অক্টোবর ২৩, ২০২০

ফারাক্কার প্রভাবে মৃতপ্রায় গঙ্গানির্ভর নদ-নদী

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :ফারাক্কার ধাক্কা আর সহ্য করাতে পারছে না গঙ্গানির্ভর সব নদ-নদী। বছরের পর বছর ধরে ধাক্কা খেয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে। নদ-নদীর কাহিল অবস্থার কারণে মারমুখী ও বিপজ্জনক হচ্ছে সার্বিক পরিবেশ। পরিবেশবিগণ বলেছেন, আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে দ্রæত। পরিবর্তন ঘটছে ষঢ়ঋতুর। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন আরো হুমকির মুখে। দেশের বৃহত্তম গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের (জিকে প্রজেক্ট) অস্তিত্ব বিপন্ন। মাইলের পর মাইল ক্যানেল পানিশূন্য। খাঁ খাঁ করছে, দেখলে যে কারোর চোখ দিয়ে পানি আসবে। মংলা সমুদ্রবন্দর ও নওয়াপাড়া নদী বন্দর মারাত্মক সংকটে। যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, উদ্ভিদ, প্রাণীকুল, জলজ, বনজ ও মৎস্য সম্পদের অপুরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। লবনাক্ততা গ্রাস করায় ক্রমেই উপকুলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা হচ্ছে বিরাণভূমি। মরুকরণ প্রক্রিয়া হচ্ছে মারাত্মক। নদীর প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় পলি জমে ভারট হয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন ছাড়াও ভূমি গঠনের পরিবর্তন ঘটছে। বাড়ছে ক্রমাগতভাবে সমুদ্রে পানির উচ্চতা।

 

সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, নদ-নদীতে পানি প্রবাহ না থাকায় পলি জমে ভরাট হচ্ছে। প্রতিমুহূর্তে খেসারত দিতে হচ্ছে নানাভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীকে। ভূপৃষ্ঠের পানি স্বল্পতায় মাটিরতলার পানি সম্পদ হচ্ছে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এসব কিছুই মরণ বাঁধ ফারাক্কার ধাক্কায় ঘটছে। কৃষি ও নদী বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্র এই তথ্য চরম উদ্বেগ করে বলেছে, নদী বাঁচানোর কোন পরিকল্পনা নেই। সুত্র জানায়, ভারত ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ চালু করে মাত্র ৪০ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে। পরবর্তীতে ওই বাঁধ স্থায়ী হয়। দিনে দিনে তা পরিণত হয় মরণ বাঁধে। ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে ভারত পানি প্রত্যাহার করে ভাগীরথী নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি করে কলকতা বন্দরকে রক্ষা করে। আন্তর্জাতিক নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার নীতি ও আইন বিরুদ্ধ। অনেক দেন দরবারের পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেব গৌড়ার মধ্যে দীর্ঘ প্রত্যাশিত ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তারপরেও দেশ ন্যায়্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।

 

ধীরে ধীরে এখন পদ্মা ও পদ্মার শাখা নদগুলো মৃতপ্রায় অবস্থায়। নদীদেহের অন্যতম হৃদপিন্ড পদ্মা এখন স্পন্দনহীন প্রায়। পদ্মার বুকে শুরু হয়েছে হাহাকার। পদ্মার শাখা-প্রশাখার উৎসমুখ গড়াইয়ে পানি গড়িয়ে আসছে না পদ্মা থেকে। যার কারণে ক্রমাগতভাবে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে নদী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন। পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার আজগর আলী ও বরকত উল্লাহ দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, ‘এভাবে বিশাল পদ্মা শুকিয়ে যাবে কখনোই কল্পনাও করিনি। এর জন্য ভারতই দায়ী। অথচ কোন প্রতিবাদ করতে পারি না আমরা। পদ্মাপাড়ের বালুর স্তুপ দেখিয়ে তারা জানালেন পদ্মার বুক থেকে বালু উত্তোলন করে এখন অনেকে ব্যবসা করে। নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় বর্ষা হলেই নদপাড়ের মানুষকে ডুবিয়ে  দেয়। আর শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য পড়ে হাহাকার’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.