নভেম্বর ৩০, ২০২০

কার্ডিফের টিকিট নিশ্চিত করল রিয়াল

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক:করিম বেনজেমাকে কী আলাদা করে ড্রিবলিং শিখিয়েছিলেন কোচ জিনেদিন জিদান? নয়ত, এই ড্রিবলিং ফরাসি স্ট্রাইকার শিখলেন কোথা থেকে? ম্যাচের ৪২ মিনিটে তিনি যেভাবে তিন অ্যাটলেটিকো ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বলটা কাট-ব্যাক করলেন, সে ধরনের ড্রিবলিং তো কেবল জিদানের খেলোয়াড়ি জীবনেই দেখা যেত। রিয়াল মাদ্রিদের অনেক পাঁড় সমর্থকও হয়তো মনে করতে পারবেন না বেনজেমার পায়ে এই জাদু শেষবার কবে দেখা গিয়েছিল। তাঁর ওই বল-প্লে’ই তো ছিল ইসকোর মহাগুরুত্বপূর্ণ সেই গোলের উৎসমুখ, যে গোলে ভিসেন্তে ক্যালদেরনের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সব চেষ্টা মাঠে মারা গেল। যে গোলটা ম্যাচ শুরুর ১৬ মিনিটের মাথায় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া রিয়াল মাদ্রিদকে দিল নতুন জীবন। জোগালো চতুর্দশবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠার রসদ।
ম্যাচটা রিয়াল হেরেছে ২-১ গোলে। কিন্তু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে সেমিফাইনালের প্রথম লেগটা ৩-০ গোলে জিতেই ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রেখেছিল তারা। অ্যাটলেটিকোর মাঠে তাদেও কাজটা কেবল ছিল গোল গড়ে নিজেদের এগিয়ে থাকাটা নিশ্চিত করা। ম্যাচের শুরুতে অ্যাটলেটিকো ২ গোলে এগিয়ে গিয়ে সমর্থকদের হৃদকম্প বাড়ালেও ইসকোর গোলটি এনে দেয় স্বস্তি। বাকি সময়টা স্কোরলাইনটা নিজেদেও অনুকূলে রেখে হোম-অ্যাওয়ে মিলিয়ে ৪-২ গোলে নিশ্চিত হলো রিয়ালের আরও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ-ফাইনাল। ডিয়েগো সিমিওনে আরও একবার তাঁর দল অ্যাটলেটিকোকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সাফল্য এনে দিতে হলেন ব্যর্থ।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরুটা যেন সাজানো চিত্রনাট্যের মতোই ছিল অ্যাটলেটিকোর জন্য। ম্যাচের শুরুতেই কর্নার আদায় করে নেওয়া, গোলেরএকাধিক সুযোগ তৈরি, সবকিছুই যেন হচ্ছিল পরিকল্পনা মতোই। শুরুতেই ফার্নান্দো তোরেস যদি কোকের কর্নার থেকে বল লক্ষ্যে রাখতে পারতেন! তবে স্পেনের হয়ে ইউরো ও বিশ্বকাপ জেতা এই স্ট্রাইকারের ব্যর্থতা খুব দ্রুতই পুষিয়ে দেন সাউল নিগুয়েজ। সেই কোকের দারুণ এক কর্নার থেকে শূন্যে লাফিয়ে হেড করে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে দেন তিনি। ২ মিনিট যেতে না যেতেই ভিসেন্তে ক্যালদেরনের গ্যালারি লালে লাল করে দেওয়া অ্যাটলেটিকো সমর্থকেরা যেন নিজেদেও চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। শুরুতে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া তোরেসে একটা প্রচেষ্টা রুখতে গিয়ে ভুল করে বসলেন রিয়াল ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে। তাঁর ফাউলে বক্সের মধ্যে পড়ে গেলেন তোরেস, আর তাতেই পেনাল্টির বাঁশি রেফারি। গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে রিয়ালের বিপক্ষেই পেনাল্টি মিস করা আতোয়ান গ্রিজমান প্রাপ্ত পেনাল্টিটি কাজে লাগালেন গোলকিপার কেইলর নাভাসকে ফাঁকি দিয়ে।
দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে অনেকটা পথই এগিয়ে গিয়েছিল অ্যাটলেটিকো। অন্যদিকে রিয়াল শিবিওে তখন রাজ্যের উৎকণ্ঠা। অ্যাটলেটিকো কী পারবে আরও দুটো গোল করতে, রিয়াল কী পারবে বাকিটা সময় গোল না খেয়ে কাটিয়ে দিতে অথবা মূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোল করতে?
এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যেই ৪২ মিনিটে এল সেই ক্ষণ। বামপ্রান্তে একটি থ্রো থেকে বল পেয়ে এক পা দুই পা করে বল নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলেন বেনজেমা। একেবারে টাচ লাইনের কাছে তাঁকে ঘিরে যখন অ্যাটলেটিকোর তিন ডিফেন্ডারের জটলা, তখন কীভাবে যেন বলটা এক দারুণ ছোঁয়ায় নিয়ে গেলেন তাদের নাগালের বাইরে। এরপর করলেন কাটব্যাক। তবে কাট ব্যাক থেকে বল পেয়ে টনি ক্রুসের শটটি অ্যাটলেটিকো গোলকিপার ঠেকিয়েই দিয়েছিলেন। ফিরতি বলে কাছেই দাঁড়ানো ইসকোর শট। ব্যবধান কমলেও রিয়াল ডাগ আউটে তখন জয়ের আনন্দ। অ্যাটলেটিকো শিবিরে হতাশা। ভিসেন্তে ক্যালদেরনে পিন-পতন নিস্তব্ধতা।
দ্বিতীয়ার্ধটা দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে কাটিয়েছে। তবে গোলের সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল কিন্তু অ্যাটলেটিকোই। গ্রিজমান ৫০ মিনিটে গোলের একটি সুযোগ নষ্ট করেন। তোরেসের বদলে মাঠে নামা গামেইরোও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। মোটামুটি সহজ একটা প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ব্যর্থ কওে দেন রিয়াল গোলকিপার নাভাস। এর আগে রোনালদোর একটি ফ্রিকিক অ্যাটলেটিকো গোলকিপার ওবলাক রুখে দেন।
ম্যাচের শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রেখেও কিছুই করতে পারেনি অ্যাটলেটিকো। বার্নাব্যুতে বাজে ফুটবল খেলার শাস্তিটাই যেন সিমিওনের দল পেল নিজেদেও মাঠে জয় তুলে নিয়েও। এই আফসোসটা অ্যাটলেটিকো ফুটবলারদেও হয়ত থেকে যাবে বহুদিন। ইশ! বার্নাব্যুতে যদি একটু ভালো খেলতে পারবেন।
ম্যাচটা জিতেও ফাইনালে যেতে পারল না অ্যাটলেটিকো। হেরেও ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী ৩ জুন কার্ডিফে প্রথমবারের মতো নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে জিদানের দল। প্রতিপক্ষ জুভেন্টাস। ১৯৯৮ সালে যে দলকে হারিয়ে তারা জিতেছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.