অক্টোবর ২৭, ২০২০

আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে বিএনপি হত্যাযজ্ঞ চালায়

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি দেশের কোনো উন্নয়ন করে না। দেশের উন্নয়নের পথ ধ্বংস করাই বিএনপির কাজ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন করে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে হত্যাযজ্ঞ চালায়। ২০০১ সালে বিএনপি কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ৭ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের পরিবারগুলোর ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। রামু-উখিয়ার বৌদ্ধমন্দিরে আগুন দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়ানো হয়েছে। কক্সবাজারের হিন্দুপল্লীর বাড়িঘরে আগুন দেয়াসহ পালপাড়া, টাইমবাজারে সংখ্যালঘুদের দোকান, বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। ২০ হাজার একর বনভূমি বিএনপি ক্যাডাররা দখল করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দুর্দিনেও থাকে না, উন্নয়নেও থাকে না। শনিবার বিকালে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমি শাসক না জনগণের সেবক হিসেবে বাংলাদেশ পরিচালনা করব। আমার বাবা দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, আমি জানি এটা আমার জন্য কঠিন পথ। কারণ এই মাটিতে আমার বাবা-মা-ভাইসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, একইদিনে মেজ ফুফুর বাড়ি ও সেজ ফুফুর বাড়িতে আক্রমণ করে তার স্বামী-ছেলেকে হত্যা করেছে, আমার ছোট ফুফুর বাড়িতেও আক্রমণ করে ফুফাকে না পেয়ে ফুফুকে গৃহবন্দি করেছে। এভাবে হত্যাযজ্ঞ চলেছে।
কক্সবাজারের উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের সামনে খালি হাতে আসিনি। অনেক প্রকল্প নিয়ে এসেছি। যে কাজগুলো ইতিমধ্যে সমপন্ন হয়েছে, সেগুলো উদ্বোধন করেছি। যেগুলো হবে, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি।
তিনি বলেন, আমরা ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারো কাজ শুরু করি। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেললাইনের জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রাস্তা ৪ লেনের প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। মহেশখালী দ্বীপে চর জেগেছে, সেসব এলাকা উন্নত করে কক্সবাজারসহ যেন বাংলাদেশ উন্নত হয় সে ব্যবস্থা করেছি। আমরা গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কাজ শুরু করেছি। শিল্পায়নের জন্য সারা বাংলাদেশে আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। টুরিস্ট জোন তৈরি করে দেয়া হবে। নাফ ট্যুরিজম কেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাঁশখালীতে অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ গড়ে তোলা হবে। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মেডিকেল কলেজসহ সরকারের গৃহীত প্রকল্প এই শহরকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। জনসভায় কক্সবাজারের মহেশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেকনাফে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন ও নাফ ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডুলাহাজারা থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পের কাজ ও কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লাইনে উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে। এসময় তিনি সোনাদিয়ায় সমুদ্রবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না গিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। তারা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে ১৬৫ জনকে হত্যা করেছে। পরিবহন খাতে ৫৫ জন চালক-হেলপারকে হত্যা করেছে, ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করেছিলাম। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি সেটা বন্ধ করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এখানে পর্যটক আসে, সেহেতু তাদের যাতায়াতের জন্য বিমান নিয়ে এসেছি। এই বিমান আজ কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম অবতরণ করলো। এই বিমানের মাধ্যমে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনার ঘোষণা দেন তিনি। বলেন, এই এয়ারপোর্টটি (বিমানবন্দর) জরাজীর্ণ ছিল, ’৯৬ সালে সরকারে এসে এটিকে উন্নত করে যাই। এই বিমানবন্দরকে উন্নত করার জন্য আরো কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। বিমানবন্দরটি যেন আন্তর্জাতিক মানের হয়, সে জন্য রানওয়ে প্রশস্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারবাসী অবহেলিত ছিল। যখনই কোনো দুর্যোগ দেখা দিয়েছে আমরা এসেছি, আপনাদের সেবা করেছি। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিএনপি নেত্রী জানতেন না। আমি সংসদে তোলার পর উনি (খালেদা জিয়া) বললেন, যত মরার কথা, তত মানুষ মরে নাই। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে? এরপর আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কুতুবদিয়ায় ছুটে এসেছিলাম। আসার পথে কঠিন অবস্থায় পড়তে হয়েছিল। রাস্তা ভাঙা ছিল। এরইমধ্যে এসে সমস্ত দ্বীপাঞ্চল ঘুরে ঘুরে রিলিফ ওয়ার্ক করেছি। তখন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের কেউ আসেনি। কুতুবদিয়াতে লাশের পর লাশ পড়ে ছিল। নেভির লোক কোনোভাবে লাশ দাফন করেছিল। সেইদিনই সেনাবাহিনীর একটি দল এসেছিল। প্রত্যেক এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের লাশ, শিশুর লাশ আমি নিজে দেখেছি। সাপ, গরুর লাশ, ছোট্ট শিশুর লাশ ভেসে ভেসে আসছে। সেই বীভৎস দৃশ্য। যতটা পেরেছি মানুষকে সহায়তা করেছি। রিলিফ দিতে এসে হুমকির সম্মুখীন হয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করে, তারা জনগণের কথা ভাবে না। তারা ক্ষমতা ভোগ করে আর কিছু এলিটকে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে বলেন, ইসলাম শান্তির, সৌহার্দ্যের ধর্ম। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। আত্মঘাতী বোমা হামলা করে, আত্মহত্যা করে কেউ জান্নাতে যেতে পারে না, জাহান্নামই এদের জন্য উপযুক্ত স্থান। তিনি বলেন, কোনো ভাবেই জঙ্গিবাদ বরদাশত করা হবে না। ইয়াবা প্রসঙ্গে বলেন, কক্সবাজারের বদনাম রয়েছে, এখান থেকে নাকি ইয়াবা সাপ্লাই হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। যেই এর সঙ্গে জড়িত তাকে শাস্তি পেতেই হবে।  