জানুয়ারি ২৩, ২০২১

মাহে রমজানে খুলবে জান্নাতের দুয়ার

১ min read

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমাদের কাছে রমজানের বরকতময় মাস এসেছে। এর রোজা আল্লাহ তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ রাখা হয়

বছর ঘুরে আবার আমাদের দ্বারে এসে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। শাবানের শেষার্ধ রমজানের প্রস্তুতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। জানিয়ে দিচ্ছে রমজানের আগমনী বার্তা। যে মাস তাকওয়া অর্জনের মাস, কোরআন অবতীর্ণের মাস। অফুরন্ত কল্যাণ লাভের মাস। জান্নাত পাবার মাস। পাপ মার্জনা করানোর মাস। আল্লাহর সান্নিধ্য আর নৈকট্য লাভের মাস। রহমত, মাগফিরাত আর দোজখ থেকে মুক্তির মাস। যে মাস শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করা হয়। খুলে দেয়া হয় জান্নাতের সব দরজা। খোলা হয় আকাশের দরজা। হাদিসের ভাষায়, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আগমন করে, তখন আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়।’ অপর এক বর্ণনায় এসেছে, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় ও জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অভিশপ্ত শয়তানগুলোকে শিকলাবদ্ধ করা হয়। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রহমতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। (বোখারি ও মুসলিম)। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসিনে কেরামরা বলেন, এর দ্বারা রমজান মাসে জান্নাতের অমীয় শান্তির প্রবাহ দুনিয়ার দিকে প্রবাহিত হওয়ার ইঙ্গিত করা হয়েছে। কাজী আয়ায বলেন, এর দ্বারা রমজান মাসের আগমন, ইজ্জত ও সম্মানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, এ মাসে অধিক পরিমাণে সাওয়াব ও ক্ষমা প্রদানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সব দিক থেকে এ মাস মুসলমানদের জন্য সুখবর আর কল্যাণের সুবার্তা প্রদানকারী।

অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাসের প্রথম রাত হয় শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়। অতঃপর একটি দরজাও খোলা হয় না। আর জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, অতঃপর এর একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকেন, হে পুণ্যের অন্বেষণকারী! সম্মুখে অগ্রসর হও। আর হে মন্দের অন্বেষণকারী! থেমে যাও। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা অনেককে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দেন। আর এটা প্রতি রাতেই সংঘটিত হয়ে থাকে।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)। বস্তুত রমজান মাস আসে প্রভূত কল্যাণ নিয়ে, মহান রবের করুণা নিয়ে। এ মাস পুণ্য অর্জনকারীদের জন্য অন্যতম।
অন্য হাদিসে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমাদের কাছে রমজানের বরকতময় মাস এসেছে। এর রোজা আল্লাহ তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ রাখা হয়। এতে অবাধ্য শয়তানগুলোকে শৃঙ্খলিত করা হয়। আল্লাহর রহমতের জন্য এতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেয়। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে প্রকৃতপক্ষেই বঞ্চিত হয়েছে।’ (আহমদ ও নাসায়ি)।
রমজানের রোজার মাধ্যমে মুসলমান মুত্তাকিরা রাইয়ান দরজা দিয়ে জান্নাতে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবে। ‘হজরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। সেসবের মধ্যে একটি দরজার নাম আর রাইয়ান। ওই দরজা দিয়ে শুধু রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
আমাদের মাঝে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়ার মাস সমাগত। কোনোভাবেই এ মাসের রহমত, মাগফিরাত আর জাহান্নাম থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগকে হাতছাড়া করা যাবে না। আর এসব সুযোগকে যে যারা হাতছাড়া করবে, সে-ই প্রকৃতভাবে প্রভূত কল্যাণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখবে। আসুন এ পুণ্যময় মাসের কল্যাণকে নেয়ামত হিসেবে গ্রহণ করি। এ মাসের যথাযথ মর্যাদা দেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.