ডিসেম্বর ৫, ২০২০

আমার ছেলে কে নষ্ট করেছে ওর বাবা আর টাকা : সাফাতের মা

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :বাংলাদেশের নামকরা স্বর্ণালংকার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের বড় ছেলে শাফাত আহমেদ। জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গত ২৮ মার্চ দুই তরুনীকে বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের রেইনট্রি নামের একটি হোটেলে নিয়ে এসে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে শাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। এ ধর্ষনের ঘটনা শাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয়। পরবর্তীর্তে ওই দুই তরুনীকে এই ভিডিও সোস্যাল মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি চেপে রাখার জন্যও বলা হয়।

গত ৬ মে ধর্ষনের শিকার তরুনীরা বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিরা করা হয়, শাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, দুই ছাত্রীর বন্ধু সাদমান সাকিব, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী সাকিফ। এরপরই এ ঘটনা নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে কর্মসূচি দেয়া হয় সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনও চাপের মুখে পড়ে। এরপরই শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান। গত বৃহস্পতিবার সিলেটের জালালাবাদের মদিনা মার্কেটের রশিদ ভিলা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

ছেলে শাফাতের এমন কর্মকাণ্ডে বাবা দিলদার আহমেদ সেলিম মোটেও অনুতপ্ত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোয়ান ছেলেরা একটু-আধটু এমন কাজ করবেই। এদিকে এই বিষয় নিয়ে এতো চুপ থাকলেও অবশেষে মুখ খুললেন ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত শাফাত আহমেদের মা নিলুফার জেসমিন। তিনি দাবী করেন, শাফাতের বাবা ছেলেকে অনেক অসৎ কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং তার আসকারা পেয়েই ছেলের আজকে এই দশা হয়েছে। তিনি নির্যাতিত দুই মেয়েদের সাথে যা হয়েছে তা সত্য হলে এটি অন্যায় বলেও অভিমত দেন।

তিনি বলেন, শাফাতের বাবা ছেলেকে অনেক অসৎ কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। তার প্রশ্রয় পেয়েই ছেলের আজকে এই দশা হয়েছে। তিনি নির্যাতিত দুই মেয়েদের সাথে যা হয়েছে তা সত্য হলে এটি অন্যায় বলেও অভিমত দেন।

তিনি বার বার ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন এবং বলছিলেন এত টাকা আর প্রাচুর্য্য চারিদিকে কিন্তু তার মনে কোনো শান্তি নেই। রাস্তার কুকুর থেকে শুরু করে সমাজের সকলেই এখন তাদের ঘৃণা করে। সারা বাংলাদেশে তাদের বিরুদ্ধে এত প্রতিবাদে তিনি অত্যন্ত বিব্রত ও ভীত বোধ করছেন। গত কয়েকদিন ধরে নিজের বাসাতেও থাকতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। নিলুফার জেসমিন মনে করছেন তার ছেলে আর কোনোদিনও ঘরে ফিরতে পারবে না।

শাফাতের এই অধঃপতন কবে থেকে শুরু হয় এমন প্রশ্নে বলেন, শাফাত তার স্কুল অবস্থা থেকেই নানা মেয়ে নিয়ে পার্টিতে যেতো, বাসায় নিয়ে আসতো। আমি অনেকবার মানা করলেও তার বাবা সব সময় আমাকে বলতো এই বয়সে এমন করেই। এমনকি শাফাত যখন আমার বৌমা পিয়ায়াসাকে বিয়ে করে ঘরে এনেছিলো তখন সেটি ভাঙ্গার জন্য শাফাতের বাবাই সব রকমের চেষ্টা করেছিলো। পিয়াসা থাকার সময় আমার ছেলেটা অনেক ভালো ছিলো। পিয়াসাকে ডিভোর্স দেবার পেছনে সকল কলকাঠি নেড়েছে আমার স্বামী। তিনি জানান, এই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত তার ছিলোনা এবং এটা তিনি পছন্দ করেন নি।

নাঈম আশরাফ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ছেলেটা সারাক্ষন আমার বাসায় পড়ে থাকতো। শাফাতের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এমনকি সে সিগারেট পর্যন্ত খেতো। এই নাঈমকে শাফাতের বাবাই ঘরে নিয়ে আসে ছেলের সাথে থাকার জন্য। আমি কতবার বলেছি একে বাসায় না রাখার জন্য কিন্তু আমাকে ধমকে চুপ করিয়ে দেয়া হোতো। এখন তার ছোটো ছেলে ইফাতের জন্যও তার অনেক ভয় হয় এই ভেবে যে এও বড় ছেলের মত নষ্ট হয়ে যায় কিনা।

ছেলের এমন অপরাধের শাস্তি চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যায় করে থাকলে শাস্তি হোক, এটাই আমি চাই। কিছু দিন জেলে থাকলে টাকার গরম কিছুটা কমবে।

উল্লেখ্য, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.