প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের লেখাপড়া শিখতে হবে। মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা- তাদের দু’বোনের ৫ সন্তান সবাই উচ্চ শিক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের বলেছি, তোমাদের কিছুই দিয়ে যেতে না পারলেও লেখাপড়া শিখিয়েছি, উচ্চ শিক্ষিত করেছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বোয়িংয়ে চড়ে সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেন। কক্সবাজারের সমপ্রসারিত রানওয়ে ব্যবহার করে নামার পর বিমানবন্দরে বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন করেন। এছাড়া কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের উদ্বোধন, দুটি এলএনজি টার্মিনালের ভিত্তিফলক উন্মোচনসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী একযোগে সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও নয়টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধন করা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস, কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন কাম এক্সামিনেশন হল, কক্সবাজার সরকারি কলেজের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব মহিলা কলেজ, উখিয়ার দ্বিতল একাডেমিক ভবন ও মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন। আর যে নয়টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, সেগুলো হলো কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প এলজিইডি অংশের আওতায় কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলাধীন বাঁকখালী নদীর ওপর খুরুস্কুল ঘাটে ৫৯৫.০০ মিটার দৈর্ঘের পিসি বক্সগার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার আইটি পার্ক, এক্সিলাটে এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক নির্মিতব্য মহেশখালী ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, সামিট এলএনজি টার্মিনাল কো. (প্রা.) লি. কর্তৃক নির্মিতব্য কক্সবাজার মহেশখালীতে দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় এসপিএম (ইনস্টলেশন অব সিংগেল পয়েন্ট মুরিং) প্রকল্প, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, কুতুবদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস ভবন।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক ওবায়দুল কাদের, গণপূর্তমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সমপাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, প্রচার সমপাদক ড. হাছান মাহমুদ, কক্সবাজার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট একে আহমদ হোসেন, উখিয়া-টেকনাফের এমপি আব্দুর রহমান বদি, কক্সবাজার সদর আসনের এমপি সায়মুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, এমএ মনজুর প্রমুখ।
সৈকতে অনুষ্ঠানের পর সাগর জলে পা ভেজালেন প্রধানমন্ত্রী: কক্সবাজার-টেকনাফ ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন করে বেলাভূমিতে সমুদ্রে পা ভিজিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুর সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠান শেষ হলে শেখ হাসিনা  সোজা সৈকতে নেমে যান। সেখানে কিছুক্ষণ খালি পায়ে হাঁটেন তিনি, নামেন পানিতেও।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সড়কের উদ্বোধন করে সেখানে আয়োজিত সুধী সমাবেশেও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সেনাবাহিনী প্রধান আবু  বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌ-বাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন মোহাম্মদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরারসহ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এই সড়ক নির্মাণের জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল  কে এম মেহেদী হাসান জানান, এ সড়কের কারণে বিশ্ব দরবারে কক্সবাজার একটি সমৃদ্ধশালী পর্যটন শিল্প হিসেবে প্রকাশ পাবে। এ সড়কে ১৭টি ব্রিজ, ১০৮টি কালভার্ট রয়েছে। যেখানে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
প্রসঙ্গত, কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে  টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেরিন ড্রাইভ সড়কটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করছে  সেনাবাহিনীর প্রকৌশল নির্মাণ ব্যাটালিয়ন ১৬ ইসিবি। কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কটি নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প গৃহীত হয়। তখন প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। এ সময় সড়ক ও জনপদ বিভাগ কক্সবাজার কলাতলী পয়েন্ট থেকে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে। সওজ বিভাগের ঠিকাদার কর্তৃক নির্মিত কলাতলী মোড় থেকে পাইওনিয়ার হ্যাচারি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়ক সাগরের প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কা সামলাতে না  পেরে সাগরে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়  সেনাবাহিনীর প্রকৌশল নির্মাণ ব্যাটালিয়নকে। বর্তমানে সড়কটি ৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য থেকে  বেড়ে ৮০ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে নব উদ্যমে কাজ শুরু করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। কাজের গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের সদস্যরা মূল সড়ককে তিন ধাপে ভাগ করে প্রথম ধাপে কলাতলী থেকে ইনানী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে ইনানী থেকে শিলখালী পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার ও তৃতীয় ধাপে শিলখালী  থেকে টেকনাফের সাবরাং পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। সওজ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৪৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দে নির্মাণাধীন  মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পার্শ্বে থাকবে ওয়াক ওয়ে, পর্যটকদের সুবিধার্থে থাকবে সড়ক জুড়ে  ফ্রেক্সিবল পেভমেন্ট, শেড, গাড়ি পার্কিং ও মহিলা পর্যটকদের চেঞ্জিং রুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.