ডিসেম্বর ৪, ২০২০

দিরাইয়ে মুন্নী খুন : ছুরি বুকে নিয়ে মায়ের কাছে বাঁচার আকুতি !!

১ min read

সংবাদ পড়ুন ,দেশ বিদেশের খবর জানুন এবং শেয়ার করে অন্য কে পড়ার এবং জানার সুযোগ করে দিন !!

দিরাই প্রতিনিধি :শনিবার রাত ৮টা। দিরাই পৌর শহরের আনোয়ারপুর এলাকার দ্বিতল বাড়ির সামনের রুমে ঢুকে বখাটে এহিয়া সরদার (২৩) আচমকা বুকে ও পেটে ছুরি চালিয়ে খুন করে দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী হোমায়রা আক্তার মুন্নিকে। বুকে ছুরি নিয়ে মুন্নি ‘মা মা বাঁচাও’ বলে রিডিং রুম থেকে মায়ের রুমে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। মায়ের কাছেই এহিয়া সরদারের নাম বলে মুন্নী। মেয়ের এই অবস্থা দেখে চিৎকার দিয়ে ওঠেন মা রাহেলা বেগম। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায় মুন্নী। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছেন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে। জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছেন, প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এদিকে গতকাল বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চললে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার দুপুর ১২টা। দিরাই পৌর শহরের শ্যামারচর-দিরাই সড়কের উত্তরের রাস্তা ধরে প্রায় ৫শ গজ দূরে মাটির ছোট রাস্তার পশ্চিমধারে শাদারঙা দ্বিতল বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায় মানুষের ভিড়। এই সময় স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলছিলেন পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান। তিনি প্রতিবেশীদের নানা কথা জিজ্ঞেস করছিলেন। মর্মান্তিক মৃত্যুতে আফসোস করছিলেন সবাই। সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য দাবি জানাচ্ছিলেন পুলিশ সুপারের কাছে। পুলিশ সুপার এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে বখাটের গ্রেফতার ও শাস্তির আশ্বাস দিচ্ছিলেন।
কথা বলে জানা গেল, দ্বিতল এই বাড়িটি মুন্নীর নানার বাসা। তাদের গ্রামের বাড়ি নগদিপুর। বাবা হিফজুর রহমান ইতালী প্রবাসী। পড়ালেখার স্বার্থেই মা তাদের শহরে নিয়ে এসেছিলেন। এই বাসাতে তাদের পরিবারসহ ৫টি পরিবার থাকতো। উপরের তিন পরিবারের মধ্যে শনিবার মুন্নির পরিবার বাদে অন্য দুই পরিবার নিজেদের বাড়িতে ছিল। তাই বাড়িটি ছিল সুনসান। নিচের দুই পরিবারের লোকজনও এই সময় বাসায় ছিলনা। এই সুযোগেই বাসায় ঢুকে বখাটে এহিয়া সরদার এই হত্যাকা- ঘটায় বলে ধারণা প্রতিবেশী ও পুলিশের। তবে নিহত স্কুল ছাত্রী মুন্নীর পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন এহিয়া একা হত্যাকা- চালালেও তার সঙ্গে নিচে পাহারায় ছিল আরো ৪ যুবক। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হোমায়রা আক্তার মুন্নীর পরিবার, স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবম শ্রেণিতে ওঠার পরই উপজেলা সদরের সাকিতপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন সরদারের বখাটে পুত্র এহিয়া সরদারের কুনজরে পড়ে মুন্নী। রাস্তাঘাটে প্রকাশ্যে উত্ত্যক্ত করতো তাকে। প্রায় এক বছর আগেই মুন্নীর স্কুলে যাওয়া-আসা বন্ধ করে দিয়েছেন মা রাহেলা বেগম। গত নভেম্বরে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় মা তাকে স্কুলে নিয়ে আসতেন এবং যেতেন। গত ৫ মাস ধরে বাস তাকে বাসায় দু’জন শিক্ষক রেখে এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রাইভেট পড়াতেন মা। এহিয়ার কারণে অনেকটা অবরুদ্ধ জীবনযাপন করতো মুন্নী। কিন্তু এই অবরুদ্ধ জীবনও তাঁকে বাঁচাতে দেয়নি। নির্মমভাবে মরতে হলো এই মেধাবী ছাত্রীকে।
