ডিসেম্বর ২, ২০২০

কড়া নিরাপত্তায় বিলাতে ভোট সম্পন্ন

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :বৃটেনে নজিরবিহীন নিরাপত্তায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ হাউস অব কমন্সে ৬৫০ জন নির্বাচিত হবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে একটি দলকে অন্তত ৩২৫টি আসন পেতে হবে। প্রায় ৪ কোটি ৬৯ লাখ ভোটার এ নির্বাচনে ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছেন। এ সংখ্যা ২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৫ লাখ বেশি। কিছু ভোট ইতিমধ্যে দেয়া হয়ে গেছে ডাকযোগে। ২০১৫ সালে ডাকযোগে ভোট দেয়ার হার ছিল ১৬.৪ শতাংশ। স্থানীয় সময় মধ্যরাতের দিকে কিছু আসনের ফলাফল জানা যাবে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে জানা যাবে পূর্ণ ফলাফল। সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, কনজারভেটিভ দল ৬-৭ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছে জরিপে। এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান, বিবিসি ও টেলিগ্রাফ।
জুনের শুরুর দিকে চালানো এক জরিপে দেখা যায়, ১৮-২৪ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে লেবার দলের সমর্থন ৭১ শতাংশ! মে’র দল কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সীদের মধ্যে বেশি। এই বয়সসীমার ভোটারদের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন ৬২ শতাংশ, লেবারদের মাত্র ১৯ শতাংশ। তবে তরুণদের ভোটদানের হার কম। যেমন, ২০১৫ সালের নির্বাচনে ১৮-২৪ বছর বয়সী ভোটারদের ৪৩ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু ৬৫ কিংবা তার চেয়েও বেশি বয়সী ভোটারদের ৭৮ শতাংশই ভোট দিয়েছিলেন। সেবার মোট ৬৬.২% ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। সব বয়সসীমার ভোটারদের মধ্যে ভোটের এই হার অপরিবর্তিত থাকলে, শাসক দল কনজারভেটিভরাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তবে কিছু আসন হারাবে। গত নির্বাচনে ৩৩১টি আসনে জিতেছিল দলটি।
দলীয় প্রধানদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে সবার আগে ভোট দিয়েছেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী ফিলিপ মে। তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকা মেডেনহেডের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন। কিছুক্ষণ পরই উত্তর লন্ডনের হলোওয়ের পেইকম্যান প্রাইমারি স্কুলে ভোট দেন বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন। এখানেই তার নির্বাচনী এলাকা ইসলিংটন নর্থ আসনটি অবস্থিত। ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে দৃশ্যত ফুরফুরে মেজাজে থাকা লেবার নেতা ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। তিনি বলেন, ‘আজ এখানে আসায় আপনাদের সকলকে অনেক ধন্যবাদ। এটি আমাদের গণতন্ত্রের দিন। আমি মাত্র ভোট দিয়েছি। আমি আমার প্রচার শিবির নিয়ে খুবই গর্বিত। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।’
লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা টিম ফ্যারন বৃষ্টিতে ভিজে হাজির হন নিজের নির্বাচনী এলাকা ওয়েস্টমরল্যান্ড ও লোন্সডালের একটি ভোটকেন্দ্রে। অপরদিকে উইকিপ দলের নেতা পল নাটাল চেশায়ারের কংলেটনে ভোট দেন। গ্রিন দলের সহ-নেতা জোনাথন বার্টলে দক্ষিণ লন্ডনের স্ট্রিটহ্যামে ভোট দেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে। আরেক সহ-নেতা ক্যারোলাইন লুকাস ব্রাইটনে ভোট দেন। স্কটল্যান্ডে এসএনপি নেতা নিকোলা স্টার্জিওন প্রচুর বৃষ্টির মধ্যে তার স্বামী পিটার মুরেলকে নিয়ে পূর্ব গ্লাসগোর ব্রুমহাউজ কম্যুনিটি হলে ভোট দেন। ভোটপ্রদানের পূর্বে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আজকে মানুষকে ভোট দিতে উৎসাহিত করতে কাজ করছি। এসএনপি’কে ভোট দেয়াই স্কটল্যান্ডের জন্য বলিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের একমাত্র উপায়। তাই আমার আশা আবহাওয়াটাও একটু ভালো হোক।’
ভোটাভুটি শুরুর আগে বুধবার উত্তর লন্ডনে নিজের চূড়ান্ত সমাবেশে ভাষণ দেন লেবার নেতা করবিন। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যে বিতর্ক পাল্টে দিয়েছি, মানুষকে আশা দিয়েছি। আশা দিয়েছি যে, সবকিছু যেমন চলছে তা পরিবর্তনের উপায় আছে, অসমতা মোকাবিলা, কৃচ্ছ্রতাসাধন বন্ধ এবং অভিজাতদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর উপায় আছে।’
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী মে ইইউ থেকে বৃটেনের প্রস্থানকে সামনে রেখে তার চূড়ান্ত আবেদন জানিয়েছেন ভোটারদের কাছে। কনজারভেটিভ নেতা বলেন, ‘আমরা যদি ব্রেক্সিট ঠিকভাবে করতে পারি, আমরা এমন এক বৃটেন দাঁড় করাতে পারবো যেটি হবে আরো সমৃদ্ধ, আরো নিরাপত্তাবেষ্টিত। এই বৃটেনের সমৃদ্ধি ও সুযোগ সকলে ভোগ করতে পারবে। আমিই বৃটিশ জনগণের সমর্থনে ব্রাসেলস থেকে সঠিক চুক্তি আনতে পারি। তাই আপনারা আগে যাকেই ভোট দিয়ে থাকুন না কেন, আপনি যদি এই ভবিষ্যৎ কামনা করেন, তাহলে আজ কনজারভেটিভদের ভোট দিন। আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবো।’
এদিকে ম্যানচেস্টার ও লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলার পর, দেশজুড়ে বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রের নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হয়েছে। বৃটিশ পুলিশের উপ- সহকারী কমিশনার লুসি ডি’ওরসি বলেন, এবারের নির্বাচন এক নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের হুমকির মাত্রা এখনো ‘গুরুতর’। এর মানে সন্ত্রাসী হামলা ঘটার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’। লুসি ডি’ওরসি বলেন, ‘আমরা জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। যেকোনো উদ্বেগ পুলিশকে জানাতে বলছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.