অক্টোবর ৩০, ২০২০

কুসংস্কার রোধে শ্বশুড় বাড়ির ইফতারি কে না বলুন

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক : আসুন যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি , মানুষ কে গুনাহর হাত থেকে রক্ষা করি।

রমজানে শ্বশুড়বাড়ি থেকে রকমারি ইফতার এবং আম-কাঠালিকে ‘না’ বলার সামাজিক উদ্যোগ এখন থেকেই নিই৷
এই কুসংস্কার আমাদেরকে এমন বর্বর বানিয়েছে যে, অনেক মহিলাকে মেয়ের বাড়ি ইফতারি পাঠানোর জন্যে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিতে আমার নিজ চোখে দেখেছি৷ কাতর হয়ে বলতে শুনেছি, মেয়ের বাড়ি ইফতারি না পাঠালে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি থাকতে পারবে না৷ শারীরীক এবং মানসিক অত্যাচার সইতে হবে মেয়েটাকে৷ আরো কত কি!

কোনো কারণে ইফতারি/ আম-কাঠালি না দিতে পারলে ওই মেয়েটিকে যে কি মানসিক ও সামাজিক অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়- সে মেয়েটাই জানে। যেন এখনই মরণ হলে মুক্তি মিলে। বাকি লাঞ্চনা আর দহনে থাকতে হয় মা, বাবা ও ভাইদের। এটা যৌতুকের আরেকটি বিলাসি রূপ।

ইফতারির ক্ষেত্রে আরেকটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা হচ্ছে, ইফতারি কি দিয়ে নিয়ে যাবেন৷ মাইক্রো ভাড়া করবেন, না পিকআপ ভ্যান ভরে নিয়ে যাবেন? যত বড় পরিবহন ব্যবহার করা হবে; বিয়াই বাড়ির এলাকায় তাদের মুখ ততো বেশি উজ্জ্বল হবে৷ এসবই অসুস্থ মানসিকতা৷

যেহেতু অনেকাংশে ছেলে পক্ষের চাহিদাই মেয়ে পক্ষকে এসব করতে বাধ্য করে, তাই এসব বন্ধের উদ্যোগ ছেলে পক্ষকেই আগে নিতে হবে৷ ছেলে পক্ষ থেকে মেয়ে পক্ষকে জানিয়ে দিতে হবে- “ইফতারির এই সংস্কৃতি ঠিক না৷ এটি একটি কুসংস্কার৷ সামাজিক অনাচার৷ আপনাদের হয়ত দেয়ার মতো সচ্ছলতা আছে৷ কিন্তু এখানে সচ্ছলতা থাকা না থাকার প্রশ্ন না; এই জুলুমবান্ধব সংস্কৃতি বন্ধের লক্ষ্যেই আমরা ইফতারি খাবো না৷ একদিন আপনারা এমনিতেই চলে আসবেন৷ সকলে মিলে ঘরোয়াভাবে ইফতার করে নিবো৷”

জেঁকে বসা এই কঠিন সামাজিক অনাচার বন্ধে এভাবেই উদ্যোগ নিতে হবে৷ সর্বত্র সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে৷ আজও মেয়ে জন্ম নিলে এক শ্রেণীর পিতা-মাতার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায় এসব কারণেই৷ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষিত সৌভাগ্যের বার্তাবাহী মেয়ে জাতিকে অন্ধকার যুগের অভিশাপের লিস্ট থেকে নিষ্কৃতি দিতে সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত৷

আখতার উদ্দিন আহমদ.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.