সোম. সেপ্টে ২১, ২০২০

সুনামগঞ্জের বন্যায় ৯শ ২৫কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে।

১ min read

এম রেজা টুনু সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তৃতীয় দফার বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে এখনো অনেক আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে বন্যার পানি রয়ে গেছে। প্রথম দু’দফার বন্যায় জেলা সদরের সাথে ছাতক-দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর-বিশ^ম্ভরপুর এবং পৌরশহরের পাশের নবীনগর-ধারারগাঁও সড়ক পথে টানা দেড় মাস সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। এই পাঁচ উপজেলার মানুষ সড়ক যোগাযোগ না করতে পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ১১ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সড়ক ও জনপদের সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শুধু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) ৯শ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে জেলার মোট ২২টি স্থানে ¯্রােতের তোড়ে সড়ক ভেঙ্গে গিয়ে সড়ক পথের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিছিন্ন হয়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ৪০টি ব্রীজ ও কালর্ভাটের সংযোগ স্থলের ক্ষতি হয়েছে এবং হাওরপাড়ে ঢেউয়ে অন্তত ৩০টিরও বেশী ভিলেজ প্রেটেকশন লাইনে সমস্যা দেখা দিয়েছে কোনটি পুরো ভেঙ্গে গেছে। ভেঙ্গে ভেঙ্গে কয়েক দফায় নৌকাসহ মোটর সাইকেল দিয়ে যাওয়া আসায় ভোগান্তি যেমন বেড়েছে তেমনি খরচও বেশী হয়। টানা দেড় মাস বন্যা ও যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে ভোগান্তির চরম পর্যায়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানায় জেলায় মোট ৯০০ কিলোমিটারের মতো গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনো তৃতীয় দফায় সব জায়গা থেকে পানি না নামায় সম্পূর্ণ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এই ক্ষতির পরিমান আরো বাড়বে। বন্যার পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে এখন পর্যন্ত সড়ক গুলোতে যে ক্ষতি হয়েছে তাতে সড়ক মেরামত বাবদ অন্তত ৪শ কোটি টাকা লাগবে সড়ক গুলি মেরামত করতে।
সুনামগঞ্জের কাটাখালি এলাকার ব্যবসায়ী মোখলেছ মিয়া (৪৫) জানান, ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ সদরে যেতে ৫ জায়গায় ভাঙ্গণের ফলে ভেঙ্গে ভেঙ্গে যেতে হয়। এতে করে আগে যেখানে ১০০ টাকা সিএনটি ভাড়া দিয়ে আসা যাওয়া করা যেত এখন সেখানে খচর হচ্ছে ২০০ থেকে আড়াইশ টাকা। এতে করে ভোগান্তিও হচ্ছে।
একই এলাকার গফুর মিয়া (৫০) বলেন প্রথম দফা বন্যার ¯্রােতের পানিতে কাটাখালি ব্রীজের সাথে দুই থেকে তিনশ ফুট এলাকা ভেঙ্গে গেছে। এতে স্বাভাবিক চলা চলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ি-ঘরে কোমর পানি থাকার পরও গবাদি পশু নিয়ে কোথাও যেতে পারেননি। তাই দ্রæত সড়কটির মেরামতের দাবী জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ এলজিইজি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম সুনামগঞ্জে পরপর তিন দফা বন্যায় অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে জানান, এলজিইডির মোট ৪হাজার ৬৯০ কিলোমিটার গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক আছে। তার মধ্যে গত দুই দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছ। তার মধ্যে তৃতীয় দফা বন্যা শুরু হওয়ার পর রবিবার পর্যন্ত জেলার প্রায় ৯শ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতি হয়েছে। এখনো বেশীর ভাগ সড়কে বন্যার পানি থাকায় সম্পূর্ণ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পানি নেমে গেলে সঠিক ভাবে বলা যাবে আরো কি পরিমান ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যে ক্ষতি হয়েছে টাকার পরিমানে তা ৪শ কোটি টাকার মত লাগবে। আমরা কৃর্তপক্ষের কাছে সার্বক্ষণিক অবগত করছি। আমরা বরাদ্দ পেলে দ্রæত কাজ শুরু করবো। কারণ মানুষ খুব ভোগান্তিতে আছেন।
সুনামগঞ্জের চারটি পৌরসভা সুনামগঞ্জ, ছাতক, জগন্নাথপুর ও দিরাই পৌরশহর এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি সড়কের উপর থাকায় সড়কের বিটুমিন উঠে গিয়ে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। বালি, পাথর সরে গিযে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
একই ভাবে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপদের গত দুইদফা বন্যায়ই শুধু ২৫কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। সেখানেও প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে তৃতীয় দফা বন্যার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান এখনো জানা যায়নি।

 

 

চোখ রাখুন চ্যানেল ৩০ র ফেইসবুক পেইজে।
চোখ রাখুন চ্যানেল ৩০ র ফেইসবুক পেইজে।
Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.