জুন ১৮, ২০২১

বিএনপির চেয়ারপার্সন জাতীয় ঐক্যে এক ধাপ এগিয়ে !

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :রাজনীতিকদের সম্মানে খালেদা জিয়ার দেওয়া ইফতার পার্টির মধ্য দিয়ে বিএনপির ঐক্য প্রক্রিয়ায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত সোমবার এক পার্টিতে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে খালেদা জিয়ার আলোচনার সুযোগ হয়েছে।

এক টেবিলে বসে ওই তিন নেতা দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি তথা ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সবার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন খালেদা জিয়াকে। বিএনপি চেয়ারপারসনও এ বিষয়ে তাঁদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর দেশের রাজনীতি নিয়ে আরো কিছু কথা হয় তাঁদের মধ্যে।

একই টেবিলে ওই চার নেতা ছাড়াও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীক, তানিয়া রব (আ স ম রবের স্ত্রী), বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদসহ আরো দু-একজন ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইফতারের আগে খালেদা জিয়া যাতে ওই নেতাদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলতে পারেন, সেভাবেই টেবিলটিতে বসার ব্যবস্থা রাখা হয়। আর সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া ঢুকে সরাসরি ওই টেবিলে গিয়ে আসন গ্রহণ করেন।

গত কয়েক বছরে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে একমত হওয়া সত্ত্বেও ‘সরকারের ভয়ে’ বিএনপির সঙ্গে ওই দলগুলোর আলোচনা থেমে আছে বলে জানা যায়। ওই দলগুলোর মতে, কোথাও বসে কথা বলা দূরে থাক; টেলিফোনে আলাপ হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁদের হয়রানি করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে ফোনালাপের পর মাহমুদুর রহমান মান্নার গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ সব সময়ই সরকারের সার্ভেইল্যান্সের মধ্যে থাকতে হয়; এমনটি বিবেচনায় নিয়েই চলতে হয় বিএনপিসহ সরকারের বাইরে থাকা এই দলগুলোকে। আর সে কারণেই খালেদা জিয়া ডাকলেও ওই দলগুলোর নেতারা তাতে সাড়া দিতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত বসে কথা বলা গেছে; এটিই আপাতত অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিএনপির পাশাপাশি ওই দলগুলোর নেতারা।

তবে কৌশলগত কারণে তাঁরা খালেদা জিয়ার ইফতার পার্টিতে আলোচনার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নন। বিএনপি এবং ওই দলগুলো মনে করে, ঐক্য প্রক্রিয়ার বিষয়টি এখনই দৃশ্যমান করলে সরকারের কূটচালে তা ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। তার চেয়ে এখন সতর্কভাবে এগিয়ে নির্বাচনের আগে তৎপরতা দৃশ্যমান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে ধারণা তাঁদের। জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী  বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে অনেক দিন পর শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও কিছু কথা হয়েছে। কিন্তু এটিকে অগ্রগতি বলা ঠিক হবে কি না জানি না। বিকল্পধারা এখনো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের জন্যই দরজা খুলে রেখেছে। পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তার ওপর নির্ভর করছে কার সঙ্গে ঐক্য হবে। ’

ড. কামাল হোসেন জানান, একই দিনে (সোমবার) সুপ্রিম কোর্টে ইফতার থাকায় খালেদা জিয়ার পার্টিতে তিনি যেতে পারেননি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের ব্যাপারে এখনো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছুই বলব না। তবে নির্বাচনের আগে অনেক মেরুকরণ ঘটবে। সেই পরিস্থিতিতে কী করব এখনই তা বলা ঠিক হবে না। ”

জেএসডি সভাপতি আ স ম রবের মতে, ‘যেহেতু রাজনীতি করি, ফলে বিএনপির সঙ্গে কথা হতেই পারে। ’ তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে নতুন অনেক মেরুকরণ ঘটবে; অপেক্ষা করুন। ’

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও মাহমুদুর রহমান মান্না এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মনে করেন, ইফতার পার্টিতে কয়েকটি দলের সঙ্গে চেয়ারপারসনের দেখা হওয়াটা রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, ‘সরকারের দুঃশাসনের কারণে দেশে এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ধরনের বন্ধ্যাত্ব চলছে। কেউ কারো সঙ্গে সৌজন্যমূলক কথাও বলতে পারছে না। সেদিক থেকে ইফতার পার্টিতে দেখা হওয়াটা ইতিবাচক। ’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে কে সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে আছে সেটি দৃশ্যমান। আর এ দলগুলো যে সরকারের সঙ্গে নেই সেটিও স্পষ্ট। কারণ তারা কেউ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এখন বিএনপির সঙ্গে ঐক্য, সেটি একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। সময় হলে সে প্রক্রিয়া শুরু হবে। ’

প্রসঙ্গত, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা, আ স ম রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি, কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে নির্বাচনের আগে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।

গত বছর ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার পর ৩ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপর তাঁর ওই উদ্যোগ নিয়ে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট এই চারটি দলসহ আরো কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সেই থেকে বিএনপির সঙ্গে ওই দলগুলোর এক ধরনের সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর সূত্র ধরেই বিএনপি ভবিষ্যতে ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.