নভেম্বর ৩০, ২০২০

প্রতিরক্ষা চুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে দেশে জঙ্গি নাটক চলছে: গয়েশ্বর

১ min read

ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তি হলে বাংলাদেশ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। একই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজকেও আমার ভয় হয় যেভাবে ইনু সাহেব চিৎকার করে নানান কথা বলেন, আমার মনে হয়, তিনি শেখ মুজিবকে তো কবরে নিয়েছেন এখন তার মেয়ে শেখ হাসিনাকে কবরে না নিলেও কফিন পর্যন্ত নেবেন। তখনই তার চিৎকার শান্ত হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে য্বু জাগপার ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সামরিক চুক্তি-গোলামি চুক্তি, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। : গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, সরকার চুক্তির যৌক্তিকতা বোঝানোর জন্যই দেশে কয়েকটি জঙ্গির ঘটনা ঘটাবে বলে সাধারণ মানুষের ভাবনা। এই চুক্তির ফলে ভারতের সঙ্গে কোনো দেশের যুদ্ধ বাধলে তাদের দিয়ে বাংলাদেশও আক্রমণের শিকার হতে পারে। বাংলাদেশকে আক্রমণ করতে পারে এমন দেশটি কোথায় সীমান্ত এলাকায়, সেদেশটির ঠিকানা তো আমরা জানি না। আমাদের তিনদিকের সীমান্ত ভারতের সাথে আর দক্ষিণে সাগর। ভারতের সাথে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেবে এমন সম্ভাবনা কিন্তু নেই। তাহলে কী কারণে সামরিক চুক্তি বা স্মারক? আমাদের সেনাবাহিনী আছে, সামরিক বিশেষজ্ঞ আছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা আছেন, তাদেরকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে, তাদের সাথে কোনো আলাপ না করে, গোপনে-আড়ালে-আবডালে, কেন এতো দৌড়-ঝাঁপ, কী কারণে জরুরি হলো এই মুহূর্তে সামরিক চুক্তি বা স্মারক। : তিনি বলেন, আমাদের তিস্তা চুক্তি, গঙ্গার পানির হিসসা এসবের কোনো খবর নেই। আমরা মনে করি না, দেশের জন্য সামরিক চুক্তির প্রয়োজন আছে। সরকারকে বলব, এখনো সময় আছে, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বসুন, এখনো সময় আছে সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলেন, সকলের সাথে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করুন দেশটাকে বাঁচাতে। দেশটাকে যদি পৈতৃক সম্পত্তি মনে করেন, তাহলে এই পৈতৃক সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য জীবন দেয়ার জন্য প্রস্তুত হোন কিন্তু স্বাক্ষর করার জন্য ভারত যাবেন না। : পুলিশ-র‌্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যারও কঠোর সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, গোটা দেশটা আজ আশঙ্কা আতঙ্কে। দেশটাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করা হয়েছে, দেশটাকে কসাইখানা বানানো হচ্ছে, নীরবে-নিভৃতে শুধু মানুষ খুন, গুম, হত্যা। প্রতিবাদ করার কোনো লোক নেই, সবাই চুপচাপ। প্রতিবাদের ভাষাকে আমাদের শাণিত করতে হবে, আমাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। : জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, জঙ্গি-টঙ্গি শুনছি, এটা ভালো-মন্দ বুঝি না। হয়তবা আছে কিন্তু জনগণ বিশ্বাস করে না। মানুষ নানা ধরনের কথা বলে এবং তাদের কথা পত্রিকায় লেখা হয় না, আমরা কানে শুনি। জনগণের কোনো আস্থা নেই সরকারের প্রতি। সরকার যদি ভালো কাজও করে তাহলেও তারা (জনগণ) বলে আরে রাখ, এটার মধ্যে প্যাঁচ আছে। ভারতের সাথে সামরিক চুক্তির আগে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে। চুক্তিটা যে যৌক্তিক, এই যৌক্তিক করার জন্য কিছু একটা ঘটনা ঘটবে। দিস ইজ দ্যা পারসেপশন অব কমন পিপলস। ভারত-বাংলাদেশের সাথে সামরিক চুক্তি হবে, এই চুক্তিটি হওয়ার আগে কয়েকটা মহড়া দরকার আছে। কয়েকটি দিন দেখবেন চুপচাপ হয়ে গেছে- এটা সাধারণ মানুষের পারসেপশন। তাহলে কী বলবেন? : বিএনপির এই নেতা বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে একহয়ে জনমত গড়ে তোলা দরকার। এক্ষেত্রে আমাদের সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এটাকে মোকাবিলা করার জন্য এক হতে হবে। সেজন্য বছর খানেক আগে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার এটা গ্রহণ করেনি। : গয়েশ্বর বলেন, ঢাকায় ১৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটার পরও শেখ হাসিনা এখনো সচেতন না। এই মুহূর্তে দেশে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। ওরা সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যদিয়ে গণবাহিনীকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছেন। তারা সুযোগ নিয়েছে, ব্যর্থ হয়েছে। এগুলো ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে। : তিনি বলেন, আজকে যত সমস্যার কথা আমরা বলি না কেন সব সমস্যার সমাধান একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। যা আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে করেছিলাম। জনগণ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল। গণতান্ত্রিক চেতনা নিয়েই একটি সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনের জন্য কিন্তু সেদিন স্বাধীনতা যুদ্ধ করে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম। : গয়েশ্বর বলেন, আজকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আমরা যত সমস্যাই দেখি না কেন, সকল সমস্যার সমাধান কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। অর্থাৎ জনগণকে জনগণের ক্ষমতা দিতে হবে। জনগণকেই তার ভবিষ্যত প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা বলতে হবে। সুতরাং যে দেশে জনগণের ক্ষমতা কিছু ব্যক্তি ব্যবহার করে সেদেশে কখনো শান্তি আসতে পারে না। : আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ফাইজুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.