অক্টোবর ২৭, ২০২০

ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন : খালেদা জিয়া

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, স্বজাতির ইতিহাসৎ-ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দেয়ার জন্য চলছে নানা ফন্দি-ফিকির। বর্তমানে দেশজুড়ে চলছে এক ভয়াবহ দুর্দিন। তাই দেশের এই চরম সংকটকালে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জন্য সকল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। : বেগম খালেদা জিয়া বলেন, আজ পহেলা বৈশাখ ১৪২৪, বাংলা নববর্ষের এই উৎসবমুখর দিনে আমি দেশ-বিদেশের সকল বাংলাদেশিকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আবহমানকাল ধরে নতুন আঙ্গিক, রূপ, বর্ণ ও বৈচিত্র্য নিয়ে জাতির জীবনে বারবার ঘুরে আসে পহেলা বৈশাখ। অনন্তকাল ধরে গড়ে উঠা আমাদের ভাষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অহংকার মিশে থাকে নতুন বছরের শুভাগমনে। আমাদের হৃদয়ে উদ্ভাসিত হয় দেশমাতৃকার অতীত গৌরব ও ঐশ্বর্য। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিশালত্ব, শাশ্বত প্রাচীনতা পবিত্র এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ, তাই পহেলা বৈশাখের এদিনে এক উদ্দীপ্ত প্রেরণায় জেগে উঠে জাতির আত্মপরিচয়। প্রতিবছর নববর্ষ হিরন্ময় অতীতের আলোকে সম্মুখ পানে, অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে তাগিদ দেয়। : তিনি বলেন, নানা ঘটনা ও দুর্ঘটনার সাক্ষী ১৪২৩ সালের চৌকাঠ ডিঙ্গিয়ে ১৪২৪ সালের প্রভাতে অজানা কাল-প্রাঙ্গণের সীমানায় আমরা উপস্থিত হয়েছি। গত বছরের দুঃখ, অবসাদ, কান্তি, হতাশা ও গ্লানিকে অতিক্রম করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা নিয়ে এসেছে বাংলা নববর্ষ। বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ। বাংলা সন-তারিখ আমাদের প্রাত্যহিক জীবন, দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের অপরিহার্য অনুষঙ্গ, তাই এটি জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুদীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা ভাষা ও কৃষ্টির জমাট মোজাইককে ভেঙে ফেলার জন্য বিদেশি আধিপত্যবাদী প্রভুরা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মানুষে মানুষে শুভেচ্ছাবোধ ও সহমর্মিতা গণতন্ত্রের সারবত্তা, নানা মত ও পথের বৈচিত্র্যে ভরা বহুমাত্রিকতা আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির অন্তরাত্মা। সেই গণতন্ত্রকে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে বিদায় করে দেয়া হয়েছে একমাত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য। এ বছরের প্রথম দিনে আমি সকলের কল্যাণ কামনা করি। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ। বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে প্রবাহিত হোক শান্তির অমিয় ধারা, সবার জীবন হয়ে উঠুক সমৃদ্ধময়। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উৎসবের প্রাঙ্গণ ভরে উঠুক মানুষে মানুষে সম্প্রীতি ও ভালবাসায়, বৈশাখের বহ্নিতাপে সমাজ থেকে চিরতরে বিদায় হোক অসত্য, অন্যায়, অনাচার ও অশান্তি। নববর্ষের এই নতুন সকালে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে সকলের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং জাতীয় সকল পর্যায়ে সুখ ও শান্তি কামনা করি।  ১৪২৪ বাংলা সনের নতুন প্রভাতের প্রথম আলোতে আমি দেশবাসীকে আবারও জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভ নববর্ষ। : বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অপর এক বাণীতে বলেন, আজ পহেলা বৈশাখ ১৪২৪। বাংলা সনের প্রথম দিন। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে আমাদের অগণিত সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতীয় জীবনের এক উজ্জ্বল আনন্দময় উৎসব। এই উৎসব সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের অধিকারী। পহেলা বৈশাখ থেকেই শুরু হয় নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার আকুলতা। নতুন বছর মানেই অতীতের সকল ব্যর্থতা, জ্বরাজীর্ণতা পেছনে ফেলে নতুন উদ্দীপনা ও উৎসাহে সুন্দর সমৃদ্ধ আগামীর বিনির্মাণে এগিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, নানা পালাবদলের মধ্য দিয়ে আমাদের পালন করতে হচ্ছে প্রিয় বাংলা নববর্ষ। ফেলে আসা বছরের দুর্যোগ, দুর্বিপাক কাটিয়ে আমরা নতুন বছরে এগিয়ে যাওয়ার সোনালি সম্ভাবনা দেখতে পাবো বলে কামনা করি। জনগণের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা আবারও মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে সক্ষম হবো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এগিয়ে যাবো। ১৪২৪ বাংলা সনের প্রথম দিনের নতুন আলোতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট কায়মনোবাক্যে দেশের সকল মানুষের সুখ ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করি। বিএনপির এই নেতা বলেন, নববর্ষের এই নতুন সকালে মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে সকলের ব্যক্তিগত, পারিবারিক তথা জাতীয় সকল পর্যায়ে সুখ ও শান্তি কামনা করি। ১৪২৪ বাংলা সনের নতুন প্রভাতের প্রথম আলোতে আমি দেশবাসীকে আবারও জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শুভ নববর্ষ। : পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ-গোষ্ঠীসমূহের বাংলা নববর্ষের উৎসবে খালেদা জিয়ার বাণী    : বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ-গোষ্ঠীসমূহের বাংলা নববর্ষের উৎসব উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এক বাণীতে  বলেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের নানা নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ সামাজিক ও জাতীয় উৎসব-বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু ও চাংক্রান-২০১৭ ইং ও বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানাই। এই উৎসব ঐ এলাকার বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সহায়তা করে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তিনি বলেন, আবহমানকাল থেকে প্রত্যেক ক্ষুদ্র  জাতিগোষ্ঠী আনন্দঘন মুহূর্তের মধ্যে উৎসবগুলো পালন করে থাকে। হাজার বছর ধরে বাংলাদেশে নানা ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে মিলেমিশে একসাথে বাস করে আসছে। পরস্পরের মধ্যে সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছাবোধ আমাদের সুমহান ঐতিহ্য। উৎসবের মাধ্যমেই মানুষে মানুষে সকল বিভেদ-বিভাজনকে অতিক্রম করা যায়। সকল তিক্ততা ও গ্লানিকে ভুলিয়ে দেয় উৎসবের আনন্দ। উৎসব হচ্ছে সর্বজনীন, তাই যে কোনো জনগোষ্ঠীর উৎসব ক্ষুদ্র সীমানাকে বিস্তৃত করে। : বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যেই কেবল দেশের সকল নৃ-গোষ্ঠীর অভিন্ন সমতার ভিত্তিতে নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত হয়। বর্তমানে বাংলদেশের বিদ্যমান রাজনীতিতে গণতন্ত্র অনুপস্থিত, দেশে উন্নয়নের নামে চলছে একনায়কতন্ত্র। এ প্রতিকূল পরিবেশেও উৎসবের আনন্দ আমাদের সকলকে ভাগ করে নিতে হবে।  আগামী বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ সবার জন্য আনন্দবার্তা বয়ে নিয়ে আসুক। : অনুরূপভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑবিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ-গোষ্ঠীসমূহের ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ সামাজিক ও জাতীয় উৎসব-বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু ও চাংক্রান-২০১৭ ইং ও বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.