সরেজমিন মুন্নীর আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও স্কুলের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘরে অবরুদ্ধ জীবনযাপন করেও শান্তিতে ছিল না মুন্নী। বাসার পাশে গিয়ে প্রায়ই এহিয়া উত্ত্যক্ত করতো। হত্যা ও তুলে নেওয়ার হুমকি দিতো। প্রায় তিনমাস আগে র‌্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন মা রাহেলা বেগম। একাধিকবার তার বখাটেপনার বিচার দিয়েছেন পরিবারের কাছে। গত ২৬ অক্টোবর এ নিয়ে রাহেলা বেগম তার বাসায় শালিসও ডাকেন। শালিসে দিরাই উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর ইকবাল, বখাটে এহিয়ার দোলাভাই তোফাজ্জল হক চৌধুরী ও রাহেলা বেগমের আত্মীয়রা ছিলেন। শালিসে আর বখাটেপনা করবেনা বলে লিখিত মুচলেকা দেয় এহিয়া সরদার। মুচলেকার কপি গতকাল রোববার পুলিশকে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দুই দিন আগে বাসার পাশে গিয়ে এহিয়া সরদার তার হাত কেটে মুন্নীকে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাকে হত্যা করে সেও আত্মহত্যা করবে বলে বলে হুমকি দিয়ে আসে। এই হুমকি প্রতিবেশীদের অনেকেই শুনেছেন। তবে খুনের পর পরিবারের লোকজন পুলিশকে এ ঘটনা জানালেও হুমকির বিষয়টি তখন পুলিশকে জানানো হয়নি।
প্রতিবেশীরা জানান, শালিসে মুচলেকা দেবার পরই বেপরোয়া হয়ে ওঠে এহিয়া। সে পথে-ঘাটে না পেয়ে বাসার আশপাশে এসে হুমকি ধমকি দিতো মুন্নীকে। বড় ক্ষতি করবে বলেও হুমকি দিতো। এরপর মুন্নীর মা রাহেলা বেগম এহিয়ার আত্মীয়-স্বজনকে বিষয়টি অবগত করে তাদের সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করার আকুতি জানান। কিন্তু পরিবারের লোকজনও বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, এই সময়ে এহিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে মুন্নীর নামে একটি আইডি করে। সেটা সে চালাতো। মৃত্যুর পর সে আইডিটিও ডিঅ্যাকটিভ বলে জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।
প্রতিবেশী সমতা বানু বলেন, শনিবার রাত ৮টার সময় আমরা হঠাৎ চিৎকার শুনি। চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে দেখি মুন্নীর মা কান্নাকাটি করছে। তার মেয়ের বুক ও পেটে তখন রক্ত ঝরছিল, ছটফট করছিল সে। আমিও চিৎকার করে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলি। তার মা জানায় তার মেয়েকে ছুরি চালিয়ে পালিয়েছে এহিয়া সরদার। তিনি বলেন, এসময় কেউ বাসায় ছিলনা। মুন্নির মা পাশের রুমে কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন বলে জানান সমতা বানু। ছুরি বুকে নিয়ে সে মায়ের রুমে গিয়ে মা মা বলে আকুতি জানিয়েছিল বলে জানান তিনি। তারপরই জ্ঞান হারায়।
এই সময় মুন্নীদের বাসার উল্টোদিকের আমন জমিনে ব্যাটমিন্টন খেলছিল মাহফুজ আহমেদসহ কয়েকজন যুবক। হঠাৎ চিৎকার শুনে তারা মুন্নীদের বাসায় এসে দেখে রক্তাক্ত মুন্নীকে। মা মেয়েকে ধরে কাঁদছিলেন। তারাও ধরাধরি করে হাসাপাতালে নিয়ে যায়। মাহফুজ বলেন, আমরা এ সময় মুন্নীর মায়ের কাছ থেকে জানতে পারি তার মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়েছে এহিয়া। তবে এসময় আমরা রাস্তায় কাউকে পাইনি। রাতে সিলেট নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান মুন্নী।
প্রতিবেশী নবম শ্রেণির ছাত্র আফজল হোসেন বলেন, আপা এক বছর ধরে ঘর থেকে বের হতোনা। গতকাল তিনি নিজের রুমে পড়ায় মগ্ন ছিলেন। তার মা ওই সময় পাশের রুমে কোরআন পড়ছিলেন। আমরা হঠাৎ চিল্লাচিল্লি শুনে এসে দেখি তিনি ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে ছটফট করছেন। তার মা ও ছোট ভাই পাশে কাঁদছিল। পরে সবাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তিনি বলেন, খুব ভালো ছিলেন মুন্নী আপা। ছোটদের খুব ¯েœহ করতেন।
মুন্নীর সহপাঠী রুবাইয়া আক্তার বলেন, মুন্নী মেধাবী ছাত্রী ছিল। পঞ্চম শ্রেণিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল। অষ্টম শ্রেণিতে অল্পের জন্য জিপিএ-৫ পায়নি। তিনি বলেন, এক বছর ধরে মুন্নী স্কুলে আসতোনা এহিয়ার কারণে। গত বৃহস্পতিবার মুন্নী আমাকে ফোন করে জানায়, আমিতো আসতে পারিনা, কোথাও যেতে পারিনা, তুই পারলে একবার দেখতে আসিস। একা একা ঘরে বসে থাকতে খুব খারাপ লাগে। রোবাইয়া বলেন, গত নির্বাচনী পরীক্ষায় আন্টি তাকে স্কুলে নিয়ে আসতেন এবং যেতেন। মুন্নী ও তার মা সব সময় ভয়ে থাকতেন।
