অক্টোবর ২৮, ২০২০

সিলেট মহানগর বিএনপিতে ক্ষোভ

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ একযুগ পর গঠিত সিলেট মহানগর বিএনপি’র কমিটি বিতর্কমুক্ত হতে পারেনি। সব বলয় থেকে নেতাদের নিয়ে ‘গণহারে’ পদোন্নতি দিয়ে কমিটি গঠন করা হলেও ক্ষোভ কমেনি। বরং রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা বজায় না রাখা, তৃণমূলের ত্যাগী নেতাদের  মূল্যায়ন না করাসহ নানা বিষয়ে শুরুতেই কমিটি কোন্দলের মুখে পড়েছে। খোদ কমিটির দায়িত্বে থাকা নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে বিভক্তিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১লা মে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নগরীর তাঁতীপাড়ায় জরুরী সভা হয়েছে। আর ওই দিন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ অংশের বৈঠক হয়েছে নগরীর আম্বরখানার একটি হোটেলে। সিলেটে সব চাপ মহানগর বিএনপির। জেলা বিএনপিতে ততোটা কোন্দল মাথা চাড়া দিয়ে না উঠলেও দীর্ঘ একযুগেও কোন্দলের ভেতর থেকে বের হতে পারেনি মহানগর বিএনপি। এই কোন্দলের কারণেই সরাসরি কাউন্সিলের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরীর শহীদ সুলেমান হলে কাউন্সিল হয়। ওখানে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক হন বদরুজ্জামান সেলিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক হন মিফতাহ সিদ্দিকী। কাউন্সিলের মাধ্যমে তিন সদস্যের গঠিত ওই কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ ছিল তিন মাসের মধ্যে। কিন্তু প্রায় ১৪ মাস পর গেলো সপ্তাহে ২৩২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর বাইরে আরও অর্ধশতাধিক সিনিয়র নেতাদের উপদেষ্টা পরিষদে স্থান দেওয়া হয়। এতোবড় কমিটি সিলেটে আগে কখনো হয়নি। বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন- গঠনতন্ত্র না মেনেই এতো বড় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর কমিটিতে ছাত্রদল থেকে অধিক সংখ্যক নেতাদের মহানগর কমিটিতে স্থান দেয়া হয়। এদিকে- মহানগর বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে ১লা মে এক জরুরি সভার ডাক দেন। ওই সময় কেবলমাত্র সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সম্পাদকরা, সাংগঠনিক সম্পাদকরা ও প্রচার এবং দপ্তর সম্পাদকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়। আর এই ঘোষণা থেকে মহানগর বিএনপি’র একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একাংশ দাবি করেন- জরুরি সভায় কিছু অংশকে ডাকা হলো আর কিছু অংশকে ডাকা হলো না সেটির কোনো অর্থ হয় না। ডাকলে সবাইকে ডাকতে হবে। অন্যথায় কাউকেই ডাকা যাবে না। এক্ষেত্রে তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অজ্ঞতাকেই দায়ী করেন। আর ওই বৈঠক আহ্বানের পর একাংশের নেতারা সরাসরি বিরোধী হয়ে ওঠেন। তারাও ১লা মে বিকালে নগরীর আম্বরখানা এলাকায় আরেকটি বৈঠক আহ্বান করেন। ওই বৈঠকের উদ্যোক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপি’র নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপি’র নতুন কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট হাবিবুর রহমান, ডা. নাজমুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. ছাইদুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক কামাল মিয়া, সদস্য মো. আমিনুর রশীদ খোকন, সহ-ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম আহমদ সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক সোহেল মাহমুদ, সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুক আহমদ, সহ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মনজুর হোসেন (মজনু), প্রশিক্ষণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুছ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক মো. আবদুুল আজিজ ছাড়াও কয়েকজন সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দু’টি পক্ষেও কোনো পক্ষের সভাতেই যোগ দেননি বেশ ক’জন নেতা। এ তালিকাতে আছেন সহ-সভাপতি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট শামীম সিদ্দিকী, সৈয়দ মঈন উদ্দিন সোহেল ও কাউন্সিলর দিনার খান হাসু, সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মাহবুব চৌধুরীসহ আরো বেশ ক’জন পদবিধারী নেতা। বিক্ষুব্ধ অংশের নেতারা দাবি করেন- সিলেট মহানগর বিএনপি গঠনে গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা করা হয়নি। পাশাপাশি যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটির বড় একটি ব্যর্থতা হচ্ছে- রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা রাখা হয়নি। এমনও দেখা গেছে অনেক ওয়ার্ডের সিনিয়র নেতাদের সদস্য না রেখেই কনিষ্টদের মহানগর কমিটির পদবিধারী নেতা করা হয়েছে। এতে করে জ্যেষ্ঠ নেতারা বিব্রত হয়ে পড়েছেন। তারা উদাহরণ দিয়ে বলেন- সিলেট নগরীর ২৭ ওয়ার্ডে অর্ধেকের বেশি ওয়ার্ডে বিএনপি’র তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নগরীর ১১ নং ওয়ার্ড, ১২ নং ওয়ার্ড, ২৬ নং ওয়ার্ড, ২৭ নং ওয়ার্ডে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে বিগত কাউন্সিলে অনেকেই সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকে সরাসরি ভোটে লড়াই করেছেন। তারা পরাজিত হয়েছেন। আবার তাদের যোগ্যতা অনুসারে পদবি বণ্টন করা হয়নি। আবার বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের উপদেষ্টা পরিষদে স্থান দেওয়া হয়েছে। এতে করে মহানগর কমিটির সিনিয়র নেতারাও বিব্রতবোধ করছেন। সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী গতকাল জানিয়েছেন- দীর্ঘ এক যুগ পর আন্দোলন-সংগ্রামের জন্যই বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেটি অনেক কাঙ্ক্ষিত কমিটি। কিন্তু পুরো কমিটিই ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। কমিটি গঠনে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। সেগুলো আগামী দিনে সিলেটে বিএনপি’র কার্যক্রমকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে। অনেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না, কিন্তু তার বড় পদে এসে গেছেন। আবার কেউ কেউ মামলার ঘানি টানছেন। কিন্তু তাদের কোনো মূল্যায়ন হয়নি। এসব নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে- এই ক্ষোভে দলে বিভক্তি নয়, বরং ভুল শুধরে চলার জন্য তারা কিছু প্রস্তাবনা খুব শিগগিরই কেন্দ্রে পাঠাবেন। এদিকে- সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম গতকাল জানিয়েছেন- গঠনতন্ত্র তো দলের প্রয়োজনে। সুতরাং দলের প্রয়োজনেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে সব বলয়ের নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের, সেটি আমরা করতে পেরেছি। এখন কিছুটা ক্ষোভ আছে। সেটিও আমরা জেনেছি। সুতরাং ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে প্রয়োজন হলে সংযোজন করা হবে। কারও মনে কষ্ট রেখে সিলেট মহানগর বিএনপি আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে চায় না বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.