শনি. সেপ্টে ১৯, ২০২০

সোয়াত পাঠাও হাতে সময় কম’ জঙ্গিদের সেই ভাষ্যের আলোচনায় আইইডি

১ min read

সিলেট: বহুল আলোচিত সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জঙ্গি আস্তনা ‘আতিয়া মহলে’ সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোর অপারেশন টোয়াইলাইটে আলোচনায় আইইডি। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলনে এই বিস্ফোরক সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পর মূলত এ নিয়ে আলোচনার শুরু। জঙ্গিরা এসব আইইডি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে বলে জানান সেনা কর্মকর্তা।

 

সেনাবাহিনীর অভিযান অপারেশন টোয়াইলাইট-এর দায়িত্বে থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের (জঙ্গিদের) কাছে স্মল আর্মস ও আইইডিসহ প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক রয়েছে। সেনা সদস্যরা যখন ভেতরে গ্রেনেড চার্জ করছিলো তখন জঙ্গিরা সেটা উল্টো সেগুলো ধরে আমাদের দিকে ছুড়ে মেরেছে। তারা প্রচুর বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে এবং তাদের সবার কাছে সুইসাইডাল ভেস্ট লাগানো আছে। এর মধ্যে ১০-১২টি আইইডির বিস্ফোরণও ঘটিয়েছে তারা। সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা সেজন্য কিছুটা সাবধানে এবং ধীরে অভিযান পরিচালনা করছে।

 

আইইডি বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, আইইডির পুরো নাম ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। এটি হাতে বানানো এক ধরনের বিস্ফোরক যন্ত্র, যা বিভিন্ন স্থাপনায় বা মেঝেতে স্থাপন করে রাখা যায়।

 

তিনি জানান, তারের মাধ্যমে, দূর-নিয়ন্ত্রিত রিমোট কন্ট্রোল কিংবা মোবাইল ফোনের তরঙ্গের মাধ্যম ব্যবহার করে আইইডি দিয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব। এছাড়াও টাইম সেট করে দিয়ে এটাকে টাইম বোমা বানিয়েও বিস্ফোরণ ঘটানো যায়।

 

রশিদ বলেন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন জঙ্গি রাষ্ট্র থেকে লোক এসে বাংলাদেশে এদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছে।

 

এধরনের বিস্ফোরণ প্রশিক্ষণ ছাড়া ঘটানো সম্ভব নয়। সেনা কর্মকর্তা ফখরুল আহসান সংবাদ সম্মেলনে নিজেও জানিয়েছিলেন, জঙ্গিরা খুবই প্রশিক্ষিত।

 

সোমবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, ভিতরে দুই জঙ্গির লাশ এমনভাবে পড়ে আছে যেখানে চার পাশে বিস্ফোরক ফিট করা আছে। ফলে সেগুলো কিভাবে উদ্ধার করা হবে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

 

তিনি বলেন, ভবনের ভিতরে এতো বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে, তা বিস্ফোরিত হলে পুরো ভবন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে। ফলে ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ কমান্ডো অভিযানে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে দুই জঙ্গির লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভিতরে এখনো প্রচুর বিস্ফোরক রয়েছে, তাই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যে সবার মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে তাহলে একারণেই কী জঙ্গি বলেছিল ‘তাড়াতাড়ি সোয়াত পাঠাও আমাদের হাতে সময় কম।’ অনেকের ধারণা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বুদ্ধিমত্তার পরিচয় না দিলে এর চেয়েও বড় ঘটনা ঘটতে পারতো।

 

উল্লেখ্য, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত আতিয়া মহল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত সিলেটে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে।

 

এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটে পুলিশ চেকপোস্টে দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক জন আহত হন।

 

সোমবার তৃতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানে এ পর্যন্ত চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আছে তিন পুরুষ ও এক নারী।তবে অভিযান এখনো চলছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.