ডিসেম্বর ৩, ২০২০

ইবিতে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষক মতিয়ার এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষক মো. মতিয়ার রহমান এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৬ সালের ১৭ই জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যার বিভাগে তিনি প্রভাষক পদে যোগ দেন। গত মাসে তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।
দেশসেরা বিদ্যাপীঠে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়া একজন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠে। গতবছরের জুলাই মাসে তিনি নিয়োগ পেলেও সম্প্রতি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ায় বিষয়টি সবার নজরে আসে। মতিয়ার প্রশিক্ষণের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজে ঘেরা মফিজ লেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্জন এই স্থানটি হিংস্র প্রাণীদের অভয়ারন্য হিসেবে খ্যাত। যার কারণে স্থানটিতে লোকজনের আনাগোনা কম থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০১৪ সালে সেখানে শিক্ষক মতিয়ার ও বিসিএস ক্যাডার আজিজুল হক মামুনকে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিবুল ইসলাম সজিব। মতিয়ার তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। মামুন সোহাগ-নাজমুল কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। গণমাধ্যমে প্রশিক্ষণের ছবিসহ সংবাদ প্রচার হলে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। যার প্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ নেতা সজীবকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে ইবির তৎকালীন প্রক্টর ড. মাহবুবকেও অব্যহতি দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় মতিয়ারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তার রেজাল্টও আশানুরূপ ছিল না। জানা যায়, একসময়ের ছাত্রলীগ নেতা মতিয়ারকে নিয়োগ দিতে মরিয়া ছিল প্রশাসন। সিলেকশন বোর্ডে মতিয়ারকে নিয়োগ দেয়া নিয়ে বিরোধ হয়। পক্ষ-বিপক্ষ হয়। নানা আলোচনা সমালোচনার পর মতিয়ারকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। যার কারণে তখন মতিয়ারের চেয়ে রেজাল্ট ভালো আরও ৭জনকেও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করে বোর্ড। যা পরে সিন্ডিকেট অনুমোদন করে। এদিকে এক সঙ্গে এতো জনকে শিক্ষক হিসেবে ওই বিভাগে আগে কখনো নিয়োগ দেয়া হয় নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, মতিয়ারকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সে নিয়োগ পেয়েছে। সম্প্রতি মতিয়ার পদোন্নতিও পায়। এক্ষেত্রে তার পূর্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ করার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। অস্ত্র প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্ব্য করতে রাজি হন নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি‘র সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আগে শুনি নি। এখন খোঁজ নিচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এগুলোতো আগে শুনিনি। সিলেকশন বোর্ড কি বিষয়গুলো জানতো না? খোঁজ নিচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.