ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

৫৪ ধারায় যুবতীদের আটকে রেখে যৌন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অভিযোগ: প্রধান বিচারপতি

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :রাজধানীর অদূরে গাজীপুরে ৫৪ ধারায় অনেক যুবতী নারীকে আটকে রেখে যৌন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গা শিউরে উঠা এই অভিযোগ তুলেছেন দেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

তিনি বলেছেন, ‘গাজীপুরে অনেক যুবতী মেয়েকে ৫৪ ধারায় আটক রাখা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করা হয় না। জেলা জজকে এ বিষয়টি তদন্ত করে তালিকাসহ রিপোর্ট দিতে বলেছি। জেলা জজ জানিয়েছেন, মেয়েদের আদালতে উপস্থাপন করা হয় না। কারণ তাদের যৌন কাজে ব্যবহার করা হয়। তখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে (ড. মিজানুর রহমান) সুপ্রিম কোর্টে আমার কার্যালয়ে ডেকে এনে লিস্টসহ ওইসব নারীর তালিকা দিয়েছিলাম। অনেক দিন হয়ে গেছে, দেখার মতো কিছুই হয়নি।’

বাংলাদেশের কারাগারগুলোতে বন্দি নারীদের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সম্প্রতি গাজীপুরে নারী ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা জানান প্রধান বিচারপতি।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক যুগান্তকারী রায় :বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান’ শীর্ষক বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।

মানবাধিকার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিলেট কারাগার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সেখানে দেখলাম লোহমর্ষক ঘটনা। যুবতী নিরপরাধ অনেক মেয়ে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আছে, কারও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। এগুলো আপনারা খুঁজে বের করুন। অনেকে অভিযোগ করেছে তারা সেখানে নির্যাতিত হচ্ছে।’
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারের সঙ্গে কথা বলেও জানতে পারলাম, অনেক নারী আসামি রয়েছেন যাঁদের পক্ষে আইনি লড়াই করার মতো কেউ নেই। বিনা বিচারে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। অনেক নিরপরাধ আসামি রয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাগারে থাকায় অস্বাভাবিক আচরণ করছে। জুনে আমি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যাব। চাইলে আপনারা মানবাধিকার কর্মীরা আমার সঙ্গে যেতে পারেন।’

বিদ্যমান সাক্ষ্য আইন সংশোধনের কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী, একজন নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আদালতে জেরার মাধ্যমে আবারও তাঁর সম্ভ্রম নষ্ট করা হয়। এ আইনের ১৫৫ ধারায় জেরা করার সময় নির্যাতিত নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তাই ব্রিটিশ আমলে করা এই আইন সংশোধন করতে হবে।’

এ সময় কারাবন্দি নারীদের আইনী সহায়তা দিতে আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘টাকা-পয়সা না দেখে মাসে না পারেন, বছরে দুটি ফ্রিতে এ ধরনের মামলা শুনানি করেন। মানুষের জন্য এগিয়ে আসুন।’

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সিগমা হুদা ও ফাউজিয় করিম ফিরোজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.