুড়ে যাওয়া কাগজপত্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথি ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকাশনা ও ব্যক্তিগত কিছু নথিপত্র ছিল।’
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেছেন, এটি স্পর্শকাতর স্থাপনা। অগ্নিনির্বাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংককে ফায়ার সার্ভিস চিঠি দিয়েছিল।
রাতে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র জি এম আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অগ্নিনির্বাপণ অ্যালার্ম বাজার কারণে অল্পতেই রক্ষা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা আছে। প্রতিটি বিভাগে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন। নিয়মিত ভিত্তিতে মহড়াও হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.