নভেম্বর ৩০, ২০২০

জগন্নাথপুরে হিজড়াদের দৌরাত্ম্য ও চাাঁদাবাজীতে অতিষ্ঠ বরযাত্রী ও জনসাধারণ

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে হিজড়াদের দৌরাত্ম্য সম্প্রতি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উপজেলা ও পৌরসভা কেন্দ্রীক জগন্নাথপুর বাজার ও হাসপাতাল পয়েন্ট (শান্তিনগর বাজার) হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অসংখ্য যাত্রী সাধারণ ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বরযাত্রীগন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। অশালীন অাচরণ ও বিভিন্ন অপকৌশলে এরা অসহায় যাত্রী ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। প্রতিদিন সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বরযাত্রীগন বিপাকে পড়তে হয়।

বিশেষ করে বরযাত্রীকে ও বরের গাড়ীকে কেন্দ্র করে তারা চাঁদা আদায় করে। তাঁদেরকে টাকা না দিলে রাস্তা আটক করে দেয়। এমনকি বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে দুর্ব্যবহার এবং জোরপূর্বক টাকা অাদায় করে নিয়ে যায়। এতে অসহায় হয়ে মানসম্মানের ভয়ে টাকা দিয়ে ইজ্জত বাঁচিয়ে যান যাত্রীগন। মনের মধ্যে হাজারো ক্ষোভ থাকলেও যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে পৌর শহরের কেশবপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের বিয়ে ছিল। বরযাত্রী নিয়ে হাসপাতাল পয়েন্টে এলে হিজরারা বরযাত্রীর গাড়ীবহর আটকে রেখে
২হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের কথা মতো ১২শত টাকা প্রদান করেন বরপক্ষ। তখন তারা ৫হাজার টাকা দাবি করে বসে। আর টাকা না দিতে পারলে বরের গাড়ী যেতে দিবেনা হিজরা। নতুবা গাড়ী নিয়ে যেতে হলে তাদেরকে মেরে নিতে হবে বলে ঘোষনা দেয়। পরে বরপক্ষ ১৭শত টাকা দিলে বরপক্ষকে অশ্লীল ভাষা দিয়ে গালিগালাজ ও উলক্ষ হতে থাকে। দীর্ঘক্ষন গাড়ীবহর আটক থাকায় যানযট সৃষ্টি হলে অন্যান্য গাড়ীর যাত্রীগনসহ বাজার ব্যবসায়ীরা তাদের এসে বুঝানোর চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত হয় হিজরা বাহিনী। এপর্যায়ে তাদের রাস্তা থেকে সরে আসতে বললে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এতে কিছু হিজরা ও সাধারণ ব্যক্তিগন আহত হন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌরশহরের শহীদ মিনার এলাকার বাসিন্দা রুহেল আহমদ ফেসবুকে লিখেন, ওরা(হিজরা) এতো খারাপ না দেখলে বুঝতে পারবেনা। দেখবে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইবে না দিলে খারাপ ব্যবহার করে এদের ব্যবহার আমি নিজে দেখেছি। এদের সাবধান করতে হবে। না হয় মানসম্মান নিয়ে বাঁচা যাবেনা।

এছার সুনামগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী জুয়েল মিয়া তালুকদার হিজরাদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, লম্পট,খুনিয়া ও ডাকাত প্রকৃতির মানুষ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেন। তাদের খাঁচায় বা চৌদ্দ শিকের ভিতরে বন্দী করে রাখা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

অপর মামুর নামের একব্যক্তি ফেসবুকে মন্তব্য করে তিনি লিখেন, এরা অবহেলিত ভালো কথা, সাহায্য চাইবে তাও ভালো। কিন্তু তাদের সাহায্য চাওয়ার স্টাইল ফিল্মের ব্ল্যাক মেলিংকেও হার মানায়। বিশেষ করে এই জগন্নাথপুরের হিজড়ারা কারও বিবাহের দিনের দূর্বলতাকে পূজি করে বরের গাড়ী আটক করে নগ্ন হয়ে মহিলাদের সামনে উল্লাসে ফেটে পড়ে যা রীতিমত খুবই লজ্জার বিশেষ। এই দিনটির জন্য কারন এইদিন অসংখ্য মহিলারাও থাকেন বরের সাথে যাত্রী হয়ে। বরযাত্রীরা সম্মান বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে এদেরকে তাদের চাঁদা দিতে হয়। আমি বলবো এরা দূর্ধর্ষ চাঁদাবাজ। আমার এক নিকট আত্মীয়কেও ওদের কবলে পড়তে হয়েছে কিছুদিন আগে । এই হিজড়াদের বিরুদ্ধে বিহিত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Copyright © notunalonews24.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.