নভেম্বর ২৪, ২০২০

পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না:পুলিশ কমিশনার

১ min read

সিলেটে দুই দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার সময় দায়িত্বে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া।

রোববার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ছয়জনের মরদেহ দেখতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের কয়েকশ’ গজ দূরে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে পুলিশের একটি চেকপোস্টের কাছে দুই দফায় বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয় জন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক।

নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে কী ভাবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হলো; এতে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কী না এমন প্রশ্নে পুলিশ কমিশনার বলেন, এতে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না।

তিনি বলেন, বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে।

সিলেটে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিববাড়ির উস্তার মিয়ার আতিয়া মহলের নামের বাড়িতে তল্লাশির সময় নিচ তলা থেকে পুলিশ ও র্র‌্যাবকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু করে বলে জানান সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রোকনউদ্দীন।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে সেখানে থেমে থেমে গুলির ঘটনা ঘটে।

শনিবার সকাল থেকে জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ ঘিরে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরুর নয় ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের অভিযানে থাকা সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান জানান, অভিযান চলবে।

তিনি বলেন, ‘অভিযানে আতিয়া মহল থেকে ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ২১ জন নারী এবং অবশিষ্ট শিশু রয়েছে।’ সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জঙ্গি আস্তানা থেকে ১০/১২টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। ভিতরে কতজন জঙ্গি রয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। তারা বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় বোমা স্থাপন করেছে।’

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কিছু পরই বোমা বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে আতিয়া মহলের মালিক উস্তার মিয়ার ছেলে রিপন জানান, জানুয়ারি মাসে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুজন ওই বাসার নিচতলায় ওঠেন। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন বলে জানান তারা।

বাড়ির মালিক উস্তার মিয়া জানান, পাঁচ তলা ভবনের প্রতিটি তলায় ৬টি করে ইউনিট রয়েছে। এ ভবনে ২৭টি পরিবার বসবাস করে। শুক্রবার তারা সেখানে আটকা পড়ে। এর আগে পাশের আরেকটি চার তলা ভবনে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, কিছুদিন আগে এই এলাকায় বাড়ির মালিকের কাছে ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়। উস্তার মিয়া তার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে থানায় যে তথ্য জমা দেন, সেগুলি যাচাই বাছাই করে পুলিশের সন্দেহ হয়। এই সন্দেহের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ তল্লাশিতে গেলে ভেতর থেকে তাদের উদ্দেশ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.