ডিসেম্বর ৫, ২০২০

বেগম খালেদা জিয়ার গনতন্ত্র মুক্তির সংগ্রাম

১ min read

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে আর ৩৬ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী ও সংক্ষিপ্ত জীবনের ইতিহাসের অনন্য উজ্জল নক্ষত্র।

 

স্বামী বীরউত্তম জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে হয়েছেন বিধবা…. ২১ বছরের দাম্পত্য ও ৭০ বছরের জীবনের পুঞ্জিকায় ৭১’র ২৫ শে মার্চ শহীদ জিয়ার পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও স্বাধীনতা ঘোষনার পর থেকে দুটি শিশুপুত্র নিয়ে ৯টি মাস পার করেছেন ক্যান্টনমেন্টের বন্দিত্বের চরম উৎকন্ঠিত যুগসন্ধি দিনগুলি, খুব কাছ থেকে দেখেছেন ৭৫’র ১৫ই আগষ্ট পরবর্তি ক্যান্টনমেন্টের ভিতর দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারনে আপন-স্বজনদের মতো সেনা অফিসার-জোয়ানদের মৃত্যু ও রক্তের হোলিখেলা, ৭৫’র ৩রা নভেম্বর থেকে ৭ই নভেম্বর চরম অনিশ্চিত জীবনের বন্দিত্বের শ্বাসরুদ্ধ সময়কাল, এরশাদের শাসনামলের সময় নির্বাসিত, নিজ গৃহে অন্তরিন সহ বহুবিদ প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এই ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে বসবাস করেই এরশাদের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আপোসহীন লড়াই করেছেন গনতন্ত্রের মুক্তির জন্য, কিন্তু ১/১১ এবং তৎপরবর্তি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, জাতীয় অখন্ডতা, সেনাবাহিনী-জনতার ঐক্যের ও জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রতিক ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের ৪০ বছরের শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত সেই ঐতিহাসিক বাড়ি থেকে উচ্ছেদিত হয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে আজকে গুলশানে। এই দেশের নানা পটপরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকা একজন বেগম খালেদা জিয়া নামক সাধারণ গৃহিণীর এই এক বিরল অদ্ভুত সংগ্রাম……….

 

তাঁর এতো পিচ্ছিল সংকটময় জীবনের পথ পরিক্রমায় হয়েছেন দেশের ফার্স্ট লেডি, হয়েছেন দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, যার ঝুলিতে এখন অবধি দেশের সর্বাধিক আসনে নির্বাচন করে অপরাজিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার গৌরব, যার জীবনে কোনদিন ব্যালটের রায়ে জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যান হবার ইতিহাস নেই। এখন সেটা চট্টগ্রাম হোক, লক্ষ্মীপুর হোক, নিজের জেলা ফেনী হোক আর স্বামী শহীদ জিয়ার জন্মস্থান জেলা বগুড়াতেই হোক না কেন। জনগণের কাছে সর্বসময় তিনি পেয়েছেন উষ্ণ ভালোবাসা ও অভ্যর্থনা। ৮১’র ৩০মে স্বামীর অকাল প্রয়াণের পর এসেছেন রাজনীতির উত্তপ্ত মরুভূমিতে, রাজপথের রৌদ্রের ক্ষরতাপে উত্তপ্ত পিচঢালা রাস্তায় বসে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটে সাধারন কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দুপুরের আহার করেছেন মাটির সানকিতে!!! কি ২১শে ফেব্রুয়ারী, ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর খালি পায়ে হেটেছেন শহীদ বেদী ও স্মৃতিসৌধে মাতৃভাষা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার মহান শহীদের প্রতি স্রদ্ধার্গ্য জানাতে এবং জনতার দাবি আদায়ে রৌদ্রস্নাত হয়েছেন রাজপথের সাহসী মিছিলে। আপোষহীনভাবে ৩৫ বছর ধরে দৃঢ় চিত্তে এগিয়ে যাচ্ছেন জাতীয়তাবাদের পতাকা হাতে নিয়ে শত ঝড়জঞ্জার বৈরি পরিস্থিতির মাঝেও সেই পতাকার মর্যাদা তিনি কোনদিন সামান্য ক্ষুন্ন হতে দেন নাই…..

 

যার দৃড়তা ও সংকল্পের কাছে হার মেনে ব্যারাকে ফিরে গেছে ট্যাংক-কামান সমৃদ্ধ খাকি রঙয়ের উর্দি ওয়ালারা, গনতন্ত্রের জন্য যিনি লড়েছেন দ্যার্থহীন অগ্মিমূর্তি  ভঙ্গিমায়, জেল-জুলুম, হুলিয়ার রক্ষচক্ষুকে উপেক্ষা করে যিনি তাঁর সারা জীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে অধিষ্টিত হয়েছেন গনমানুষের অফুরন্ত ভালোবাসায় সিক্ত দেশনেত্রীর আসনে। ৭০ বছরের জীবন সায়াহ্নে এসে এখনো লড়ছেন দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ও আগ্রাসনবাদী-তাবেদারদের বিরুদ্ধে। প্রিয় মাতৃভুমির সার্বোভৌমত্ব-জাতীয় স্বকীয়তার জন্য। যার জন্য হারিয়েছেন স্বামী, যার জন্য এই বৃদ্ধা বয়সে এসে দেখতে হয়েছে পুত্রের লাশ। টানা ৯ বছর অসংখ্য মিথ্যা নিবর্তনমূলক মামলা’র গানি টানছেন, কোর্ট-কাচারীতে প্রায় প্রতি সপ্তাহে ৭০ উর্দ্ধ বয়সে অসুস্থ শরীর নিয়ে!!! বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন প্রিয় সন্তানদের ছাড়াই

নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন, নির্জনে বুকের মধ্যে কি পরিমাণ পাথর চাপা দিয়ে একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে দেশনেত্রী হওয়া এই জনতার স্বোপার্জিত লৌহ মানবীর রূপে আবির্ভূত হতে পারেন অন্য কেউ কি??? আপনারা ভেবে দেখেছেন কি একবার???

