জানুয়ারি ২৬, ২০২১

জগন্নাথপুরে আলোচিত ধর্ষণ মামলার বাদী নিজেই জানেন না ওই মামলার বাদী যে তিনি!

১ min read

বিশেষ প্রতিবেদক::

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আলোচিত একটি ধর্ষণ মামলার বাদী নিজেই জানেন না মামলার বাদী যে তিনি। কিন্তু এ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রচার হয়। এ নিয়ে সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইলে ওই মামলার প্রধান আসামীকে (রুবেল মিয়া) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। যার নং-০৫/৯৯ তারিখ ০৭/০৭/১৭ ইং।

 

ওই মামলায় ধর্ষিতা মেয়ের নাম উল্লেখ করা হয় সোনালী বেগম (ছদ্মনাম) আর ধর্ষক হিসেবে খাগাউড়া গ্রামের রুবেল মিয়া ও সহযোগী হিসেবে জনি মিয়ার নাম উল্লেখ করে বাউধরন গ্রামের মৃত ওয়ারিছ উল্লাহর পুত্র সুহেল মিয়াকে বাদী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এবং মামলাতে স্বাক্ষরিত বাদীর মোবাইল নম্বরটিও ভুল ছিল। এ নম্বরে যোগাযোগ করলে অন্য আরেকজন ফোন রিসিভ কওে এবং সুহেলে নম্বর নয় বলে তথ্য প্রদান করে। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে গণমাধ্যম কর্মীরা যোগাযোগ করতে সুহেলের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন এ মামলার বাদী যে সুহেল প্রকৃত পক্ষে এ সুহেল নয়। তৃতীয় পক্ষের হাত রয়েছে এ মামলাটিতে এমন তথ্যই পাওয়া যায়। সে সময় সুহেল অসহায়ের মতো কথা না বলে শেষ দিকে এ বিষয়ে মুখ খুললেন।

 

গত রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার ও সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

 

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের মৃত ওয়ারিছ উল্লাহর পুত্র সোহেল আহমদ জীবন জীবিকার প্রয়োজনে তিনি অন্যত্র বসবাস করেন। কিন্তু গত ১৫ জানুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে সকাল সাড়ে নয়টায় সংগঠিত একটি ধর্ষণ ঘটনার বিবরণ দিয়ে জগন্নাথপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০ (সংশোধীত/২০০৩)-এর ৯(১)/৩০ তৎসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধীত/২০০৩)-এর ৫৭ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়। কিন্তু ওই ঘটনার সময় ও মামালা রুজু করার দিন সুহেল আহমদ তার বাউধরনস্থ গ্রামের বাড়িতে ছিলেন না।

 

সুহেলের অভিযোগ তার নাম ব্যবহার করে এবং স্বাক্ষর জাল করে ওই মামলাতে তাকে বাদী হিসেবে রাখা হয়েছে।  ঘটনা কিংবা মামলা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি মামলা দায়েরের জন্য কখনো জগন্নাথপুর থানায় তিনি যান নি। থানার কোন কর্মকর্তার সাথেও তার কোন দেখা সাক্ষাৎ হয়নি।

 

অভিযোগপত্র থেকে আরও জানা যায়, কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠির পারস্পরিক যোগসাজসে জিআর-৯৯/১৭ ইং(জগন্নাথপুর) মামলার এজাহারে তার নাম বাদী হিসেবে উল্লেখ ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। যা অন্যায়ের সামিল।

 

এমন হয়রানিমুলক সমস্যা থেকে রেহাই পেতে তিনি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে আইনি সহায়তার জন্য সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

 

অভিযোগ অস্বিকার করে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশীদ বলেন, আমিসহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং মামলার সাক্ষীদের ও বাদী সুহেলের উপস্থিতিতে মামলাটি রুজু করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.