অক্টোবর ৩০, ২০২০

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোট হয়নি

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক:  হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোট হয়ে যায়নি। চিন্তাধারারও মিলমিশ হয়নি। হেফাজত ও কওমি মাদরাসা দুটো এক জিনিস নয়। সরকার বাস্তবতা বিবেচনা করে কওমি মাদরাসার সনদে স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশের বাস্তবতা বিবেচনা করে রাজনীতি করছে আওয়ামী লীগ। গতকাল আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনের জবাব দিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। এ সময় তিনি বলেন, দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক যে বাস্তবতা রয়েছে এবং জাতির যে অনুভূতি রয়েছে, তাতে আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের সেই বাস্তবতা নিয়ে এগোতে হবে। বাস্তবতা মেনে যারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তারাই প্রগতিশীল রাজনীতি করেন। আমরা সেটা মেনে নিয়ে রাজনীতি করছি। কওমি মাদরাসার ১৪ লাখ ছাত্র-ছাত্রী এবং ৭০ হাজার কওমি মাদরাসা বাংলাদেশে আছে, এটা হলো একটা বাস্তবতা। এদের আমরা অবজ্ঞা করতে পারি না। তাদের আমরা সরকারি স্বীকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারি না। ভারতের সঙ্গে সামরিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, চীনের সঙ্গেও খালেদা জিয়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিলেন। তখন তো তা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সংসদে বা সংসদের বাইরে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি সে সময় সমালোচনা করেন নি। ভারতের সঙ্গে একই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করায় কেন এই সমালোচনা? ভারত তো আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করেছে এমন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করার সময় তো সমালোচনা হয়নি। সাধারণ সম্পাদক জানান, ভারতসহ ১৩টি দেশের সঙ্গে এ ধরনের সামরিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কোনো কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। এটা শুধু ভারতের সঙ্গে হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস  করবে, আওয়ামী লীগ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবে, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, এটা তাদেরই অভিযোগ বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই যে বেগম জিয়া, তারা তো ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। এদেশে ধর্ম নিয়ে তারা কত অধর্মের কাজ করেছে। আজকে উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি, এই শক্তির উসকানি দাতা কারা। এ দেশে এদের পৃষ্ঠপোষক কারা? এটা সবাই জানে। সারা দুনিয়া জানে। নতুন করে বলার কিছু নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে কোথায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়েছে তা জাতির সামনে প্রমাণ করুন। অন্যথায় করজোড়ে জাতির নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টির অপপ্রয়াসে বিএনপির এই ধরনের অসত্য, বানোয়াট ও দূরভিসন্ধিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং বিএনপি নেত্রীকে কোনো কিছু না জেনে, না বুঝে ‘অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে মারার’ অপরাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতিপয় অর্বাচীন ব্যক্তি ও দল সময়ে সময়ে এক ধরনের ‘ভারতীয় জুজু’-কে পুঁজি করে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির অপচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার এই নোংরা খেলা নতুন নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ভারত বিরোধিতার রাজনীতি’-র কৌশল বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সচেতন দেশপ্রেমিক জনগণ বিএনপির ভারতবিরোধতিার বহুল প্রচারিত এই ভাঙা রেকর্ড বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়া ও বিএনপির গাত্রদাহের নিগূঢ় রহস্য জানি। সম্প্রতি বাংলাদেশে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৩৬তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এ সম্মেলন ছিল যুগান্তকারী ঘটনা। এই সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে এক অনন্য গৌরবে অভিষিক্ত করেছে। যা কোনোভাবেই বিএনপি কিংবা তার মিত্রদের নিরাশ করেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য ছিল মিথ্যচার, অজ্ঞতা ও বিকৃত তথ্যে ভরপুর। এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের কোনো সারমর্ম ছিল না। তিনি কিছু চটকদার, বায়বীয় ও বানোয়াট তথ্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেছেন। যা একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। খালেদা জিয়ার মন্তব্য উদ্ভট, হাস্যকর ও স্ববিরোধী দাবি করে তিনি আরো বলেন, উনি এক দিকে বলছেন এই চুক্তি গোপনচুক্তি, আবার বলছেন- এই চুক্তির মাধ্যমে দেশ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে! আমার প্রশ্ন, গোপনই যদি হয়ে থাকে তবে উনি দেশ কেনা-বেচার বিষয়টি জানলেন কীভাবে? অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন ও এনামুল হক শামীম, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.