অক্টোবর ২৭, ২০২০

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিতে নানামুখী তৎপরতা, চাপের মুখে দুই নেত্রী

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক:জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে চলছে নানা তৎপরতা। দু’মেরুতে অবস্থানে থাকা ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পরস্পরকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন সময়ে নানা কৌশল অবলম্বন করলেও স্বস্তিতে নেই তারা। প্রধান দুই নেত্রীর ওপর নানামুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে। গত আট বছরে রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগের দিক থেকে বরাবরই শেখ হাসিনা সরকার অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশিদের চাপে সরকার যে কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের ওপরও চাপ বাড়ছে। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ওপর ক্ষমতাসীনদের নানামুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে এসবের চাপের পেছনে লক্ষ্য একটা নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের খেলা। নির্বাচন কমিশন, খালেদা জিয়ার মামলা, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার এবং জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার এই চার ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে চলছে বাকযুদ্ধ। নেতাদের বক্তব্যে যে ধরনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে তাতে, যে কোনো মুহূর্তে দেশের রাজনীতি আবারো সহিংস কিংবা সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে সম্প্রতি দুই মামলায় (জিয়া অরফানেজ এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) খালেদা জিয়ার (জেলে যাওয়ার মতো)সাজা হতে পারে এমন ধারণা এখন সবার মুখে মুখে। সরকার দলীয় শীর্ষ নেতানেত্রী এবং বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মুখেও উচ্চারিত হচ্ছে খালেদার জেলে যাওয়ার বিষয়টি। এ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা অপ্রকাশ্য গুঞ্জন। এমন কী কিছুদিনের মধ্যেই খালেদা জিয়া কারাগারে যেতে পারেন এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক পাড়ায় বেশ আলোচিত হচ্ছে। তবে বিদেশিরা এমন বিষয়টি খুব ভালভাবে দেখছে না। ফলে সবার অংশ গ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে তারা নানামুখী চাপ অব্যাহত রেখেছে। এ দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আর বেগম জিয়া কারাগারে গেলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। অপর দিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালতে প্রমাণ হলে খালেদাকে শাস্তি পেতেই হবে। আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করছেন বেগম জিয়াকে সাজা দেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই আওয়ামী লীগের। তবে আদালতে সাজা হলে তাদের আর কিছুই করার থাকবে না। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম জিয়াকে সরকারের শাস্তি দেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে এটি আদালতের বিষয়। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আবার কেউ কেউ ভারতের তামিলনাডুর শশীকলার উদাহারণ টেনে বলছেন শশীকলার জন্য যেমন তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রীর পথ থেমে থাকেনি, খালেদা জিয়ার জন্যেও প্রধানমন্ত্রীর পথ পড়ে থাকবে না। তিনি আরো বলেছেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এ দিকে খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। তাদের মতে, এমন অঘটন ঘটলে দেশের রাজনীতির পরিস্থিতি আরো নাজুক হতে পারে। নতুন করে সহিংস হয়ে উঠতে পারে দেশের রাজনীতি। এ বিষয়ে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, এসব মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হলে রাজনীতিতে একটা মন্দ নজীর স্থাপিত হবে। কেননা, ওয়ানইলিভেনের সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল কিন্তু ওইসব মামলা সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আর এখন খালেদাকে সাজা দেওয়া হলে নিতান্তই তা হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ফলে দেশের রাজনীতি ফের সংঘাতের দিকে যেতে পারে। নানা বিতর্কের মধ্যেও গেল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনীতির দৃশ্যপটে অনেকটাই পরিবর্তন আসে। নির্বাচনের আগে দেশে যে সহিংস পরিস্থিতি বিরাজ করছিল সেই অবস্থা থেকে দেশবাসী অনেকটাই পরিত্রাণ লাভ করেছিল। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের ঠাণ্ডা লড়াই চলে আসছিল। এছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীনরা দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিকভাবে যে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছিল দৃশ্যতঃ তারা সেই চাপও সামলিয়ে উঠেছিল। নির্বাচনের আগে মহাজোটের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলা হলেও পরবর্তীতে সেটা ভুলে গিয়ে ৫ বছরের জন্যই ক্ষমতার মসনদে নিজেদের টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টারত তারা। শুধু তাই নয়, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে নানা কৌশলে এগিয়ে ক্ষমতাসীনরাই। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রতিহত করা ঘোষণা নিজেদের ব্যর্থতায় তা হালে পানি পায়নি। ক্ষমতাসীনদের হটিয়ে ক্ষমতার মসনদ দখলে এক বছরের মাথায় পুনরায় লাগাতার আন্দোলন শুরু করে বিরোধীপক্ষ। তাতেও কোনো ফল আসেনি। বলা যায়, শেষপর্যন্ত শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে খালেদা জিয়ার সব কৌশল পরাজিত হয়। এভাবে দুপক্ষের একগুয়েমি রাজনীতিতে দেশ আজ গভীর সঙ্কটে নিমজ্জিত। সঙ্কটের গভীরতা বিবেচনায় পরিস্থিতি এমন যে, বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ার পথে চলছে। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট দ্রুত সমাধান হোক এটা সাধারণ মানুষের একান্ত চাওয়া সত্ত্বেও সেটার কোনো প্রতিফলন হচ্ছে না। বরং রাজনীতির হানাহানিতে ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে উঠে এসেছে। বিশেষ করে বন্দুকযুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অহরহ ঘটছে। সম্প্রতি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০১৬ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতিবেদনেও তা ফুটে উঠেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা উন্নতির জন্য দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ নিযে তাদের কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। বিদেশিরা ইতোমধ্যে সুস্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছে যে- তারা আগামীতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায়। এ জন্য সম্প্রতি কূটনৈতিকপাড়া নড়াচড়াও বেড়েছে। ঘন ঘন বিদেশিদের আনাগোনা এবং সেই সঙ্গে চলছে দুই নেত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে তাদের বোঝাপড়া। সবমিলেই দুই নেত্রী কঠিন চাপের মুখে রয়েছেন।

আরো খবর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.