 

একজন সাধারন গৃহবধু থেকে আজকের ১৮ কোটি মানুষের নয়নমনি, দেশমাতা, মাদার অব ডেমোক্রেসি ইত্যাদি উপাধিতে ভূষিত সাবেক ৩বারের প্রধানমন্ত্রী “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া” এটা শুধু একজন সাধারণ নারীর ভাগ্যচক্রে অসাধারণ হবার রুপগল্প নয়। “বেগম খালেদা জিয়া” এই নামটি অদ্যাবধি এই দেশের জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষনীয় উদ্দীপনার নাম, “বেগম খালেদা জিয়া” প্রবল শক্তির অপরাজেয় উন্নত মমশীরের নাম!!! যার কন্ঠ ভয়ে ভীত হয়ে বন্দুকের নল থেকে শুরু করে, স্বৈরাচারের কামান ও আগ্রাসনে কালোথাবা যেন অবনত মস্তকে থেমে যায় আপনা-আপনি। আজও তিনি সংকল্পবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী এবং প্রতিবাদী। অপরাজেয় আপোষহীনতার এমন এক অগ্নিমশাল। জে:এরশাদের শাসনকাল থেকেই তিনি যেন বাংলাদেশের রাজনীতির “একক পরশপাথর”, সেই ঐতিহাসিক ৭ দলীয় জোটভুক্ত অনেক অখ্যাত রাজনীতিক শুধুমাত্র এই খালেদা জিয়ার সাথে মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দেওয়ার কারনে এরশাদের নিকট মহামূল্যবানে বনে গিয়ে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন, তখন ছাত্রদলের একেকজন নেতাও ছিলেন এরশাদের নিকট মহাগুরুত্বপূর্ন, এমনটা দেখে মেনন-ইনু’রাও সেদিন আওয়ামী নেতৃত্বাধিন ১৫ দলীয় জোট ভেঙ্গে ৫দলীয় জোট তৈরী করে খালেদা জিয়ার সান্যিদ্ধে আসার জন্য কত কসরত করেছেন, সেই সুবাদেই রাশেদ খান মেনন ৯১’র সাংসদ হয়েছিলেন জীবনে প্রথমবার। আজও তারা সেই কলা বেচেই শেখ হাসিনার নিকট সমাদৃত হয়ে এবং মন্ত্রিত্ব করছেন। ৩৫ বছরের দীর্ঘ রাজনীতির মাঠের এই খালেদা জিয়া যারই মাথায় হাত রেখেছেন তিনিই হয়েছেন ধন্য, তাঁর আস্থা অর্জনকারীর অনেকেই তাঁকে চরম দূঃখ দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ৮০র দশকের শেষের দিকে বিএনপি’র প্রথম সারির প্রায় নেতারাই তো চলে গিয়েছিলেন, শুধু একজন বেগম খালেদা জিয়া একাই সেই টেকনাফ থেকে তেতুলীয়া-রুপসা থেকে পাথুরীয়া যেখানেই যিনি বক্তৃতার মঞ্চে উঠলে আজও লাখো কণ্ঠে একসাথে উচ্চারিত হতে থাকে—-দেশ গড়েছেন শহীদ জিয়া নেত্রী মোদের খালেদা জিয়া…..খালেদা জিয়া….খালেদা জিয়া….খালেদা……..

 

দেশনেত্রী দেখিয়েছেন দিয়েছেন অনেকদিন আগেই কিভাবে কঠিন শোককে অমিত শক্তিতে রুপান্তর করে জনতার সমর্থন অর্জন করে বিজয়ের অধম্য কাফেলাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়। আজ ২০১৭তে আমাদেরকে দেশনেত্রী’র জীবন সায়েন্স থেকে সেই শিক্ষা নিয়ে এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরনের মাধ্যমে আওয়ামী স্বৈরতন্ত্রের লৌহকপাট ভেঙ্গে গনতন্ত্রের বিজয়ের পতাকা উড্ডয়ন করতে হবে। উনার প্রতিনিধি/কর্মী হিসাবে দেশবাসির নিকট আমরা লক্ষ-কোটি প্রশ্নের সম্মুখে দাড়িয়ে আছি!!! আর এই লক্ষে শপথ নিয়ে দৃড়চিত্যে ভয়কে জয় করে সামনে আগালেই এক নতুন দিনের সূর্য-আলোর দেখা মিলবে। দ্যার্থহীনভাবে সংকল্পবদ্ধ থাকুন, আরেকবার প্রধানমন্ত্রী না বানিয়ে আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রীকে আমরা যেতে দিবো না, না ফেরার দেশে…..আমরাও ঘরে ফিরবো না……একজন আপোষহীন এহেন দেশনেত্রী’র জন্য এটাই হোক আমাদের কর্মীকুলের পক্ষ থেকে একমাত্র অঙ্গিকারের উপহার………

 

মোশাররফ হোসেন মসু–

সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক

ঢাকা মহানগর বিএনপি–ও

সাধারন সম্পাদক

সাবেক বৃহত্তর মিরপুর থানা বিএনপি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.