অক্টোবর ২৬, ২০২০

ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে ভারতীয় নারীকে বিবস্ত্র করার চেষ্ঠা

A-Plus mit Lufthansa

৩০ বছর বয়সী ভারতীয় এক নারী বেঙ্গালুরু থেকে আইসল্যান্ড যাচ্ছিলেন। জার্মানির ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে জামাকাপড় খুলে নগ্ন হতে বলেন। পরে ওই নারী তার স্বামীকে ডাকার জন্য জোরাজুরি করেন যিনি আইসল্যান্ডের নাগরিক। তাকে দেখে বিবস্ত্র তল্লাশি করা থেকে পিছিয়ে যায় নিরাপত্তা কর্মীরা। ঘটনাটি ২৯শে মার্চের। পরে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেন ওই নারী। তাতে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমারা বাদামি চামড়ার মানুষদের সঙ্গী ইউরোপীয়ান হলে কি আমাদের ওপর থেকে সন্দেহ চলে যায়?’ এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি। খবরে বলা হয়, ওই ঘটনার বিস্তারিত সামনে আসে আজ। এরপর জার্মানির ওই শহরের ভারতীয় কনসুলেট জেনারেলের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
বিমানবন্দরে বিব্রতকর অভিজ্ঞতার শিকার হওয়া ওই নারীর নাম শ্রুতি বাসাপ্পা। তিনি জানান, তাকে বিবস্ত্র হতে বলার আগেই ফুল বডি স্ক্যান সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সন্দেহ কাটেনি নিরাপত্তা কর্মীরা।
পেশায় আর্কিটেক্ট শ্রুতি ইউরোপে আছেন ছয় বছর ধরে। তিনি অভিযোগ করেছেন এটা স্পষ্টত ছিল ‘রেসিয়াল প্রোফাইলিং’। তিনি আরও বলেন আকস্মিক নিরাপত্তা তল্লাশিতে আলাদা করে নেয়ার সঙ্গে একপ্রকার অভ্যস্ত তিনি। তবে এ দফায় এক ধাপ বেশি অগ্রসর হতে উদ্যত হয়েছিল নিরাপত্তা কর্মীরা। শ্রুতি বলেন, ‘আমাকে বলা হলো, যা পরে আছি তা খুলে ফেলতে। হ্যা, কাপড় খুলে ফেলতে বলা হলো। এটাই কি এখন নতুন রীতি? আকস্মিক তল্লাশির সময় সমসময় লাইন থেকে আমাকে আলাদা করে নেয়া হয়। সেটাই কি যথেষ্ট ছিল না? এখন কি আমাকে এমন মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে যে আমাকে নগ্ন হতে বলা হতে পারে?’ ফেসবুকে এ মন্তব্য লিখেছেন তিনি।
বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মীদের অপ্রত্যাশিত নির্দেশের পর নিজের অবস্থানে অটল থাকেন শ্রুতি। পোশাক খুলতে অস্বীকৃতি জানান। তার স্বামীকে ভেতরে ডাকার দাবি জানান। শ্রুতি জানান, তার স্বামী আইসল্যান্ডের নিবাসী বুঝতে পেরে পাল্টে যায় তাদের কথার সুর ও আচরণ। বিবস্ত্র তল্লাশি পাল্টে যায় সাধারণ তল্লাশিতে।
বিবস্ত্র হওয়ার অনুরোধ ছাড়াও নিরাপত্তা কর্মীদের আচরণ পাল্টানো নিয়ে যারপরনাই বিরক্ত শ্রুতি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘হঠাৎ করেই আমি আর কোন হুমকির কারণ না, এটা কেমনতরো? ভাবতেও ভয় লাগছে আমি একা থাকলে বা আমার স্বামী ইউরোপিয়ান না হলে কি ঘটতো।’
ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে তল্লাশির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে এনডিটিভির মেইলের কোন জবাব এখনও পাওয়া যায় নি। তবে, শ্রুতির ফেসবুক পোস্টে ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট জবাব দিয়ে বলেছে, এমন চর্চা প্রচলিত নিয়ম বহির্বুত। ফ্র্যাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে তরফে বলা হয়, ‘আমরা এটা শুনে বিস্মিত হলাম। অবশ্যই এটা কারো জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকলের অংশ নয়। বিস্তারিত জানালে আমরা খুশি হবো। আসলে কি ঘটেছিল? কখন আর কোথায় তা হয়েছিল?’
এনডিটিভিকে শ্রুতি জানান, বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখনও তাদের কাছ থেকে কোন জবাব পাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.