অক্টোবর ২৩, ২০২০

সুনামগঞ্জের এ কান্নার জন্য,গাফিলতির মূল কারণ তদন্ত করে দেখা হউক

১ min read

নতুন আলো ডেস্ক:: কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল  ফেব্রুয়ারিতে কিন্তু কাজ শুরুর আদেশই আসে ফেব্রুয়ারিতে। এর মধ্যেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে। প্রতিরক্ষা না থাকায় হু হু করে পানি ঢুকতে থাকে সুনামগঞ্জের হাওরে হাওরে। মুহূর্তেই তলিয়ে যেতে থাকে সুনামগঞ্জের সারা বছরের আহারের যোগান দেয়া বোরো ধান। হাওর ঘেরা সুনামগঞ্জের জীবন বাঁধা এই এক ধানেই। এ ফসলটা নিশ্চিন্তে ঘরে তুলতে পারলেই সুনামগঞ্জের পুরো বছরটা কাটে গানে-আনন্দে। এবার সব আনন্দ ভাসিয়ে দিয়ে হাওরের বাঁধ ভাঙা জল কান্না হয়ে দেখা দিয়েছে সুনামগঞ্জে। সুনামগঞ্জের এ কান্নার পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাফিলতিই মূল কারণ।

দেশের অন্যান্য এলাকায় একাধিক ফসল হলেও হাওরের জলরাশির মাঝে ভেসে থাকা সুনামগঞ্জে বোরো ধানই একমাত্র ভরসা। বোরো মৌসুমে সিলেট বিভাগে মোট যে পরিমাণ ভূমিতে ধানের চাষ হয় এর অর্ধেকই সুনামগঞ্জ জেলাতে। এ বছর সিলেট বিভাগের ৪ জেলা মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেই ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এবার সুনামগঞ্জে ২ লাখ ১৫ হাজার ৮১৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এর চেয়ে বেশি পরিমাণ ভূমিতে চাষ হওয়ায় কৃষকদের স্বপ্ন ছিল গোলা ভরে উঠবে ফসলে ফসলে। এবারের বোরো মৌসুমে সিলেট বিভাগ থেকে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি ফসলই আসার কথা ছিল সুনামগঞ্জ থেকে। হাওরের জলে ভেসে গেছে কৃষকের সকল স্বপ্ন। সিলেটস্থ কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মামুন উর রশীদ জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৯ হেক্টর জমির বোরো ফসলের ক্ষতি এখন পর্যন্ত নিরূপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল সুনামগঞ্জেই ৯৭ হাজার ৮৬২ হেক্টরের ফসল ভেসে গেছে বানের জলে।
কৃষকদের স্বপ্ন সফলে সরকারের তরফ থেকে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৪৮টি হাওর রক্ষা, সংস্কার ও নতুন বাঁধের বরাদ্দ ছিল ৫৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবরে টেন্ডার হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যাদেশ দিতে টালবাহানা করতে থাকে। ১৫ই ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি। কাজ যখন শেষ হওয়ার কথা তখন আসে কার্যাদেশ। যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের কাজ অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় সিলেট বিভাগজুড়ে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। প্রতিরক্ষা না থাকায় সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে দ্রুতগতিতে পানি প্রবেশ করতে থাকে। একে একে তলিয়ে যেতে থাকে হাওরজুড়ে বিস্তৃত ফসলি জমি। মাটিয়ান হাওর, চন্দ্রসোনারথাল, ধানকুনিয়া, ছায়ার হাওর, দেখার হাওর, করচার হাওর, কালিকুটার হাওরের পুরো ফসল ভেসে যায় বাঁধ ভাঙা জলে। ভেসে যায় শনির হাওরের এক তৃতীয়াংশ ফসলও।

সুনামগঞ্জে বড় আকারের ৩৭টি হাওরসহ মোট ৪২টি হাওরে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে এবং ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২২৫টি প্যাকেজে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে ছায়ার হাওরের ৫টি প্রকল্পের আড়াই কোটি, শনির হাওরে বাঁধ মেরামতে ৫০ লাখ, মাটিয়ান হাওরে  সাড়ে ৩৩ লাখসহ ছোটবড় বেশ কয়েকটি কাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ।
হাওরে পানি প্রবেশের পর জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় পাউবোর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। তিনি এ সর্বনাশের জন্য পাউবোকেই দায়ী করেন। বললেন, কার বা কাদের গাফিলতিতে ফসলহানির এমন ঘটনা ঘটলো তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, স্থানীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টির তদন্ত হবে বলে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ঘোষণা দিয়েছেন।
শুধু জেলা প্রশাসকই নন খেপেছেন মন্ত্রী-এমপিরাও। গত রোববার অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের উপস্থিতিতে সুনামগঞ্জের এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা ফসলডুবির পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু কর্মকর্তা, বাঁধের কাজের ঠিকাদার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) গাফিলতি দায়ী করেন।

সূত্র: মানবজমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.