অক্টোবর ২৭, ২০২০

ইন্টারনেটে যৌনতা, অশ্লীলতার ভয়াল বিস্তার

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক:ইন্টারনেটের বদৌলতে যেমন নানা ইতিবাচক কাজে এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে পড়ছে বিরূপ প্রভাব। যেন আশীর্বাদ হয়ে যাচ্ছে অভিশাপ। বিটিআরসি’র তথ্যানুসারে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ২২ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে একশ্রেণির মানুষকে টার্গেট করে নানা নগ্নতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ইন্টারনেটে। ইন্টারনেটে লাইভে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে একশ্রেণির নারী নিজেদের শরীর প্রদর্শন করছেন। নানা আপত্তিকর কথা বলে ভিউয়ার্স বাড়াচ্ছেন। নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করেন তারা। অন্যদিকে, শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ছেড়ে দেয়া হচ্ছে ইন্টারনেটে। সহজেই ইন্টারনেটে পণ্যসামগ্রীর মতো বিক্রি হচ্ছে শরীর। কলগার্লদের ভাড়া করা যাচ্ছে ইন্টারনেটে। সবকিছু মিলিয়ে ইন্টারনেটের এসব নেতিবাচক দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে টিনেজ যুবরা। বিপথগামী হচ্ছে তারা। ঘটছে নানা বিপত্তি। সকলের অজান্তেই অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক জীবন। কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথ। এমনকি যৌন জীবনে বেপরোয়া হচ্ছেন অনেকে। রোগাক্রান্ত হচ্ছেন।
ইন্টারনেট থেকে আয় করার জন্য ইউটিউবে অবাধে বিভিন্ন চ্যানেল ওপেন করা হচ্ছে। এসব চ্যানেলের বেশির ভাগই যৌনতা নির্ভর। অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যক্তির অজান্তে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে এতে। এমনকি নিজেরা অশ্লীলতা নির্ভর বিভিন্ন শর্টফিল্ম তৈরি করে ছেড়ে দিচ্ছে নেটে। জাজ পট, রিয়েল ওম্যান, বাংলা গীতি, কাপুল রোমান্সম ফান এন্ড ফুল মাস্তি, বিডি ম্যাংগ, রাফ সেক্স, জামেছ ডেনটন, ডিজিটাল ইন্টারটেইনমেন্ট… এরকম নানা নামে-বেনামে ছড়িয়ে আছে ইউটিউব চ্যানেল। এরকম একটি চ্যানেলের এডমিন মাসুদ সেজান জানান, একটা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়েই চ্যানেলটি ওপেন করেছেন তিনি। এটি পপুলার হলে এতে বাণিজ্যিক বিভিন্ন ভিডিও, বিজ্ঞাপন প্রচার হলে লাভবান হওয়া যাবে। তাছাড়া গুগল থেকেও আয় করা যাবে। এজন্য নানা ভিডিও আপলোড করেন তিনি। নগ্ন ভিডিও কেন আপলোড করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো বিভিন্ন সাইটে আছে। নতুন কিছু না। এটা অপরাধের কিছু না বলেই মনে করেন তিনি।
প্রায়ই ইন্টারনেটে অন্তরঙ্গ মেলামেশার দৃশ্য ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এরকম একটি ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে বারবার ধর্ষণ করা হচ্ছিল টাঙ্গাইলের কালিহাতির মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে। গত ৩১শে মার্চ সুমি আক্তার নামের ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করে। জানা গেছে, প্রতিবেশী রনির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সুমির। বিয়ে ছাড়া সবসময় সুমিকে ভোগ করার জন্য কৌশলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেছিল রনি। সুমি যখন সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় ঠিক তখনি আসে ভিডিও প্রসঙ্গ। ইন্টারনেটে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। হুমকি দিয়ে প্রায়ই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতো রনি। এই যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে শেষ পর্যন্ত সুমি বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। একইভাবে এক টিভি অভিনেত্রীর একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছিল অনেক আগে। যে