জানাগেছে, বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জগন্নাথপুর বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা দখল মুক্ত করা হয়। এতে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের প্রায় শতাধিক দোকান ভিটা রকম জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরবর্তীতে এসব দোকান থেকে উচ্ছেদ হওয়া বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আবার এসব জায়গা বন্দোবস্ত নিতে গেলেও তাদেরকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি। বন্দোবস্ত না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হাল ছেড়ে দিলে মাথা গঁজিয়ে উঠে জগন্নাথপুর পৌর শহরের মির্জা বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মৃত ব্যারিস্টার মির্জা আবদুল মতিনের ছেলে জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক কোটিপতি ব্যবসায়ী মির্জা আবুল কাশেম স্বপনের। তিনি খুবই কূট-কৌশলে ঘটনার কয়েক বছর পর বিগত ২০০৯ ও ২০১৩ সালে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের এসব পরিত্যক্ত দোকান ভিটা রকম জমি নামমাত্র মূল্য দেখিয়ে বাজার ফেরিপেরি আওতায় বিভিন্ন জনের নাম ব্যবহার বন্দোবস্ত আনলেও হৈচৈ পড়ে যাওয়ার ভয়ে কোন স্থাপনা নির্মাণ করেননি। অবশেষে গত কয়েক দিন আগে রাণীগঞ্জ রোডে অবস্থিত আবদুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের গেইটের সামনে সড়কের পশ্চিম দিকে থাকা সরকারি জায়গায় পাকা দালান ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন মির্জা আবুল কাশেম স্বপন। প্রশাসনের লোকজন এসে ঘর তুলতে নিষেধ দিলেও গোপনে কাজ করা হয়। এভাবে অনেকবার প্রশাসন নিষেধ করলেও কাজ হয়নি। শুরু হয় লুকোচুরি খেলা। এছাড়া মির্জা আবুল কাশেম স্বপন যে ৮ জন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে সরকারি অর্ধকোটি টাকার জায়গা বন্দোবস্ত এনেছেন তারা হলেন, মির্জা আবুল কাশেম স্বপনের কর্মচারী জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের দাস নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত দাস সেবুর মা উশা রাণী দাস, তার স্ত্রী কল্পনা রাণী দাস, তার আত্মীয় একই গ্রামের সুনিল দাস, মির্জা আবুল কাশেম স্বপনের আত্মীয় মির্জা জিলু মিয়া, মির্জা শাহিন মিয়া, মির্জা কাজল মিয়া, চিলাউড়া গ্রামের শাহিজুর রহমান ও পরিচিত ব্যক্তি জয়নাল আবেদীন। তাদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন জানান, আমার নাম ব্যবহার সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত আনা হলেও আমি কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে মির্জা জিলু মিয়া জানান, মির্জা স্বপন আমাদের আত্মীয়, যে কারণে সে আমাদের নামে জায়গা বন্দোবস্ত এনে কাজ করতে আমরাই তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। যেসব সরকারি বাজার ভিটা রকম জায়গা নিয়ম অনুযায়ী বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বন্দোবস্ত পাওয়ার কথা। এছাড়া সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত পেতে হলে কাচা স্থাপনা রকম দখল থাকতে হয়। পরিত্যক্ত জায়গা বন্দোবস্ত দেয়া হয় না। অথচ সরকারের কোন নিয়মনীতি না মেনে এক ব্যক্তি বিভিন্ন জনের নাম ব্যবহার করে ৮ টি দোকান ভিটা বন্দোবস্ত নিয়েছেন। যা বাজারের গরীব ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি মারার সমান। কোটিপতি বিএনপি নেতা সরকারি এসব জমি বন্দোবস্ত নিয়ে দোকান ঘর নির্মাণ করে বড় অংকের চুক্তি ও ভাড়ায় অন্য ব্যবসায়ীকে প্রদান করেন। বন্দোবস্ত নীতিমিালায় বন্দোবস্ত গ্রহিতা নিজে ব্যবসা করার কথা থাকলেও এখানে বন্দোবস্ত নীতিমালাকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তাছাড়া জগন্নাথপুরে সরকারি জমি ধনী ব্যক্তিকে বন্দোবস্ত দেয়ার মাধ্যমে কোটিপতিকে শিল্পপতি এবং গরীব ব্যক্তিদের ভিখারি বানানোর পায়তারা চলছে। সেই সাথে সরকার দল আওয়ামাীলীগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সুবিধা নিচ্ছে বিএনপি। তাই এসব বন্দোবস্ত বাতিল করে বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বন্দোবস্ত দিতে সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ ছাপা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং সরকারি জায়গা কোটিপতির পেট থেকে উদ্ধার করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
গতকাল রোববার বিকেল সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাবেরা আক্তার ও জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শামীম আল ইমরানের আদেশে এবং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন সহকারি কর্মকর্তা (তপশিলদার) নুর আলীর নেতৃত্বে বিতর্কিত সেই কোটিপতির সরকারি জায়গার উপর নির্মাণাধীন দালানঘর ভাংচুর করে উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শাহিন আলমসহ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এলাকার শতশত উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ সুহেল আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মির্জা আবুল কাশেম স্বপন স্থানীয় পৌর পয়েন্টে পৌরসভার কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে গায়ের জোরে তিনি মার্কেট নির্মাণ করছেন। এ ব্যাপারে উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনাক্রমে নির্মাণকাজ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পৌর কাউন্সিলর আবাব মিয়া বলেন, কোটিপতি সেই বিতর্কিত বিএনপি নেতা মির্জা স্বপনকে যে ৮টি দোকান ভিটা বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে জগন্নাথপুর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বন্দোবস্তÍ দিতে হবে। তা হলে সর্বস্তরের জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এছাড়া মির্জা স্বপনের নেয়া সেই ৮টি বন্দোবস্ত বাতিলের দাবিতে ফুসে উঠেছেন বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পৌর পয়েন্টে তাঁর যে মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান সচেতন মহল।