অক্টোবর ৩১, ২০২০

কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে জালালপুর গ্রামের বসতবাড়ি বিলিন

১ min read

নিজস্ব প্রতিবেদক::

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী ভাঙ্গন একটি বাৎসরিক ঘটনা। ছোট বড় নদীগুলোতে সাড়া বছর ভাঙ্গন লেগেই থাকে। প্রবাহমান কড়ালগ্রাসী কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ জনবহুল জালালপুর গ্রাম ।

এ গ্রামের মসজিদ, মাদ্রাসা, শতাধিক বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, বনজসম্পদ সহ আবাদি জমি নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। কুশিয়ারা নদীর জন্মলগ্ন থেকেই ভাঙ্গনে বৃহত্তর জালালপুর গ্রামটির মানচিত্র পাল্টে যায়। নদী ভাঙ্গনে জালালপুর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সোনাতলা, কদমতলা, পূর্ব জালালপুর ও ছৈদপুর নামে এই চারটি গ্রাম নামকরণ হয়। ভাঙ্গনে মূলগ্রাম থেকে শত শত পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও জালালপুর গ্রামে দেড়হাজার এর বেশী ভোটার রয়েছেন। এছাড়াও অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসতিস্থাপন করেন।

কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে জালালপুরের শুধু বসতবাড়িই বিলিন হয়নি, পোরানো অট্রালিকা সহ শতবছরের নানা ঐতিয্য বিলিন হয়েছে। প্রায় ২০ বছর পূর্বে পাইলগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জালালপুর গ্রামের মরহুম ছাইম উদ্দিনের বিশাল দালানঘরটি নদী গর্ভে বিলিন হয়। পূর্ব জালালপুরের মরহুম হাজী রজব আলী ও আছাব আলীর বসতবাড়ি দুই বার করে নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়।

পূর্বজালালপুর গ্রামের আছাব আলীর বসত বাড়ী এলাকায় ভাঙ্গাবাড়ি হিসেবে পরিচিত । জলালপুর গ্রামের আব্দুল হক মাস্টারের বাড়িটি কুশিয়ারার ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে এবং বসতবাড়ি হারা অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গৃহহীন এসব পরিবার গুলোর জায়গাজমি না থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে পূর্বজালালপুরে স্থাপিত ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিও আগ্রাসী কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছ ।

এ গ্রামের উপর দিয়ে যাওয়া জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কটি এছর নদী ভাঙ্গনের শিকার হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়। বর্তমানে উপজেলার বৃহত্তর কাতিয়া গ্রামটিও নদী ভাঙ্গনের হুমকির সম্মুখীন। কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় নদীর তীরবর্তী জালালপুর গ্রামের প্রতিটি বসতবাড়ি নদী ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি এলাকাবাসী জোর দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.