কারণে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে এই অভিনয় শিল্পীকে। ব্ল্যাকমেইল করার জন্য যেমন ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে তেমনি স্বেচ্ছায় নগ্ন ভিডিও প্রচার করছেন অনেকে। এরকম অনেক ভিডিও পাওয়া যাচ্ছে ইউটিউবে। পুরো শরীর নগ্ন করে দেখানো হচ্ছে এসব ভিডিওতে। এমনকি নাচের নামে উলঙ্গ নৃত্য। বিভিন্ন যাত্রা মঞ্চের অশ্লীল নাচের দৃশ্যও প্রচার করা হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে গিয়ে শরীর প্রদর্শন করছেন অনেক নারী। তাদের ভিউয়ার্সও কম না। লাখ-লাখ ভিউয়ার্স রয়েছে শরীর প্রদর্শনকারী নারীদের। তারা মডেল, অভিনয় শিল্পী, ফিল্মের আইটেম গানের নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিত। কারণে-অকারণেই ভিউয়ার্স বাড়ানোর জন্য নিজের শরীরকে পণ্যের মতো তুলে ধরছেন তারা। ভিউয়ার্সরা ব্যক্তিগত ফোনে, মেসেঞ্জারে, ই-মেইলে যোগাযোগ করছেন কাঙ্ক্ষিত তরুণীর সঙ্গে। কথা বলার পর কোনো কোনো তরুণী ডেকে নিচ্ছেন বাসায়, হোটেলে। অর্থের বিনিময়ে অন্তরঙ্গ সময় দিচ্ছেন।
ইন্টারনেটে সরাসরি কলগার্লও সাপ্লাই দেয়া হচ্ছে। এরকম অনেক সাইট রয়েছে। ঢাকা ইস্কট সার্ভিস, ফিমেইল ইস্কট সার্ভিস, স্পেশাল সার্ভিসসহ বিভিন্ন নামে। সেখানে দেয়া ফোনে, ই-মেইলে যোগাযোগ করলেই যথাস্থানে যেতে বলা হয়। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় আবাসিক ফ্ল্যাটে। যেখানে পণ্যের মতো অবস্থান করছে বিভিন্ন বয়সের নারীরা। ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজারের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য পাওয়া যাচ্ছে মডেল, তারকা হিসেবে পরিচিত তরুণীদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার পে করতে হয় ডলার-পাউন্ডে। চাইলে এই তরুণীদের বিভিন্ন বাসাতেও ডেকে আনা যায়। কেউ কেউ কলগার্লদের নিয়ে ভ্রমণেও বের হন। এরকম কয়েক ব্যবসায়ী ও কলগার্লদের সম্পর্কে তথ্যা পাওয়া গেছে। যারা প্রায়ই কক্সবাজার ও বান্দরবানে যাতায়াত করেন। সেক্ষেত্রে ফি একটু বেশি নেয়া হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একজন তরুণী জানান, র‌্যাম্পে মডেলিং করেন তিনি। তার মতে এই লাইনে কারও না কারও ডাকে বিছানা পর্যন্ত সাড়া দিতে হয়। যে কারণে এটাকে তিনি পেশা হিসেবেই নিয়েছেন। এটা একটা কাজ বলেই মনে করেন তিনি। সামাজিকতার কারণে গোপনে কাজটি করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সেবার বিনিময়ে আর্ন করছি। এটা উন্নত দেশগুলোতে অন্যান্য পেশার মতোই। নিজের ক্যারিয়ারের জন্য অনেকেই তা করছেন’ বলে জানান এই মডেল। তিনি জানান, তার কাছে যারা যান তাদের অধিকাংশই ফরেনার। তবে কখনও কখনও বিত্তশালীদের অনেক কম বয়সী ছেলেরাও তার কাছে যায়। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট একটা বড় সোর্স। এই মাধ্যমে অনেকে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট দালালের সঙ্গে। টাকা পে করার পরই দালালের মাধ্যমেই দেখা দেন তিনি। এই পেশার জন্যই রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় আবাসিক ফ্ল্যাট ভাড়া করে বসবাস করছেন এই তরুণী।
এছাড়াও ফেসবুকে চ্যাট করে, নগ্ন ছবি আদান-প্রদান হচ্ছে, খোলামেলাভাবে লাইভে কথা হচ্ছে। এসব ভিডিও, ছবি দিয়েই একপর্যায়ে ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা ঘটছে। এরকম ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়তই। কিন্তু মামলা হচ্ছে না সেভাবে। এ বিষয়ে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলশি কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে একটা শ্রেণি এর অপব্যবহার করছে। প্রতিদিনই আমাদের কাছে নানা অভিযোগ আসছে। কিন্তু যে হারে অভিযোগ আসে সে হারে মামলা হচ্ছে না। নানা কারণে মামলা করতে চান না ভুক্তভোগী নারীরা। তবে নানাভাবে তাদের আইনানুগ সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.