বুধ. সেপ্টে ২৩, ২০২০

লিডসে সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ বাংলাদেশীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডে

১ min read

২০১৫ সালে ইয়র্কশায়ারের স্থানীয় লিডস বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টারের নেতৃত্ব নিয়ে সংঘটিত দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনায় ৭ বাংলাদেশীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডে দন্ডিত করেছে ব্রিটেনের একটি আদালত। ৭ দন্ডিত’র মধ্যে ৬ জনের সাজার রায় বুধবার ঘোষণা করে লিডস ক্রাউন কোর্ট। বাকী ১ জনের সাজা ঘটনার কয়েক মাস পরেই ঘোষিত হয়েছিলো।
বুধবার দেয়া রায়ে আদালত এই ঘটনাকে কমিউনিটির লজ্জা মন্তব্য করে বলেছেন সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বাবাসী এই লজ্জাজনক ঘটনা দেখেছে। ২০১৫ সালের ৩০ মে লিডস বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টারের নেতৃত্ব নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে যে ৭জন বিভিন্ন মেয়াদে দন্ডিত হয়েছেন, তারা হলেন, মৌলভী বাজারের মোহাম্মদ শামিন হুসেইন (৬ বছর), জগন্নাথপুরের সৈয়দ কবির আহমদ (৮ মাস), জগন্নাথপুর ইনাথ নগরের সুমন আবেদিন (৮ মাস), একই গ্রামের আবুল হাসান (৮ মাস), হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের মোহাম্মদ তুহেল মিয়া (৮ মাস) এবং জগন্নাথপুরের ইনাথ নগর গ্রামের মোহাম্মদ রফিক ইসলাম (৮ মাস)। এই ৬ জন ছাড়াও একই ঘটনায় এর আগে দুই বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন সৈয়দ সাঈদ মিয়া। দোষ স্বীকার করায় লঘুদন্ড কমিউনিটি সাজাও ভোগ করেন কয়জন।
লিডস বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টারের নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দলের জেড় ধরে ২০১৫ সালের ৩০ মে উত্তর ইংল্যান্ডের লিডস শহরে বাংলাদেশীদের বিবদমান দুইগ্রুপের মধ্যে সংঘটিত এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬জন আহত হয়েছিলেন। স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টার এর এজিএম চলাকালীন এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। লিডসের হেয়ারহিল রোডে অবস্থিত বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টারেই নতুন ব্যাবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে এই এজিএম চলছিল। শ’তিনেক সদস্যের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া এজিএম চলাকালিন একটি গ্রুপ এসে এজিএম বন্ধ করার দাবি করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন অনুষ্ঠান স্থলের চেয়ার দিয়ে বিবদমান দুইগ্রুপ একে অন্যের উপর আক্রমন-পাল্টা আক্রমন চালাতে থাকলে পুলিশকে দুপক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষ থামাতে ব্যাপক বেগ পেতে হয় তখন। বাংলাদেশী কমিউনিটির বিবদমান দুগ্রুপের এই সংঘর্ষ ঐসময় ‘রায়ট’ আখ্যা দিয়ে ফলাও করে প্রচার করে মূলধারার ব্রিটিশ মিডিয়াগুলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে এই ফুটেজ সংগ্রহ করেও মূলধারার অনেক মিডিয়া সংবাদ প্রচার করে। মূলধারার অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলী মিররের মতে সংঘর্ষের এই ভিডিও ফুটেজ এক লক্ষেরও বেশি মানুষ তখন দেখেছে। সংঘর্ষে জড়িত একজনকে পুলিশ ঘুষি মারছে, ফুটেজে এমনটি দেখা গেলে মিডিয়ায় এনিয়েও হয় অনেক সমালোচনা। সমালোচনার জবাবে একটি পত্রিকাকে তখন ঐ পুলিশ সদস্য বলেছিলেন, তিনি ঘুষি মারেননি সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখতে চড় মেরেছেন মাত্র। কোন কোন মিডিয়া সংঘর্ষে জড়িতরা ইসলামিক টুপি পরিহিত ছিল এমন মন্তব্যও করে। বিবিসিসহ অন্যান্য ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়াও ফুটেজসহ নিউজ প্রচার করে এই সংঘর্ষের।
লীডস বাংলাদেশী কমিউনিটি সেন্টার স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটি পরিচালনাধীন বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় কাউন্সিল থেকে এটি মাত্র ১ পাউন্ড ভাড়ায় বাংলাদেশী কমিউনিটিকে ৫০ বছরের লীজ দেয়া হয়েছিলো। দীর্ঘদিন যাবত এই সেন্টার স্থানীয় কমিউনিটিতে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংষ্কৃতি চর্চা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিচালনা করে আসছে। কাউন্সিল ও অন্যান্য চ্যারিটি সংস্থা থেকে নিয়মিত অনুদানও পেয়ে থাকে সেন্টারটি। সেন্টার ভবনের উপরতলা ভাড়া দিয়ে বার্ষিক ৫০ হাজার পাউন্ড আয় করে সেন্টারটি। সেন্টার পরিচালনায় পেইড স্টাফ হিসেবে কাজও করছেন বাংলাদেশী কমিউনিটির কয়েকজন। স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির উন্নয়নে ভুমিকা রাখছে এমন একটি সম্ভাবনাময় সেন্টার নেতৃত্বের কোন্দলে এ ধরনের ঝুকিপুর্ণ অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মধ্যে দিয়ে আমাদের অনেক কিছু শিখার আছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা। এই রায়ে কিছুটা স্বস্তি বোধ করেন সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.