জুন ২৪, ২০২১

হাইকোর্টে নাম-দস্তখত জালিয়াতি মামলার আসামি হলেন সিলেটের হাজী হেলাল

১ min read

 নতুন আলো নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টে নাম-দস্তখত নকল করে রিট পিটিশন দায়ের করায় সিলেটে জালিয়াতি মামলার আসামি হলেন বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী হাজী হেলাল উদ্দিন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ শুক্রবার মামলাটি রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে- হাইকোর্টে জালিয়াতির ঘটনা বড় ঘটনা। বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে কোনো ভাবেই ছাড় পাবে না। সিলেটের টুকেরবাজারের মৎস্য আড়তদার হেলাল উদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি সিলেট শহরতলির টুকেরবাজারের হাজী সফাত উল্লাহ পেট্রোল পাম্পের স্বত্বাধিকারী। তার বিরুদ্ধে  জালিয়াতির এ মামলা দায়ের করেছেন নগরীর কানিশাইল আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দিনের ছেলে মাসুম আহমদ। মামলা দায়েরের আগে তিনি কোতোয়ালি থানায় একটি জিডিও করেন। ওই ডিজিতে তিনি উল্লেখ করেন- ‘আমাকে বাদী করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু ওই রিট সম্পর্কে আমি অবহিত নই কিংবা রিটের বিষয়বস্তু ও বক্তব্যের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ দায়ের করা মামলায় তিনি বলেন, তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। সিলেট নগরীর কানিশাইল রোডস্থ বিসমিল্লাহ শপিং কমপ্লেক্সে শাহজালাল গ্রোসারি সপ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি তার দুলাভাই মুরাদুর রহমানের মাধ্যমে জানতে পারেন তার নাম ঠিকানা, জাতীয় পরিচয় নম্বর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। ওই রিট পিটিশন নং- ৩৫৭৫/২০১৭ ইং। এজাহারে তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন তার পূর্বপরিচিত। এ কারণে টুকেরবাজার মৎস্য আড়তে একটি দোকান বিক্রির কথা বলে গত ১৫ই মার্চ ৩-৪ জন লোক নিয়ে হেলাল উদ্দিন কানিশাইলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসে। দোকান বিক্রির কথা বলে সে ওইদিন নগদ দেড় লাখ টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স এর ফটোকপি নিয়ে যায়। পরে হেলাল উদ্দিন সরলতার সুযোগ নিয়ে উচ্চ আদালতে তার নাম ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী কাজিরবাজার মৎস্য আড়তের বিরুদ্ধে ২৩শে মার্চ রিট পিটিশন করেন। মাসুম এজাহারে উল্লেখ করেন, হাইকোর্টে রিটের ব্যাপারে তিনি হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এজাহারে হাজী হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মাসুম আহমদ। গতকাল বিকেলে মামলার বাদি মাসুম আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতে যে রিট করা হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। সবকিছু নকল করে এ মামলা করা হয়েছে। এতো বড় ঘটনায় তিনি অবগত না হওয়ায় প্রথমে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে তিনি মামলা দায়ের করেছেন। মাসুম জানান, হেলাল উদ্দিন তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। টাকা নিয়ে দোকান কোটা দেয়ার কথা ছিল। এখন টাকাও নেই, দোকানও নেই। উল্টো সিলেটের কাজিরবাজারের মৎস্য আড়তদারদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানিয়েছেন- মাসুম আহমদ মামলা দায়ের করার সময় উচ্চ আদালতের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি প্রতারণা বলে প্রমাণিত হওয়ায় মামলা নিয়েছি। পরবর্তীতে তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেয়া হবে। ওসি জানান, উচ্চ আদালতে এ ধরনের জালিয়াতি করলে কেউ রেহাই পাবে না। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সিলেটের কাজিরবাজার মৎস্য আড়তদার সমিতির নেতারা জানিয়েছেন- হাজী হেলাল উদ্দিন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কাজিরবাজার মৎস্য আড়তদারদের বিরুদ্ধে গিয়ে দেখিয়ে কয়েক বছর আগে টুকেরবাজার এলাকায় আরেকটি আড়ত খোলেন। তিনি স্বতন্ত্রভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি সম্প্রতি আরেক জনের নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ শত্রুতামূলক ভাবে একটি ঐতিহ্যবাহী বাজারের সুনাম ধ্বংস করে চলেছেন। সেটি কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে সিলেটের মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সব সদস্য তার ওপর ক্ষুব্ধ। যে বাজার শতবর্ষ ধরে সিলেটে চলে আসছে সেটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কেউ-ই মানছেন না। এ কারণে তারা হাজী হেলাল উদ্দিনের জালিয়াতির বিচার দাবি করে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.