ডিসেম্বর ২, ২০২০

আমার ছেলে কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশনে রায়হানের মা

সিলেট থেকে মিছলু:‘আমার ছেলে কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশনে রায়হানের মা

সিলেটে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদ নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে বিচারের দাবিতে অবশেষে সেই পুলিশ ফাঁড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন রায়হানের মা ও স্বজনরা।

রায়হান হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন নিহতের মা সালমা বেগম।

আজ সকাল ১১ ঘটিকা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনের রাস্তায় বসে পড়েন সালমা বেগম। এসময় আশপাশের বাসিন্দারাও তাদের সাথে একাত্মতা জানিয়ে অনশনে অংশ নেন।

অনশনে অংশগ্রহণকারীরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে অনশন শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল ‘আমার ছেলে কবরে, খুনি কেন বাইরে?’ ‘বোন বলে ডাকবে কে? আমার ভাইকে ফিরিয়ে দে’, ‘খুনি এসআই আকবরের ফাঁসি চাই’ লেখা পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। এর আগে, রায়হান হত্যার বিচারের দাবিতে টানা ১৩ দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।

গত ১১ অক্টোবর রায়হানকে হত্যার পর থেকেই পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে টানা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হচ্ছে। রায়হান হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে এরআগে সংবাদ সম্মেলনকরে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন মা সালমা বেগম। তাতেও কাজ না হওয়ায় আজ থেকে অনশন শুরু করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর (রোববার) ভোরে রায়হান আহমদ (৩৪) নামে সিলেট নগরের আখালিয়ার এক যুবক নিহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে প্রচার করা হয়, ছিনতাইয়ের দায়ে নগরের কাষ্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে নিহত হন রায়হান। তবে বিকেলে পরিবারের বক্তব্য পাওয়ার পর ঘটনা মোড় নিতে থাকে অন্যদিনে। পরিবার দাবি করে, সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান। ওই রাতেই পুলিশকে অভিযুক্ত করে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।
পরদিন রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

এরপর পুলিশের গঠিত কমিটির তদন্ত রিপোর্টে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায়। এই তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটুচন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। এ মামলায় ২০ অক্টোবর পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও ২৪ অক্টোবর কনস্টেবল হারুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন মুখর হয়ে পড়ে গোটা সিলেট। সিলেট মহানগর পুলিশকে নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এই সমালোচনার মুখে বুধবার (২২ অক্টোবর) মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়। আর এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভূইয়া ১২ অক্টোবর থেকে পলাতক রয়েছেন।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.