মে ৬, ২০২১

ওসমানীনগরে বন্যা কবলিত রাস্তায় মাটি ভরাট ব্যতিত পিচঢালাই দেওয়ায়, এলাকায় প্রতিবাদ

সৈয়দ মুহিবুর রহমান মিছলু::সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের গহরপুর গ্রামে বন্যা কবলিত রাস্তায় মাটির কাজ না করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ উপেক্ষা করে পিচ ঢালাইর কাজ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আনসারী বাড়ী—খাঁ বাড়ীর রাস্তাটি তাদের ব্যক্তিগত রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে এই দুই বাড়ীর লোকজন চলাচল করে। তাদের পূর্বপুরুষের তৈরী রাস্তাটি কোন সরকারী রাস্তা নয়। এই রাস্তা বন্যার সময় পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ বছর মাটির কাজ করানোর পরিকল্পনা ছিল। উছমানপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার ফারুক আহমদ, রাস্তায় পিচ ঢালাইয়ের কাজ করেন। মাটির কাজে বাঁধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এলাকাবাসী জানান, গহরপুর গ্রামের ময়নাবাজার—লতিবপুর রাস্তা থেকে আমাদের বাড়ীর ব্যক্তিগত রাস্তা, যেটি আনসারী বাড়ী ও খাঁ বাড়ীর ব্যক্তিগত রাস্তা নামে পরিচিত। আমাদের পূর্ব পুরুষের তৈরী রাস্তাটি আমাদের ব্যক্তিগত জমি দিয়ে নির্মাণ করা হয়। এটি সম্পূর্ণ আমাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন কাঁচা রাস্তা। এটি প্রতিবছর বন্যার সময় পানির নিচে তলিয়ে যায়। এবছর এটি আমাদের ব্যক্তিগত টাকায় মাটির কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। এমতাবস্থায় ওসমানপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার ফারুক আহমদ আনুমানিক ৬০০ ফুট রাস্তার মধ্যে বিনা প্রয়োজনে আনুমানিক ৮০ ফুট রাস্তা ঢালাই করেন। বন্যা কবলিত রাস্তায় মাটির কাজ না করে পিচ ঢালাইয়ের কাজ না করার অনুরোধ করলে তিনি আমাদের কথার কোন ধরণের কর্ণপাত করেননি। আমাদের বাঁধা সত্ত্বেও তিনি এটি ঢালাইর কাজ করেন। যাতে আমরা মাটির কাজ না করাতে পারি। বর্ষাকালে রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাহাকে মাটির কাজ না করে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করানোর কারণ এবং আমাদের শতবাঁধা সত্ত্বেও কেন করানো হলো তা স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিল উত্তোলনের পর পিচ ঢালাইয়ের উপর মাটির কাজ করে দিবেন বা আমরা ব্যক্তিগত টাকায় মাটির কাজ করাতে তিনি সহযোগীতা করবেন। আর এখনি মাটির কাজ করতে হলে তার পিচ ঢালাই বাবত খরচ ১০ লক্ষ টাকা তাকে দিতে হবে। মাটির কাজ করানো না হলে এই রাস্তাদিয়ে বর্ষা মৌসুমে আমাদের নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এমতাবস্থায় আমাদের মনে হচ্ছে স্থানীয় মেম্বার জিগিস্বামূলক ভাবে বিনা প্রয়োজনে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করেছেন। যাতে আমরা মাটির কাজ না করাতে পারি। এবং বর্ষাকালে যাতায়াতে আমাদের বিঘ্ন হয়।
আনসারী বাড়ীর বোরহানুর রশিদ আনসারী বলেন, এই রাস্তাটি আমাদের পূর্বপুরুষের তৈরী ব্যক্তিগত রাপ্র ভাবে মাটির কাজে বাঁধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত রাস্তায় পিচ ঢালাইয়ের কাজ করেন। আমরা বাঁধা দিলেও তিনি আমাদের কোন কথা শুনেননি।
গহরপুর গ্রামের মিজান আনসারী জানান, পিচ ঢালাইয়ের দিনে আমরা উপস্থিত হয়ে বাঁধা দিলেও মেম্বার কোন বাঁধা মানেন নাই। উপরন্তু রাস্তার মাটির কাজ করাতে হলে তিনি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবী করেন।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট মেম্বার ফারুক আহমদ বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করেছি। মাটির কাজের প্রয়োজন হলে তারা করতে পারে, আমার কোন বাঁধা নেই।

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.