সোম. সেপ্টে ২১, ২০২০

লিবিয়ায় মানব পাচার: মাদারীপুরে ৩ মামলা, গ্রেপ্তার ২।

নতুন আলো অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট: লিবিয়ায় মানব পাচারের ঘটনায় মাদারীপুরে তিনটি মামলা দায়ের করেছে তিন নিহতের পরিবার। মামলায় ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশি হত্যা করে মানব পাচারকারীরা। এদের মধ্যে অধিকাংশই মাদারীপুরের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈরে লিবিয়ায় নিহত জুয়েলের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার বাদী হয়ে দালাল জুলহাস সরদারসহ চারজনের নামে মানব পাচার আইনে মামলা করেছে রাজৈর থানায়।

এছাড়াও রাজৈর থানার বদরপাশা ইউনিয়নের নিহত রহিম খালাসীর ভাই আবু সাইদ খালাসী বাদী হয়ে রাজৈর থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা জুলহাস সরদারসহ সাতজনকে
আসামি করা হয়েছে।

এদিকে একই ঘটনায় লিবিয়ায় নিহত ও মানব পাচারের শিকার মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের মো. শামিমের বাবা আব্দুল হালিম মিয়া বাদী হয়ে রোববার মাদারীপুর সদর থানায় একটি
মামলা দায়ের করে। এই মামলায় দালাল নজরুল ইসলামসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় রোববার রাতেই মামলার আসামি দিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। দিনা বেগম মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং দালাল নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিহত জুয়েল হাওলাদারের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার ও মা রহিমা বেগম বলেন, আমাদের ছেলেসহ রাজৈরের বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকজনকে দালাল চক্র লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪/৫ লাখ টাকা চুক্তি করে নিয়ে যায় ৩/৪ মাস আগে। তারপর লিবিয়ার ত্রিপলী না নিয়ে বেনগাজীতে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। এরপর ভয়েজ রেকর্ডে নির্যাতনের শব্দ পাঠিয়ে আরো ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমরা হোসেনপুর জুলহাস সরদার নামের ওই দালালের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আসি। লিবিয়ায় গুলি করে অনেক বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলেকেও পাচারকারীরা হত্যা করেছে।

একই গ্রামের নিখোঁজ মানিক হাওলাদারের পিতা শাহ আলম হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে মানিককে লিবিয়া নেওয়ার কথা বলে দালাল জুলহাস আমার কাছ থেকে প্রথমে ৪ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে ছেলেকে বেনগাজী আটকে রেখে ভয়েজ রেকর্ডের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি আমার ছেলেকে
আনতে জুলহাসের বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে আসি।’

রাজৈর থানার ওসি শওকত জাহান বলেন, মানব পাচারের ঘটনায় রাজৈর থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। দালাল জুলহাস দুটি মামলারই আসামি। একটি মামলায় সাতজন ও অপর মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

এদের মধ্যে জুলহাস করোনা পজিটিভ হওয়ায় পুলিশি হেফাজতে মাদারীপুর সদর হসাপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি রয়েছে।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, মানব পাচারের ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায়
একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় দিনা বেগম নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.