অক্টোবর ৩১, ২০২০

তিস্তার পাল্টা আত্রাই, মোদী ও হাসিনাকে চাপ মমতার

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক:এবার তিস্তার পাল্টা হিসাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আত্রাই নদীর পানি আটকানোর অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে বুধবার তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতর আত্রাই নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে এ জেলার মানুষ প্রচণ্ড সমস্যায় পড়ছেন। আত্রাই নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। জেলাশাসক থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি সবাই আমাকে এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। আবার কোনো সময় যদি হঠাৎ করে পানি ছেড়ে দেয় তাহলে এদিককার জমির ফসল ডুবে যাবে।’ কেন্দ্রের কোর্টে বল ঠেলে দিয়ে তিনি জানান, আত্রাই নদীর উপর বাংলাদেশ বাঁধ দিলেও সেটা চুক্তিতে নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন বালুঘাটের তৃণমূল সংসদ সদস্য অর্পিতা ঘোষ। তার জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি রাজ্যকেই দেখতে হবে। যদিও এটা কেন্দ্রের দেখার কথা। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলতে খুব শীঘ্রই দিল্লি যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। আত্রাই নদীর সমস্যা নিয়ে অভিযোগ করলেও বাংলাদেশকে এ দিনও বন্ধু-দেশ বলে মন্তব্য করেছেন মমতা। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তাবিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি আদায়ের জন্য মমতার উপর প্রবল চাপ তৈরি করছে মোদী সরকার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মমতাকে এ বিষয়ে অনুরোধ করেছেন। ফলে এ নিয়ে রীতিমতো চাপে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এ অবস্থায় হাসিনা ও মোদীর উপর পাল্টা চাপ তৈরি করতেই আত্রাই নদীর পানিবন্টন ইস্যুকে নতুন করে খুঁচিয়ে তুলেছেন মমতা। বুনিয়াদপুরে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি’র প্রপিতামহরা এলেও আমাকে কিছু করতে পারবে না। পারলে আমার দলের নেতা-মন্ত্রীদের জেলে ঢোকাক। আমাকেও গ্রেপ্তার করুক। সিবিআই-ইডি’কে দিয়ে গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না।’ গ্রেপ্তারির আশঙ্কাকে তিনি যে কোনো আমল দিচ্ছে না, তা বোঝাতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই ওদের কাছে মাথা নত করব না।’ আধার কার্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা, ‘আধার কার্ড থেকে কার কী রোগ হয়েছে, সেটাও জেনে যাবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কার কত টাকা জমা রয়েছে সেটাও জেনে যাবে। প্যান কার্ডের নম্বরও পেয়ে যাবে। সেটা দিয়ে চোরেরা সব টাকা তুলে নেবে। এবার কি তাহলে কান, পাকস্থলি, যকৃতেরও আধার কার্ড করাতে হবে!’ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা তুলে দেয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে আর্সেনিক ও ফ্লুরাইড মুক্ত পানীয় জল পরিষেবা। এর ফলে বংশীহারি, গঙ্গারামপুর, তপন, কুশমণ্ডিসহ বিভিন্ন ব্লকের কয়েক হাজার মানুষ পরিস্রুত পানি পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.