ডিসেম্বর ৩, ২০২০

আপনি রায় দিয়েছেন, রায় নিয়েই বসে থাকেন আমরা ইমপিচমেন্ট করব -:শেখ সেলিম

১ min read

নতুন আলো নিউজ ডেস্ক :বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতেই থাকবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আপনি রায় দিয়েছেন, রায় নিয়েই বসে থাকেন আমরা ইমপিচমেন্ট করব’।

রোববার (০৯ জুলাই) রাতে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এমনটাই বললেন সংসদ সদস্য শেখ সেলিম।

এসময় স্পিকার ড. শিরীন চৌধুরী সভাপতির আসনে ছিলেন।

শেখ সেলিম বলেন, সর্বোচ্চ আইন এই সংসদ। এর চেয়ে সর্বোচ্চ আইন আর কোনো কিছু না। বরং কোনো আইন যদি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটা এই সংসদ বাতিল করবে। ৯৬’র অনুচ্ছেদ কোনো অসামঞ্জস্য আইন না। ‘তারা (অ্যামিকাসকিউরিরা) যেটা করেছে নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধ জিনিস দিয়েছেন।‌’

তিনি বলেন, ৭২’র সংবিধান প্রণয়ন করেছে কারা? জনপ্রতিনিধিরা। এই সংবিধানে স্বাধীনতার ইতিহাস লেখা। ২৬ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে এর কোনো দাড়ি-কমা বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কারো নাই। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে মার্শাল ল’ দিয়ে এই সংবিধানকে স্থগিত করেছে। বহু ক্ষতি করেছে। শুধু সেই নয় এরশাদ সাহেবের সময়ও হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিচারপতিদের জিজ্ঞেস করতে চাই বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে আজ পর্যন্ত ক’জন বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। একজনেরও করেন নাই। বরং যেটা তদন্ত হতে গেছে সেটাকে ব্ন্ধ করে দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি আপনি যদি কোনো অপরাধ করেন, জবাবদিহিতা হবে না? যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার সংসদের কাছে জবাবদিহি করে। আপনি আইনের ঊর্ধ্বে? আপনাকে করা যাবে না। আপনাকে নিয়োগ দেয় রাষ্ট্রপতি। সেই রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচমেন্ট করা যাবে। এটা কোনো ধরনের জাজমেন্ট। এসব জাজমেন্ট করে আপনি দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন।

বিচারপতিদের উদ্দেশে শেখ সেলিম বলেন, এত ভয় কেন? কি কারণে, বিচারপতিদের তো একটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকতে হবে। আপনারা বিভিন্ন মিটিং মিছিল করেন। আপনারা রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। ওই খানেই তো সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। আপনার রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন না। সংবিধানে ৭২ অনুচ্ছেদের বলা হয়েছে কেউ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের চেস্টা করলে বা সহযোগিতা করে সেই অপরাধের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি। তাই যা করবেন ভেবে চিন্তে করবেন।

ড. কামাল হোসেনে সমালোচনা করে এ সংসদ সদস্য বলেন, তিনি অ্যামিকাস কিউরি হয়েছেন। উনি কোথাকার ডাক্তার, আমি জানি না। সেই ডাক্তার একটি প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন, ‘সংসদ পারবে না’।

তিনি আরো বলেন, তারা আছেন সংবিধান আর সংসদের সঙ্গে কনফ্লিক্ট লাগিয়ে যদি কোনো রকম রিজার্ভ পাওয়া যায়, এই হলো তাদের পরিকল্পনা। সেজন্য যা খুশি তাই করবেন। এগুলো করে লাভ হবে না। বিচার বিভাগ স্বাধীন। স্বাধীন বলতে কতটুক স্বাধীন। সেটা সংসদের চেয়ে বেশি বড় হাত হতে পারে না বিচার বিভাগের।

শেখ সেলিম বলেন, আপনার বলেছেন ৯৬’র অনুচ্ছেদ অবৈধ এবং সংবিধান পরিপন্থি। আপনাকে প্রমাণ দিতে হবে কোথায় সংবিধান পরিপন্থি হয়েছে। আর্টিকেল ৭  প্রমাণ  করে সংসদের হাতে দায়িত্ব থাকবে। আপনি রায় দিয়েছেন। আপনি রায় নিয়ে বসে থাকেন। এই সংসদ যদি এইটাকে কার্যকর না করে তাহলে ওটা কোনো দিনই কার্যকর হবে না। ৫ম সংশোধনী বাতিল করা হয়েছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমরা ওটাকে কার্যকর করেছি। সুতরাং আপনি ওটা দিতে থাকেন সময় মতো জনগণ, এই সংসদ এবং বিচার বিভাগ আপনাদের ন্যায্য বিচার করবে। সংবিধানকে অবমাননা করবেন না।

পাশে থাকা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শেখ সেলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদার। অনেক কিছু হজম করেন। হজম করলে হবে না। শত্রুকে শত্রু মনে করতে হবে। শত্রুকে মিত্র মনে করলে হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরা জঘন্য খেলায় মেতে উঠেছে। এই বাংলাদেশে কে আবার বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। যে এদের ভাগ্যে কিছু মেলে কি না। সুতরাং কঠোর হস্তে… সেটা বিচারপতি হোক, প্রধান বিচারপতি হোক যেই হোক না কেন। যদি কেউ এই ধরনের ষড়যন্ত্র করে তাকে ইমপিচমেন্ট করার ক্ষমতা এই পার্লামেন্টের আছে, ওই রায়ে ইমপিচমেন্ট বললে হবে না। আমরা  ইমপিচমেন্ট করব। সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ৩৫০ জন এমপিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার যারা শুনতে চাননি তাদের ইমপিচমেন্ট করা উচিত।  সংসদ সংসদের জায়গায় থাকবে। ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসে আস্তকুড়ে নিক্ষেপ হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.