সোম. সেপ্টে ২১, ২০২০

তারেক রহমান একজন দেশ প্রেমিক তারই প্রমাণ নির্যাতন ও কারামুক্তি

১ min read

রাকেশ রহমান ( লেখক, প্রেসিডিয়াম সদস্য এনডিপি ২০দলীয় জোট )
২০০২ সালে ৩৫ বছর বয়সী তারেক রহমানকে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার ফলে তৎকালীন বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তকে স্বজনপ্রীতি বলে চিহ্নিত করে এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করেন।
কিন্তু আমি লেখক রাকেশ রহমান পড়েছি ,শুনেছি ও দেখছি বহিঃবিশ্ব তথা শিল্প উন্নত পশ্চিমা দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের এবং শুধু নেতারাই নন বরং সরকারি বেসরকারি সর্বস্তরে তরুণদেরকে অগ্রাধিকার বেশি দেওয়া হয়।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং আমার প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতার লাইন মনে পড়ে যাচ্ছে… ” বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে আমরা তখন বসে,নারী তালাকের ফন্ধি খুঁজি হাদিস কোরআন চুষে ” তাই আমি বলতে চাই তিনি তার নিজ যোগ্যতায় তার স্থান পেয়েছেন অন্যদের মতো স্বজনপ্রীতি হয়ে মায়ের উপদেষ্ঠাও হননি।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে নিজেও ভুক্তভুগি এই বয়সের ফতুয়ার কারনে। দেশ প্রেমের কোন বয়স নেই ও দেশ সেবার জন্য যোগ্যতা লাগে। তারেক রহমানের সেই দেশ প্রেম ও যোগ্যতা দুটিই আছে তা আমরা তার দেশ বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা পড়লেই জানতে পারবো।
তার এই রাজনৈতিক সফলতার ব্যাঘাত ঘটাতেই অশুভ মহল ১-১১ এর মতো জগন্য ঘটনা ঘটায়। এবং এই ঘটনার কারনে তারেক রহমানকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তারও করা হয়।

গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর তারেক রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য তার আইনজীবিরা আদালতে অভিযোগ করেন যে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে তারেক রহমানের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে চিকিৎসকদের একটি দল পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর আদালতকে জানায় যে তারেক রহমানের উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ যুক্তিযুক্ত। এই পর্যায়ে আদালত রিমান্ডে নেয়ার আদেশ শিথিল করে তা কমিয়ে ১ দিন ধার্য করেন ও জিজ্ঞাসাবাদকারীদের সাবধানতা অবলম্বনের আদেশ দেন। এরপর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবর্তে ঢাকার শাহবাগস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২৫ আগস্ট, ২০০৭ তারিখে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তারেক রহমান তার হাসপাতাল কক্ষে পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। এতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ দেখা দেয়, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অনেক গুলো মামলা করা হয় এবং ৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে সবগুলো মামলায় তারেক রহমানের জামিনলাভ সম্পন্ন হয় ও তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি লাভ করেন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগগুলো এই মুহুর্তে জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে আছে, কোন কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সন্দেহ পোষণ করেছেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ অনেকাংশেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বানোয়াট ও মিথ্যা। এবং সকল মামলার রায়ে তাকে নিরাপরাধ রায় দিয়েছে।
৮ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের জেষ্ঠ্য ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
উক্ত কাউন্সিলে তারেক রহমানের একটি ধারণকৃত বক্তব্য উপস্থিত জনসমাবেশের উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়। বক্তব্যটিতে তারেক রহমান জানুয়ারী ২০০৭-এ ক্ষমতায় আসা অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতে তার অন্যায় গ্রেপ্তার ও বন্দী অবস্থায় নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে আপাতদৃষ্টিতে মনে হওয়া বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার আড়ালে তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

“২০১০ সালে লন্ডনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে শওকত মাহমুদের একান্ত সাক্ষাৎকার”
“কেন আমার ওপর এই অমানুষিক নির্যাতন হলো?
কত তদন্তই তো হলো; কিছুই তো প্রমাণ হলো না।
অথচ অত্যাচারের কারণে সারা জীবন আমাকে পঙ্গুত্ব আর অসহ্য বেদনা বয়ে বেড়াতে হবে।”

অবর্ণনীয় এক আবেগ বুকে চেপে অনেকটা স্বগতোক্তির মতোই বললেন তারেক রহমান !

“আমার বাবা জিয়াউর রহমান গ্রাম-গঞ্জে অবিরাম হেঁটে হেঁটে মানুষের মাঝে থাকার রাজনীতি করতেন।
আমিও শুরু করেছিলাম সেই হাঁটা ৷
বলুন তো, কেন ওরা আমার মেরুদণ্ড ভেঙে আমাকে স্থবির করতে চেয়েছিল?
সেই হাঁটা, সেই রাজনীতি বন্ধ করতে?”

“২০০৭-এর ৩১ ডিসেম্বর রিমান্ডে থাকাকালে আমার ওপর নানা রকমের দৈহিক নির্যাতন করা হয়।
এর মধ্যে একটি ছিল অনেক উপর থেকে বার বার ফেলে দেয়া !
অসহ্য যন্ত্রণায় আমি কুঁকড়ে উঠেছি !
কিন্তু ওইসব অফিসারের বিন্দুমাত্র মায়া-দয়া হয়নি।
ওদের দায়িত্ব ছিল আমাকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলা।
তারপর থেকে দীর্ঘ সময় আমি কারাগারে।
কোনো ডাক্তার নেই।
চিকিৎসা হয়নি। প্রতিটি দিন কেটেছে নারকীয় যন্ত্রণায় !
একজন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, গ্রেফতার চলতে পারে !
কিন্তু নির্যাতন করার, শরীরের অঙ্গ বিকল করার, মানবাধিকার পদদলিত করার অধিকার সভ্যতার কোথায় আছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.