মে ৯, ২০২১

প্রেম বাজারে বিকে মানিক ও সোনারে, সিলেটের মরমী গান

১ min read

সিলেটের মরমী কবিরা তাদের গানের সুরে শত শত বছর ধরে মানুষের কথা বলছেন,  লোকসঙ্গীতই চিরায়ত বাংলার গান। বাংলার লোকসংগীতে সিলেট এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। গতকাল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বসেছিল সিলেটের মরমী গানের আসর। তাদের গানে ফুটে উঠল আধ্যাত্মবাদ, প্রেম ও বিরহের সুর।

দীন ভবানন্দ, শীতালং শাহ, শেখ ভানু, রাধারমণ দত্ত, হাছন রাজা, আরকুম শাহ, দূরবীণ শাহ, হেমাঙ্গ বিশ্বাস, শাহ আব্দুল করিম, জবান আলী, গিয়াস উদ্দিন আহমদ ও ইদম শাহের গান মন মজাল শ্রোতা-দর্শকদের।

বাংলাদেশের শিল্পীরা তো ছিলেনই, সিলেটের মরমী শিল্পীদের গান গাইতে এসেছিল কলকাতার নারীদের লোকগানের দল মাদল। গতকাল শনিবার ‘সিলেটের মরমী গান’ শিরোনামে এ আয়োজন করে রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র। আয়োজনটি উত্সর্গ করা হয় সদ্যপ্রয়াত রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত্ সেনগুপ্ত।

রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের শিল্পীরা প্রথমেই ধরেন হাছন রাজার ‘প্রেম বাজারে বিকে মানিক ও সোনারে’। এরপর তাদের কণ্ঠে আরো শোনা যায় রাধারমণ দত্তের ‘সজনী তোরা জল আনিতে যাবেনি’ ও ‘সুরধনীর কিনারায় সোনার নূপুর’, শাহ আবদুল করিমের ‘গান গাই আর মনরে বুঝাই’ এবং শীতালং শাহের ‘সুয়া উড়িল উড়িল জীবের জীবন’। এরপর মঞ্চে আসেন খায়রুল ইসলাম। তার কণ্ঠে শোনা যায় আরকুম শাহের ‘সোনার পিঞ্জিরা আমার’ ও জবান আলীর ‘প্রেমের মানুষ ঘুমাইলে চাইয়া থাকে’। এরপর বিশ্বজিত্ রায়ের কণ্ঠে শোনা যায় দীন ভবানন্দের ‘মথুরার সময় গেল গইয়ারে’, গিয়াসউদ্দিনের ‘মরিলে কান্দিস না আমায় দায়’ ও রাধারমণ দত্তের ‘কেমন আছে কমলিনী রাই’। এরপর মঞ্চে আসে সন্ধ্যার মূল আর্কষণ মাদল। দলটি একে একে গেয়ে শোনায়   ছয়টি গান। তারা গেয়ে শোনান রাধারমণ দত্তের ‘জলের ঘাটে দেইখ্যা আইলাম কি সুন্দর শ্যামরায়’, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ‘আসমানেতে দেয়া ডাকে’, শাহ আবদুল করিমের ‘আমার মন কান্দে প্রাণ কান্দেরে’, শেখ ভানুর ‘নিশীথে যাইও ফুল বনেরে ভ্রমরা’, বৌ নাচের গান ‘সোহাগ চাঁদ বদনী ধনি নাচতো দেখি’ ও দূরবীণ শাহের ‘কাইন্দ না কাইন্দ না গো রাই’। সব শেষে মঞ্চে আসেন মাদল’র প্রতিষ্ঠাতা তপন রায়। তার কণ্ঠে শোনা যায় হাছন রাজার ‘ছাড়িলাম হাছনের নাওরে’, ইদম শাহের ‘কান্দিয়া আকুল হইলাম’, রাধারমণ দত্তের ‘শ্যামকালিয়া সোনা বন্ধুরে’ ও শাহ আবদুল করিমের ‘আর জ্বালা সয় না’। উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও গানের দল মাদল’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. তপন রায়। রাধারমণ সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের সহ-সভাপতি ডা. হারিসুল হকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত্ রায়। আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন হাসান মাহমুদ।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘কলকাতার গানের দল মাদল একটি অসাধারণ দল। যা অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করে। তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ়। এ সম্পর্ক বাড়াতে সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে হবে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করে জনগণ। সে জনগণের মাঝে সেতুবন্ধ তৈরি করতে সংস্কৃতি অন্যতম বাহন।’

খেলাঘর জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উত্সবের সমাপ্তি

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে শেষ হলো খেলাঘর কেন্দ্রীয় আসর আয়োজিত তিন দিনের খেলাঘর জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উত্সব। শনিবার ছিল উত্সবের তৃতীয় ও শেষ দিন। এদিন সকাল ৯টা থেকে গণসঙ্গীত, লোকনৃত্য ও একক অভিনয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। খেলাঘর কেন্দ্র্রীয় আসরের সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা পান্না কায়সারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ ও শিল্পী মিতা হক।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বাবা মায়েরা আজকাল কোচিং কোচিং করে ছেলেমেয়েদের জীবন একেবারে শেষ করে দিচ্ছে। একটাই কথা, জিপিএ-৫ পেতে হবে। আর জিপিএ ৫ না পেলে সে কি বকাবকি! জিপিএ -৫ না পেলে তারা মনে করে, জীবন শেষ হয়ে গেল রে!

তিনি বলেন, আমি মুচলেকা লিখে দিতে পারি কোচিং করে কোনো লাভ হয় না। একটিই তো জীবন! এ সময় তো জীবনের সবচেয়ে মজা করার সময়। পড়াশোনা হবে আনন্দময়। যারা কোচিং করে না, তারাই তো আনন্দময় পরিবেশে এই জীবন উদযাপন করতে পারে।

শিল্পকলা একাডেমিতে শাড়ির প্রদর্শনী

শিল্পী কাজি গোলাম কিবরিয়ার হাতে রং করা ও বাটিকের নান্দনিক সাজে সজ্জিত শাড়ির ১৩ দিনের একক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার চার নম্বর গ্যালারিতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের প্রতিষ্ঠা অধ্যক্ষ সবিহ-উল আলম। সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান। এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পী কাজি গোলাম কিবরিয়া।

আলোচনা শেষে ?অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। পরে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে নন্দিত সাজে সাজানো শাড়িগুলো ঘুরে দেখেন। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে হাজারের বেশি আঁকা শাড়ি দিয়ে ‘বাংলার শাড়ি বাঙালির শাড়ি’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী সাজানো হয়েছে।

শাড়ির এ প্রদর্শনীটি আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দ্বার খোলা থাকবে।

কাবিননামার বিষয়ক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন আজ

‘উইমেন ইন কাবিননামা : এক্সপ্লোরিং কনজুগাল রিলেশনশিপ ইন কলোনিয়াল বেঙ্গল’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। বইটি লিখেছেন বিলকিস রহমান। আজ রবিবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর শাহবাগের পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি থাকবেন অধ্যাপক আশা ইসলাম, অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজ ও ডেইলি ইন্ডিপেনডেন্টের বার্তা সম্পাদক মীর মোস্তাফিজুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.