জুন ১৯, ২০২১

জগন্নাথপুরের শ্রীধরপাশায় নূর আলীর প্রকৃত খুনিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি

১ min read

বিশেষ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলি ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামে জাবেদ আলম কোরেশী ও একই গ্রামের আব্দুল মালিক পক্ষের লোকদের মধ্যে সংগঠিত বিবাদে একজন মৃত্যূ হওয়ায় জনমনে আতংক বিরাজ করছে।

গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শ্রীধরপাশা দারুল উলুম মাদ্রাসা’র জমি নিলামের বৈঠকে  শিক্ষকদের বকেয়া বেতন সহ মাদ্রাসার অন্যান্য বিষয়াদী নিয়ে আলোচনা শুরু হলে জাবেদ কোরেশী ও আব্দুল মালিক পক্ষের ফয়ছলের মধ্যে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হলে প্রাণ ভয়ে জাবেদ কোরেশী ও তার লোকজন বাড়ীতে চলে যায়। তখন আব্দুল মালিকের লোকজন মাদ্রাসার পাশে থাকা কোরেশী বাড়ীর লোকের টং দোকান লুটপাট ও ভাংচুর করে কোরেশী বাড়ীর মধ্যে থাকা রাইস মিল ও ধানের গুদামে হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে কোরেশী বাড়ীর ভেতরে হামলা চালায়। মহিলা, শিশু ও নিজের প্রাণ রর্ক্ষাতে তখন জাবেদ কোরেশী লাইন্সেসকৃত বন্দুক দিয়ে এলোপাতারি গুলি চালায়।এই সংঘর্ষে প্রায় ৬৫-৭০ লোক আহত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক সালিশী ব্যক্তি জানান, প্রায় ৬৫ বছর পূর্বে মাওলানা আব্দুস সালাম (কুমিল্লা) তিনি সুলফী মোল্লা নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। মূলত তিনি একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন। তখন জাবেদ কোরেশীর দাদা উমরা মিয়া কোরেশী ও মৌলভী আব্দুস সাত্তার মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষে গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। গ্রামের সবার সম্মতিক্রমে হাজী তাহির আলীর কাছ থেকে এক কেদার ভূমি মাদ্রাসার জন্য ক্রয় করা হয়।

পরবর্তীতে উমরা মিয়া কোরেশীর ছেলে হাবিব আলম কোরেশী ও আশরাক আলম কোরেশী তাদের বাড়ীতে বাবার নামে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৩ সালে এলাকার বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন কুঠি মিয়ার মধ্যস্থতায় একটি রেজুলেশন করে হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি দারুল উলুম মাদ্রাসার সাথে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সেই রেজুলেশনকে তোয়াক্ষা না করে গ্রামের সহজ সরল মানুষদের বুঝাচ্ছে,কোরেশী পরিবার নিজেদের মত করে মাদ্রাসার নাম লিখে নিচ্ছে। পুরাতন রেজুলেশন থেকে জানা যায় জাবেদ কোরেশীর দাদা উমরা মিয়া কোরেশী বারবার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ও তার চাচা আশরাক আলম কোরেশী প্রায় ১৪ বৎসর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। বিগত ২বছর আগে কোরেশী পরিবারের অনুপস্থিতে আব্দুল মালিকের চাচাতো ভাই ফজল মিয়া সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই মাদ্রাসায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।তিনি তার ইচ্ছা মত ১৫ জন প্রবাসীকে আজীবন দাতা সদস্য করেন।সংঘর্ষের ঘটনার দিন,উনাদের কি অনুদানের ভিত্তিতে দাতা সদস্য করা হল তা জাবেদ আলম কোরেশী জানতে চাইলে আব্দুল মালিক পক্ষের ফয়ছল তেড়ে আসে, তখন জাবেদ কোরেশী তাহাকে চড় মারলে এখান থেকেই ঘটনার সুত্রপাত হয়।

মূলত ফয়ছল শ্রীধর পাশার স্থায়ী বাসিন্দা নয়। তাহার মূল বাড়ী ছিল এখতিয়ার পুর। ৫৫ থেকে ৬০ বৎসর পূর্বে চুরি ডাকাতির অপরাধে গ্রামবাসির হাতে প্রাণ হারায় তার দাদা আইন উল্লাহ। গ্রামবাসী চুরি ডাকাতির জন্য তাদের ঘরবাড়ী জ¦ালিয়ে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করলে কোরেশী গোত্রের আজাদ বক্স দরদী হয়ে ফয়ছল সহ তাহার পিতা আব্দুল গফুরকে শ্রীধরপাশা গ্রামে আশ্রয় প্রদান করেন। পরবর্তিতে আব্দুল গফুর ও তার ছেলে ফয়ছল সুধখোর হিসাবে এলাকায় পরিচিতি পায়। বিভিন্ন সময় গরিব ও হিন্দুদের টাকা,ঘর বাড়ী সহ সম্পদ আত্মসাত করাই তাদের কাজ।

এদিকে গ্রামবাসীর বিভিন্ন লোকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সংর্ঘষের ঘটনায় নিহত নুর আলীর বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আমরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সে স্থানীয় শ্রীধরপাশা গ্রামের শশুর বাড়ীতে বসবাস করতো। গ্রামবাসী নিহত নূর আলীর প্রকৃত খুনিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.