রোবাইয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বান্ধবীকে হত্যার পর অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা লিখছে। তিনি বলেন, খুব ভালো মেয়ে ছিল সে। ওই ছেলের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক ছিলনা। বরং সবসময় তার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে বিচার দিতো। তার ভয়ে সে সদা তটস্থ থাকতো। তিনি বলেন, যে আমার বান্ধবীকে এভাবে হত্যা করেছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই আমরা। কোন মেয়ে যেন এভাবে বখাটেদের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ না দেয়-জানান রোবাইয়া।
এদিকে এহিয়া সরদারের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সে সাকিতপুর গ্রামের কওমী মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো। কয়েক বছর আগে মাদ্রাসা থেকে মোবাইল চুরির কারণে সে বহিষ্কৃত হয়। এরপর গ্রামের মসজিদের দানবাক্সের টাকাও চুরি করে। এ ঘটনায় এলাকার সালিসে তার বাবা ক্ষমা চান। তিনি ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। দিরাই শহরে সে একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ করতো। গত অক্টোবর মাসে মুচলেকা দেওয়ার পর সে এলাকা ছেড়ে সিলেট চলে যায়। তবে সিলেট থেকেই মোবাইলে হুমকি ধমকি দিতো। দুইদিন আগে এসে নিজের হাত কেটে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে মুন্নীকেও হত্যার হুমকি দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
সাকিতপুর গ্রামের নূরুন নাহার বেগম বলেন, আমরা শুনেছি এহিয়া মাদ্রাসায় পড়ার সময় মোবাইল চুরি করে। মসজিদের দানবাক্সের টাকাও চুরি করেছিল। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। এ কারণে তার বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল বলে আমরা জেনেছি।
দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর ইকবাল বলেন, এহিয়া সরদারের বখাটেপনার কারণে আমাদের ছাত্রী মুন্নীসহ তার পরিবার ভয়ে থাকতো। তারা র‌্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছিল। প্রায় দুইমাস আগে মুচলেকা দিয়ে বলেছিল সে আর বখাটেপনা করবেনা। এখন সে আমাদের মেধাবী ছাত্রীটিকে মেরেই ফেলল। আমরা এ ঘটনায় এই বখাটের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে দিরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। তারা রোববার সকালে মুন্নী হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করে স্কুলের প্রবেশপথে ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছেন। আজ সোমবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।
স্কুলছাত্রী মুন্নী হত্যাকা-ের ঘটনায় রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহ মজুমদার, সহকারি পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ। তারা নিহতের স্বজন, সহপাঠী, প্রতিবেশী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি স্থানীয় পুলিশকে বখাটে এহিয়াকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে তাকে ধরার জন্য সব জায়গায় বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন।
দিরাই থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, বখাটে এহিয়ার সঙ্গে আর কেউ ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করতে নানাস্থানে অভিযান চালাচ্ছি আমরা। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, স্কুল ছাত্রীর পেট ও বুকের আঘাত গভীর ছিল। ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার বুকে ছুরিটি আটকে ছিল। তিনি বলেন রোববার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান বলেন, একজন মেধাবী ছাত্রীর বখাটের হাতে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কারো কাম্য নয়। বখাটেকে ধরতে আমরা অভিযান শুরু করে দিয়েছি। প্রতিটি এলাকায় তাকে ধরার জন্য বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। খুনের ঘটনায় তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, এই ঘটনা এতদূর যেতোনা, যদি পরিবারের লোকজন সচেতন থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে বখাটেপনা করলেও পরিবার পুলিশের কাছে যায়নি। তিনি অভিভাবকদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.