ডিসেম্বর ৪, ২০২০

বালাগঞ্জে লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

১ min read

সিলেটের বালাগঞ্জের পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের একটি সড়কে দুটি সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। চিকিত্সা, শিক্ষা, উত্পাদিত কৃষিপণ্য বহনসহ প্রয়োজনীয় যাতায়াতে লোকজনকে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে। এই সড়কে দুটি সেতু নির্মাণ হলে সিলেটের বালাগঞ্জ ও  পার্শ্ববর্তী ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মধ্যে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরাসরি ‘সেতুবন্ধন’ এর দ্বারা উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মানুষও এতে সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন বিভাগীয় শহর সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে সহজতর যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি, চিকিত্সা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। অবহেলিত জনপদের সংযোগ রক্ষাকারী জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বিভিন্ন সময় মাটি ভরাট করে চলাচল উপযোগী করা হয়। কিন্তু ব্রিজ না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

সরজমিন দেখা গেছে, সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের আজিজপুর বাজার থেকে পূর্ব দিকে বাংলা বাজার,  পিরের বাজার ও নয়া বাজার স্পর্শ করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সদরের সাথে সংযোগ সড়কে ইতোমধ্যে আজিজপুর থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত পাকা ও ইট সলিং করা হয়েছে। এই সড়কে ‘টলাখাল’ ও ‘বেতরী নদীর’ উপর ব্রিজ না থাকায় বালাগঞ্জ উপজেলার অবহেলিত পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন ও  ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একাংশের গ্রামগুলোর বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বাংলা বাজারস্থ পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন ‘বেতরী নদী’ ও ‘টলাখালিতে’ বর্ষাকালে নৌকা আর শুকনা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে কৃষি পণ্য পরিবহনসহ স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনসাধারণ পারাপার হয়ে আসছেন।

ব্রিজ দুটি নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার আবেদন করেছেন। কিন্তু  দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের পূর্বে ব্রিজ নির্মাণে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচিত হওয়ার পর আর কোনো তত্পরতা পরিলক্ষিত হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাখাল দাস ও বাংলা বাজারের ব্যবসায়ী ইউনুছ আলী জানান, এই দুটি ব্রিজের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অত্রাঞ্চলটি অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। লক্ষাধিক মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মধু বলেন, ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে আমি চেষ্টা চালিয়ে আসছি। আমার মেয়াদকালে যদি সরকারি অর্থায়নে ব্রিজ নির্মাণ না হয়, তাহলে পরবর্তীতে আমি নিজের টাকায় ব্রিজ দুটি করে দেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.