মে ৬, ২০২১

ইসলামের খেদমতে বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরস্মরণীয়- মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী

১ min read

বিশেষ প্রতিনিধি সৈয়দ মহিউদ্দিন রনি:: ১০ জানুয়ারী রোববার ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেটের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তাঁর অবদান শীর্ষক আলোচনা সভায় রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস বলেন- সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির অনন্য উদহারণ আমাদের এ দেশ, এ দেশে ইসলামের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে ভালবাসা দিয়ে উদারতা দিয়ে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম কোন ধরণের ফ্যাসাদ অনুমোদন করেনা। হযরত শাহজালাল (রহ.) থেকে নিয়ে যে সব ওলী আউলিয়া ইসলামের প্রচার করেছেন তারা সকল ধর্মের মানুষকে মিলেমিশে থাকার আদর্শ দেখিয়েছেন । তাদের আদর্শ দেখে এ দেশের লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেছে। জোর করে কাউকে ইসলাম ধর্মে আনা হয়নি।

বঙ্গবন্ধু এ দেশের হিন্দু বৌদ্ধ, খৃৃষ্ঠান সহ সকল ধর্মের লোকদের নিয়ে একটি উজ্জল সম্প্রীতির দেশে গঠন করেছিলেন। ইসলামের খেদমত করে বঙ্গবন্ধু যে অবদান রেখে গেছেন তা চিরস্মরণীয়। তিনি ইসলামের প্রচার প্রসারের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্টা করেন। কাকরাইল মসজিদে জমি দান করেন, টঙ্গিতে ইজতেমার জন্য জায়গা দেন। প্রথম রাশিয়াতে তাবলিগের জামাত প্রেরণ করেন। বঙ্গবন্ধুৃ যেভাবে ইসলামের জন্য কাজ করেছেন তার উত্তরসুরী আজকের প্রধানমন্ত্রী ও নিবেদিতভাবে ইসলামের খেদমতে অবদান রেখে যাচ্ছেন। সেই সাথে দেশকে আজ উন্নয়নের রোলমডেলে রুপান্তরিত করেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ, মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণ, মেট্রোরেল ও সিপোর্ট স্থাপন সহ অনেক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। আজ দেশে আযানের ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা ইসলামের খেদমতে যে কাজ করে যাচ্ছেন তা সহজ সরল মানুষের কাছে পৌছে দিতে ইমাম সাহেবদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অতিথিবৃন্দ বলেন- বঙ্গবন্ধু জীবনের সিংহভাগ সময় দেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য কারাগারে কাটিয়েছেন। স্বাধীনতার জন্য তিনি অর্ধেক জীবন পরিবারের সান্নিধ্য পাননি। তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন অন্যায়ের প্রতিবাদকারী। বঙ্গবন্ধুর অনবদ্য সৃষ্টি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্টা। এর মাধ্যমে আজ ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচার হচ্ছে। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার পথ অনুসরণ করে দেশে ৫৭০ টি মডেল মসজিদ প্রতিষ্টা করতে যাচ্ছেন, যা বিশ্বে বিরল। দেশের ৯৩% মুসলমানের মুখপাত্র হচ্ছেন আলেম সমাজ। মাদক ও জঙ্গীবাদ যাথে সমাজে বিস্তার করতে না পারে এবং আমাদের আচার-আচরণে যাতে কেউ কষ্ট না পায় সর্বোপরী সম্প্রীতির সমাজ নির্মাণে আলেম উলামা ও ইমামবৃন্দকে ঈমানী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এনডিসির সভাপতিত্বে শৃুরুতেই কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন মুফতি মামুনুর রশীদ। মাওলানা জুবাইর আহমদ আল আযহারীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেটের পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ পরিচালক (উপসচিব) মীর মাহবুবুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক একেএম ফজলুর রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান ইমামবৃন্দের প্রতি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস দেশের সহজ সরল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল সত্য ও ন্যায়ের। সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আপনাদের ঈমানী দায়িত্ব।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.