মে ১২, ২০২১

বাংলাদেশে গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বেড়ে গেছে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ

১ min read
বাংলাদেশে গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড বেড়ে গেছে উল্লেখ করে এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্বসংস্থা জাতিসংঘ। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ারের সীমাবদ্ধতা ও নাগরিকদের বাক স্বাধীনতার অভাবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তা নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ-সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক আইনে ‘বিশেষ অবস্থায় বাল্য বিবাহ অনুমোদন’ দেয়ায় উদ্বিগ্ন তারা। তবে ২০১০ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি গ্রহণ, বাংলাদেশ গৃহকর্মী নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন,  ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী সুরা আইন এবং পুলিশ হেফাজতে আসামি নির্যাতন ও মৃত্যু নিরোধ আইনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে জাতিসংঘ। মানবপাচার রোধে ২০১২ সালে প্রণয়ন করা আইনেরও প্রশংসা করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেণ উঠে আসে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ৬ মাস আগে বিরোধী দলের এক নেতার তিন সন্তানের অপহরণ হওয়ার বিষয়টি। সে সময় জাতিসংঘের গ্রুপ ইনভলান্টারি এনফোর্সড ডিসাপেয়ারেন্স সরকারকে তাদের সন্ধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানায়। এক সপ্তাহ পরেই হাম্মাম কাদের চৌধুরী নামে তাদের একজন মুক্তি পায়। কিন্তু বাকি দুই ছেলে আইনজীবী মির আহমেদ বিন কাশেম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ হিল আমান আল আজমি এখনো রাষ্ট্রের কাছে বন্দি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। : জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশকে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখতে হবে।  ঘটনার শিকার নাগরিকদের যথাযথ সহায়তা দিতে হবে। অপহরণ ও গুম নিয়ে জাতিসংঘর কমিটি বলে, সরকারের উচিত গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান করা এবং তাদের আত্মীয়দের তদন্তের অগ্রগতি জানানো। : মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মতায় আসার পর বাংলাদেশের ১৩০০-এরও বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও ৩২৫টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বিএনপি সরকারের আমলেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়। তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই বিপুল পরিমাণ ঘটনা নিয়ে কাজ করার েেত্র বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে অভিযোগ জাতিসংঘের। প্রকাশিত মানবাধিকার প্রতিবেদনে জাতিসংঘ অভিযোগ করে, ‘বিশেষ করে পুলিশ, সামরিক বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে জড়িত সেখানে মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার সীমিত’। : জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাগরিকদের বাক স্বাধীনতার অভাবের প্রসঙ্গ। বহুল আলোচিত ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি আইনের আওতায় ২০১৬ সালে  ৩৫ জন সাংবাদিক, ব্লগার ও মানবাধিকার কর্মীকে আটক করা হয়েছে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করে সংস্থাটি। : এছাড়া সম্প্রতি বাল্য বিবাহ নিয়ে নতুন আইনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বিশেষজ্ঞরা জানান, আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে বাংলাদেশেরও নারীদের বিয়ের েেত্র ন্যূনতম বয়স ১৮ রাখা উচিত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি, বাক স্বাধীনতা রোধ ও বিশেষ অবস্থায় বাল্য বিবাহ অনুমোদনে বাংলাদেশ সরকারের পদেেপর সমালোচনা করেছেন। তারা এই বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। : তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বেশ কিছু পদেেপর প্রশংসাও উঠে এসেছে। তাদের  প্রতিবেদনে ‘ইতিবাচক দিক’ অধ্যায়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রণয়ন করা পাঁচটি আইনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১০ সালে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি গ্রহণ, বাংলাদেশ গৃহকর্মী নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন, ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী সুরা আইন এবং পুলিশ হেফাজতে আসামি নির্যাতন ও মৃত্যু নিরোধ আইনকেও ইতিবাচকভাবে দেখছে তারা। মানবপাচার রোধে ২০১২ সালে প্রণয়ন করা আইনেরও প্রশংসা করে জাতিসংঘ। ২০১১ সালে অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সুরা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ২০০৭ সালে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে সম্মেলন আয়োজনকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তারা। : :

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.