মে ৬, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ফ্লয়েড হত্যায় ডেরেক চৌভিন দোষী সাব্যস্ত, ৪০ বছর জেল হতে পারে

১ min read

ডেস্ক রিপোর্ট::যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে প্রকাশ্য রাজপথে গলায় হাঁটু চেপে ধরে ফ্লয়েডকে হত্যা করা হয় গত বছরের মে মাসে

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে চৌভিন ৪০ বছর কারাদণ্ডাদেশ পেতে পারেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনের খবরে মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে গত বছরের মে মাসে ডেরেক চৌভিনের হাতে নিহত হন জর্জ ফ্লয়েড। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ শিরোনামে এ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে যায়।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি আদালত তিনটি অভিযোগেই ডেরেক চৌভিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এগুলো ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ অনিচ্ছাকৃত খুন, ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুন এবং ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ নরহত্যা। আইন অনুযায়ী ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ অনিচ্ছাকৃত খুনের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুনের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হয় ২৫ বছরের। অন্যদিকে ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’ নরহত্যার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ হাজার ডলার জরিমানা।

আদালত রায় ঘোষণার সময় জানিয়েছেন, পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে চৌভিনের কারাদণ্ডাদেশ ঘোষণা করা হবে।

দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণার সময় ডেরেক চৌভিনকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আদালত রায় ঘোষণার পর তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

জাল নোট ব্যবহারের অভিযোগ এনে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনের বাসিন্দা জর্জ ফ্লয়েডকে (৪৬) গত বছরের ২৫ মে আটক করে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের পুলিশ। আটকের পর ডেরেক চৌভিন নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড় হাঁটু দিয়ে সড়কে চেপে ধরেন। এ সময় ফ্লয়েড বলতে থাকেন, ‘দয়া করুন, আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না। আমাকে মারবেন না।’ এক পথচারী ওই সময় ফ্লয়েডকে ছেড়ে দিতে পুলিশকে অনুরোধ করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফ্লয়েডকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জর্জ ফ্লয়েড মিনোপোলিস শহরের একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

 

বহুল আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে বেশ কয়েক দিন ধরেই আদালত এলাকাসহ মিনেসোটার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এই রায়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর-নগরে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ হতে পারে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

এ রায়ের পর একটুইট বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি লিখেছেন, বিচারকেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আরও বেশি কিছু প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় নাগরিক আন্দোলন শুরু হয় জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর। শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ-নৃশংসতার অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় নগরীতে পুলিশে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশি ব্যবস্থার জন্য রাজস্ব ব্যয় কমিয়ে আনা হয়। আমেরিকার পুলিশ ইউনিয়নগুলোর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ চলছে।

মার্কিন সমাজ ও পুলিশি ব্যবস্থায় জমে থাকা বিদ্বেষমূলক মনোভাবের বিরুদ্ধে নাগরিক আন্দোলনের সংগঠনগুলো এখনো প্রতিবাদমুখর। গত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারসহ নানা ধরনের নাগরিক আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হয়। নির্বাচনপরবর্তী সময়ে আমেরিকায় বেশ কিছু বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ লোকজনের মৃত্যু হয়। এসব কারণে এ মামলার রায় স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

 

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.